মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন

অবহেলিত ফুলবাড়ী রেলস্টেশন আধুনিকায়ন ও আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন॥

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
  • ৯১ Time View

মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি : অবহেলিত ফুলবাড়ী রেলস্টেশন আধুনিকায়ন ও আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন, দাবি না মানলে রেলপথ অবরোধের ঘোষণা দেন ফুলবাড়ী উপজেলার সর্ব স্তরের জনগণ। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী রেলস্টেশনের নতুন ভবন নির্মাণ, স্টেশন আধুনিকায়ন এবং আন্তঃনগর দুটি ট্রেনড়পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ।

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পশ্চিমঅঞ্চল রেল কর্তৃপক্ষ কোন কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে রেলপথ অবরোধসহ স্টেশন ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার সকাল ১০টায় উত্তর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ফুলবাড়ী রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে “ফুলবাড়ী উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ” এ ব্যানারে মানববন্ধন করেন। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের উত্তর অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন হওয়া সত্ত্বেও ফুলবাড়ী দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। উত্তর অঞ্চলের বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশন আধুনিকায়ন হলেও ফুলবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনটি এখন পর্যন্ত অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এ স্টেশন ব্যবহার করলেও এখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। বর্তমান স্টেশন ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং যাত্রীসেবার মানও অত্যন্ত নিম্নমানের। এই ভবনটি বৃট্রিশ আমলের করা। ছাদ চুয়ে পানি পড়ছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

ষ্টেশনের যাত্রী ছাউনিটি নি¤œ মানের হওয়ায় এখন জ্বরাজিন্ন অবস্থা। পূর্বদিকে প্লাটফর্মে যাত্রী ছাউনি নেই। সেখানে যাত্রীরা রৌদ বৃষ্টির মধ্যে দাড়িয়ে থেকে রেল ক্রোসিং এর সমং অন্য গাড়ীতে ওঠেন। এ সব নানা সমস্যায় ফুলবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনটি সংস্কার করা প্রয়োজন। এখানে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি প্রকল্প, পল্লীবিদ্যুৎ কেন্দ্র, ২৯ বিজিবির সদরদপ্তর ও দিনাজপুর থেকে ফুলবাড়ী রেলওয়ে স্ট্রেশন পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা এসব থাকার সত্তেও এখানে কোন উন্নয়ন নেই। শতশত যাত্রী রাজাধানী সহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি ফুলবাড়ী শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল, ফুলবাড়ী ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যসচিব মানিক মন্ডল, ফুলবাড়ী সম্মিলিত নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক হামিদুল হক, গণসংহতি আন্দোলন ফুলবাড়ী শাখার সদস্যসচিব আব্দুল মোত্তালিব পাপ্পু, এনসিপির দিনাজপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব ইমরান চৌধুরী নিশাদ, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন ফুলবাড়ী শাখার সভাপতি রবিউল ইসলাম ও মোতালেব হোসেন মহররমসহ স্থানীয় নেতারা।

বক্তারা বলেন, দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি পঞ্চগড় এক্সপ্রেস এবং কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে এ দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা আরও জানান, আগামী ১৭ মে রেলমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে। এরপরও দাবি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে আগামী দিনে রেলপথ অবরোধসহ ফুলবাড়ী রেলস্টেশন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।

৮দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ফুলবাড়ী রেল স্টেশনের আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন নতুন ভবন নির্মাণ করা, রেলস্টেশনের প্লাটফর্ম সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা, যাত্রীদের নিরাপদে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত আলো, ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ ও বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, রেল স্টেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত অফিস কক্ষ নির্মাণ, বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের ফুলবাড়ীর আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা, আন্তঃনগর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের ফুলবাড়ী রেলস্টেশনে যাত্রা বিরতির ব্যবস্থা করা, স্টেশনে আধুনিক টিকিটিং ব্যবস্থা, ডিজিটাল তথ্যসেবা ও নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ভবিষ্যতে ফুলবাড়ী রেলস্টেশনকে উত্তরাঞ্চলের একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক রেল হাবে উন্নীত করার উদ্যোগে গ্রহণ করা।

স্থানীয়রা জানান, ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি, মধ্যপাড়া পাথরখনি ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ এই স্টেশন ব্যবহার করেন। পাশাপাশি পার্বতীপুর ও নবাবগঞ্জের কিছু এলাকার যাত্রীরাও ফুলবাড়ী স্টেশনের ওপর নির্ভরশীল। তবে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনটি অবহেলায় পড়ে আছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের ভাষ্য, প্ল্যাটফর্মে পর্যাপ্ত শেড না থাকায় বর্ষাকালে যাত্রীদের বৃষ্টিতে ভিজে ট্রেনে উঠতে হয়।

এছাড়া আসনসংখ্যা সীমিত হওয়ায় এ স্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি বাড়ানো গেলে রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। স্টেশন মাস্টার জানান, এ স্টেশন দিয়ে আপ ও ডাউন মিলিয়ে প্রতিদিন ২২টি আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি নেই। এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ অতিদ্রুত পদক্ষেপ নিতে রেলওয়ে মন্ত্রীর আসুহস্তক্ষেপ করেন

 

 

কিউএনবি/আয়শা/ ১৭ মে ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৪৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit