ডেস্ক নিউজ : মানবজীবনে কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। জীবন চলার বাঁকে বাঁকে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় আমাদের থেকে ভুল প্রকাশ হয়। এসব ভুল সংশোধন করারও পদ্ধতি বলে গেছেন প্রিয় নবী (সা.)। তবে আমাদের এসব ভুলের মাঝে এমন কিছু ভুল আছে, যেগুলো ক্ষমার যোগ্য নয়। যা অত্যন্ত গর্হিত অন্যায়। আবার কিছু ভুল এমন আছে যে ভুল করা সত্ত্বেও তাকে আল্লাহ তাআলা প্রতিদান দেবেন। কোনো বিচারক যদি ইজতিহাদ করে কারো ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন অথচ তার বিচারকার্য সম্পাদন করার যোগ্যতা নেই, তাহলে এমন ব্যক্তির ভুল ক্ষমাযোগ্য নয়। আর যদি কোনো বিচারক, যার বিচারকার্য করার যোগ্যতা আছে, তিনি যদি ভুল করেন, তাহলে তার জন্য আছে প্রতিদান।
আমর ইবনে আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, যদি কোনো বিচারক যথাযথ চিন্তা-গবেষণার পর সমাধান প্রদান করেন, অতঃপর তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেন, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ পুরস্কার। আর যদি তিনি চিন্তা-গবেষণা করে রায় প্রদান করেন তার পরও তিনি ভুল করেন, তবু তার জন্য রয়েছে একটি পুরস্কার। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৪৩৭৯)
সহিংসতা, সংঘাত, নির্লিপ্ততা, বিচ্ছিন্নতা ও বিভাজন—এসব ভয়াবহ অপরাধ দমনে সুষ্ঠু বিচারের বিকল্প নেই। তা না হলে সমাজে বহুবিধ সংকট ও সমস্যা দেখা দেবে। সে জন্য মানুষের সুবিচার নিশ্চিত করার জন্য বিচারকদের আদেশ দিয়েছেন। অযোগ্য মানুষ যেন এ ক্ষেত্রে অনধিকারচর্চা না করে। কেউ যদি যোগ্যতা ছাড়াই কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়ে দেয় অথচ সে সিদ্ধান্ত দেওয়ার উপযুক্ত নয়, তাহলে তাদের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রিয় নবী (সা.)। জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা কোনো এক সফরে বের হলে আমাদের মধ্যকার একজনের মাথা পাথরের আঘাতে ফেটে যায়। ওই অবস্থায় তার স্বপ্নদোষ হয়। সে সাথিদের জিজ্ঞেস করল, তোমাদের জানা মতে আমার জন্য তায়াম্মুমের সুযোগ আছে? তারা বলল, যেহেতু তুমি পানি ব্যবহার করতে সক্ষম, তাই তোমার তায়াম্মুম করার সুযোগ নেই। অতএব সে গোসল করল। ফলে সে এই গোসলের কারণে মৃত্যুবরণ করল। আমরা নবী (সা.)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি জানালাম। তিনি বললেন, ‘এরা অন্যায়ভাবে তাকে হত্যা করেছে। আল্লাহ এদের ধ্বংস করুন। তাদের যখন (সমাধান) জানা ছিল না, তারা কেন জিজ্ঞেস করে তা জেনে নিল না। কারণ অজ্ঞতার প্রতিষেধক হচ্ছে জিজ্ঞেস করা। ওই লোকটির জন্য তায়াম্মুম করাই যথেষ্ট ছিল। আর জখমের স্থানে ব্যান্ডেজ করে তার ওপর মাসাহ করে শরীরের অন্যান্য স্থান ধুয়ে ফেললেই যথেষ্ট হতো।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৩৩৬)
অন্য এক হাদিসে এসেছে, বুরাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, কাজিরা তিন ধরনের হয়ে থাকে। দুই প্রকারের কাজি (বিচারক) হচ্ছে জাহান্নামি এবং এক প্রকার কাজি হচ্ছে জান্নাতি। জেনেশুনে যে ব্যক্তি (বিচারক) অন্যায় রায় প্রদান করে, সে হচ্ছে জাহান্নামি। সত্যকে সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধি না করেই যে লোক (বিচারক) মানুষের অধিকার নস্যাৎ করে, ওই ব্যক্তিও জাহান্নামি। আর যে ব্যক্তি ন্যায়সঙ্গতভাবে ফয়সালা প্রদান করে (বিচারক) সে-ও জান্নাতের অধিবাসী। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ১৩২২)
কিউএনবি/আয়শা/০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩/বিকাল ৩:৪৮