বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম

অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ২৯ শতাংশ বেড়ে ৩৮২ কোটি ডলার

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৬ Time View

ডেস্ক নিউজ : চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেড়ে ৩৮২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্ট সময়ে আমদানি ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২২০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে রপ্তানি আয় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮৩৮ কোটি ডলার।

বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও এ সময়ে দেশের চলতি হিসাবের উদ্বৃত্ত তিন গুণের বেশি বেড়ে ৫৯ কোটি ৯০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ১৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। মূলত প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণে চলতি হিসাবে এ উন্নতি হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে প্রবাসী আয় প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়ে ৫৮৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট শেষে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৭৩৫ কোটি ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৪৪ কোটি ডলার, যা দিয়ে প্রায় ৫ দশমিক ২ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয়ের বড় উল্লম্ফন এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বেশি খরচ।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ২৪৯ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১২৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে আমদানি ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, সামগ্রিক আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ ছিল জ্বালানি তেল আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়া।

তিনি বলেন, “পেট্রোলিয়াম আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি ১১৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আমদানি ব্যয় ১২ শতাংশ বাড়ার পেছনে এটাই মূল কারণ। তাছাড়া ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানির জন্য আমদানি ব্যয় বাড়েনি। ব্যালেন্স অব পেমেন্টে কিছুটা চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”

এদিকে, এ সময়ে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৭৪৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চলতি হিসাবের উদ্বৃত্ত বাড়লেও আর্থিক হিসাবে অর্থের বহিঃপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ওপর চাপ কমেনি।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রপ্তানির তুলনায় আমদানি দ্রুত বাড়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। অন্যদিকে প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণে চলতি হিসাবের উদ্বৃত্ত বেড়েছে। তিনি বলেন, “তবে আর্থিক হিসাবে অর্থের বহিঃপ্রবাহ আরও বেড়েছে। ফলে এ হিসাবের ঘাটতিও বেড়েছে।”

জাহিদ হোসেন বলেন, আর্থিক হিসাবের ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যের (ব্যালান্স অব পেমেন্টস) ঘাটতিও বেড়েছে। এর পেছনে মূলত মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণের অর্থছাড় ৬১ শতাংশ কমে যাওয়া এবং ট্রেড ক্রেডিটে ঋণাত্মক অবস্থানকে দায়ী করেন তিনি।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণের অর্থছাড় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ২৯ কোটি ১০ লাখ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে ঋণের আসল পরিশোধ হয়েছে ৫৭ কোটি ২০ লাখ ডলার।

এ সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি অর্থের ব্যবহারও কমেছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বই এর প্রধান কারণ কি না, বিদ্যমান তথ্য থেকে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রকল্পের কাজ, অনুমোদন, দরপত্র ও ক্রয়প্রক্রিয়ায় বিলম্বের পাশাপাশি কিছু ঋণের সঙ্গে যুক্ত শর্ত পূরণ না হলেও প্রকল্পে বিদেশি অর্থের ব্যবহার কমতে পারে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, সরকারের উচিত প্রতিটি উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে বিলম্বিত প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করে সুনির্দিষ্ট প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা এবং দ্রুত সেগুলো সমাধান করা। একই সঙ্গে প্রকল্পের অগ্রগতি ও অর্থছাড়ের তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা প্রয়োজন।

রপ্তানি আয় বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বৈধ পথে আরও বেশি প্রবাসী আয় আনতে উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন ফাহমিদা খাতুন।

সৌজন্যে : দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

কিউএনবি/অনিমা/০৭ অক্টোবর ২০২৬,/দুপুর ১২:১৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit