ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রতি সারাদেশে একটি বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। সংসদ মানে পাতানো নির্বাচনের সংসদ নয়, সংসদ মানে সাজানো বিরোধীদল নয়। এ বিষয়টি সর্বশেষ অনুষ্ঠিত সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনমনে আস্থা তৈরী করতে সক্ষম হয়েছে। পাতানো খেলা যেমন দর্শক টানেনা তেমনি ভোটারবিহীন সংসদ অধিবেশনের প্রতি জনগণের অনাগ্রহ থাকবে তা বলা বাহুল্য মাত্র।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মানুষ দেখেছে একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান এর নান্দনিকতাময় উপস্থাপনা। চুলচেরা বিশ্লেষণ, তথ্য প্রমান,উপাত্ত দিয়ে সৃষ্ট এক কথা মালার ফুলঝুরি। হ্যা ,এই ফুলঝুরি ছুটেছে সালাহউদ্দিন আহমেদ এমপির মুখ থেকে।
অধিবেশন কক্ষের ট্রেজারি বেঞ্চ,অপজিশন বেঞ্চ,দর্শক গ্যালারিতে পিনপতন নিস্তব্ধতা তৈরী হয় যখন সালাহউদ্দিন আহমেদ কথা শুরু করেন। মাউথপিসের গোড়ায় থরে থরে সাজানো থাকে দলিল দস্তাবেজ। কথা বলার পাশাপাশি একটার পর একটা রেফারেন্স তুলে ধরেন তিনি। মধুর হাস্যরসের মাধ্যমে তাঁর জ্ঞানগর্ভ যুক্তি উপভোগ করেন দেশবাসী টিভির পর্দায়।
অদ্ভুত সাজানো সে কথামালা। রাষ্ট্রের সবচেয়ে স্পর্শকাতর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ যে পুরোদস্তুর প্রস্তুতি নিয়েই অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন তা তাঁর বক্তব্যের নিগূঢ়তায় প্রমানীত।
কথা বলা যদি একটি শিল্প হয় তাহলে সেই শিল্পের পুরোধা হয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ এমপি যখন তাঁর বক্তব্য শুরু করেন তখন অধিবেশন কক্ষে নড়েচড়ে বসেন সকল এমপিগণ। প্রাজ্ঞময় বক্তব্যের মাঝেই টেবিল চাপড়ানোর মুহুর্মুহু শব্দে সংসদ যেন কেঁপে উঠে।
সংবিধান, আইনের ধারা যেন ঠোঁটের মাঝে রেডি থাকে সালাহউদ্দিন আহমেদ এর। নবীন এমপিগণ কিছু শেখার প্রত্যাশায় পূর্ণ মনোনিবেশ করেন তাঁর বক্তব্যের প্রতি।
সংসদ অধিবেশনকে উপভোগ্য করার জন্যে অন্যতম কৃতিত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ এর। জনগণের এই আগ্রহ,ইচ্ছা অভিলাষ যদি অব্যাহত থাকে তাহলে পার্লামেন্ট হবে অর্থবহ। মানুষের হৃদয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে যে আবহ সৃষ্টি হয়েছে তা প্রবাহমান থাকলে এই সংসদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। জনমনে পার্লামেন্টকে আর কেউ রাবার স্ট্যাম্প মনে করবে না। দেশের কল্যানে সংসদ হবে একটি শক্তির আঁধার।
লেখকঃ লুৎফর রহমান একজন রাজনীতিবিদ ও লেখক। তিনি নিয়মিত লেখালেখির পাশাপাশি ইলেক্ট্রনিক নিউজ মিডিয়ার সম্পাদক ও প্রকাশক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র লুৎফর রহমান ৮০ এর দশকের স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতে চারটি রাজনৈতিক উপন্যাস লিখেছেন, যা দেশ বিদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় জীবনের খন্ডচিত্র এঁকে তিনি এখন ব্যাপক পরিচিত পাঠক মহলে। গঠনমূলক ও ইতিবাচক লেখনীতে তিনি এক নতুন মাত্রা সংযোজন করতে সক্ষম হয়েছেন।
কিউএনবি/বিপুল/০৯.০৬.২০২৬রাত ১০.২৯