একজন কন্যার বিদায় —
লোপা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজাত বিভাগ ইংরেজিতে পড়ত। অধিক মেধাবীরাই ইংরেজিতে পড়ার সুযোগ পায়। ৮০ এর দশকে প্রানোচ্ছল এক তরুণী ছিল লোপা।
আরেক দিকে একই সময়ে ফুটবলের জগতে বাংলাদেশে একজন নক্ষত্র ছিল কায়সার হামিদ। ডিফেন্সে চীনের প্রাচীর হয়ে রক্ষণ ভাগকেকেই শুধু সুরক্ষিত রাখেনি। ডিফেন্স থেকে মিডফিল্ড ভেদ করে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে টপাটপ বল ঢুকিয়ে দিয়ে দিয়ে ঢাকা স্টেডিয়ামে ঝড় সৃষ্টি করত কায়সার হামিদ। দীর্ঘদেহী কায়সার হামিদ মাঠে প্রবেশ করলে দর্শকদের মাঝে এক শিহরণ সৃষ্টি করত।
জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা কায়সার হামিদ পড়াশোনা করত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে। এই মাহেন্দ্রক্ষণে কায়সার হামিদ বিয়ে করল লোপাকে। ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী লোপা হয়ে গেল লোপা কায়সার।
লোপা আমাকে শ্রদ্ধা করত। বড় ভাই হিসাবে মান্য করত। মোহামেডানের কায়সার হামিদ যেদিন আবাহনীকে গোল দিত, লোপা সেদিন ফোন করে উচ্ছাসময় কণ্ঠে বলত, ভাইয়া ওর গোল দেয়াটা দেখেছেন ?
এরপরে ওদের ঘর আলো ওদের সন্তানেরা এলো। আনন্দ আর সুখের মাঝেই কারিনার জন্ম। লোপা ও কায়সারের চোখের মনি এই কারিনা কায়সার মায়ের হাত ধরে ইস্টার্ন প্লাজায় আসতো। আমার বাসা ইস্টার্ন প্লাজার সাথেই। ওরা আসলে দেখা হতো। আমি কারিনার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করতাম।
কারিনা কায়সার চলে গেল না ফেরার দেশে। অকালেই একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটল। গতকাল রাতে খবরটা পেয়ে মনটা প্রচন্ড খারাপ হয়ে পড়ল। চোখের সময় জন্ম নেয়া এই মেয়েটি চলে গেল অকালেই।
মৃত্য মানুষকে কাঁদায়। কারিনা কায়সারের মৃত্য শুধু তার পরিবারকেই নয়, অনেককে কাঁদিয়েছে। আমাকেও কাঁদিয়েছে।
আমি আমার হাতের দিকে তাকিয়ে থাকি। এই হাতের আঙুলে শিশু কারিনার রেশমি চুল বিনি কাটত। এই হাতের আঙ্গুল গুলো একদা যে রেশমি চুলে হাত বুলাতো, সেই ঝাঁকড়া চুলের মেয়েটি আর নেই। দেয়ালে টাঙানো ছবিতে পরিণত হয়েছে।
আমি কারিনা কায়সারের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আল্লাহ তাকে বেহেস্ত নসিব করুক। আমিন !
লেখকঃ লুৎফর রহমান একজন রাজনীতিবিদ ও লেখক। তিনি নিয়মিত লেখালেখির পাশাপাশি ইলেক্ট্রনিক নিউজ মিডিয়ার সম্পাদক ও প্রকাশক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র লুৎফর রহমান ৮০ এর দশকের স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতে চারটি রাজনৈতিক উপন্যাস লিখেছেন, যা দেশ বিদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় জীবনের খন্ডচিত্র এঁকে তিনি এখন ব্যাপক পরিচিত পাঠক মহলে। গঠনমূলক ও ইতিবাচক লেখনীতে তিনি এক নতুন মাত্রা সংযোজন করতে সক্ষম হয়েছেন।
কিউএনবি/বিপুল/১6.০5.২০২৬/দুপুর ১২.৫৫