জসীম উদ্দিন জয়নাল,পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি : খাগড়াছড়ির গুইমারায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ‘দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচি-২০২৬’ এর আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভূক্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরাধীন “অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)” প্রকল্পের আওতায় গুইমারার তৈইমাতাই ও পিলাক খালপুনঃখনন কর্মসূচির ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেল খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও ২৯৮নং আসনের সাংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া এমপি।
বুধবার (২০ মে ২০২৬ইং) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে খাগড়াছড়ির গুইমারার তৈইমাতাই ও পিলাক খাল পুনঃখনন উদ্বোধনী অনুষ্টানে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিসকাতুল তামান্না এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও ২৯৮নং আসনের সাংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া এমপি দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেনন।
এসময় খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জাকিয়া জিনাত বিথী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছার, জেলা বিএনপির যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক এড.আব্দুল মালেক মিন্টু, গুইমারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. ইশতিয়াক আহমেদ, গুইমারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম সোহাগ, মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি শাহ জালাল কাজল, মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো.বদিউল আলম মজুমদার, সহ-সভাপতি নারায়ণ ত্রিপুরা, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান সহ গুইমারা উপজেলা বিএনপির সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
তৈইমাতাই ও পিলাক খালের মোট ৯.১ কিলোমিটার খনন কাজ পরিচালিত হবে। এই প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।এর মধ্যে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পিলাক খাল পুনঃখনন প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এই খালে ৪১৬ জন শ্রমিক কাজ করবেন। অন্যদিকে, ৪.১ কিলোমিটার দীর্ঘ তৈইমাতাই খাল পুনঃখনন প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং এতে ৩৫৭ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকবেন। প্রকল্পে কর্মরত প্রতি শ্রমিক দৈনিক ৫০০ টাকা হারে মজুরি পাবেন।
গুইমারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. ইশতিয়াক আহমেদ জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সূচিত খাল খনন কর্মসূচিকে পুনরায় দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গুইমারা উপজেলার দুটি খাল তৈইমাতাই ও পিলাক পুনঃখনন কাজ শেষ হলে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, যা স্থানীয় মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি ও কৃষিকাজে আমূল পরিবর্তন হবে।
গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিসকাতুল তামান্না বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কৃষি বিপ্লব ও জলাবদ্ধতা নিরসনে এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে অত্র অঞ্চলের কৃষকদের সেচ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে এবং স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে। আমরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন করতে পারবো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খাল পুনঃখননের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের অংশ হিসেবে খালের দুই পাড়ে ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছ রোপণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া খনন কাজ সম্পন্ন হলে হালদা নদীর সালদা অংশে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা সমস্যারও স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও ২৯৮নং আসনের সাংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া এমপি, বলেন, “খাল দুটি পুনঃখননের ফলে বর্ষা মৌসুমে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা সহজে সেচ সুবিধা পাবেন। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও কৃষি উন্নয়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। গুইমারা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে। এলাকার কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
কিউএনবি/আয়শা/ ২০ মে ২০২৬,/দুপুর ১২:৩০