সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
‎লালমনিরহাটে জুয়া খেলায় নিষেধ করায় কলেজ শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও তীব্র নিন্দা বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জুলাই শহিদ দিবস পালিত হয়নি॥ দুর্গাপুরে নদী থেকে শাহীন নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার নওগাঁ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত দুর্গাপুরে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত নৌযান শুমারি-২০২৬ এর সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত পানির নিচের গ্যাস পাইপে লিকেজ, নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরে সরবরাহ বন্ধ আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে গাজা ইস্যুতে সুর পাল্টালেন নেতানিয়াহু বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত সরকারের কোর্টে দিল বিসিসিআই আশুলিয়ায় জাতীয়তাবাদী মোটর চালক দলের ১২৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও টেকসই নদীশাসনের প্রত্যয়, লালমনিরহাটে তিন মন্ত্রীর ব্যারাজ ও ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬
  • ৪৬ Time View

‎​‎জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : ‎​বাংলাদেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এবং তিস্তা নদীর তীরবর্তী তীব্র ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন সরকারের তিন উচ্চপদস্থ মন্ত্রী। ‎শুক্রবার (১৯ জুন) লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী এলাকায় অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প এলাকায় এই গুরুত্বপূর্ণ সফর অনুষ্ঠিত হয়।

‎​সফরে অংশ নেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এই হাই-প্রোফাইল সফরের পর স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষ ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং নদীশাসন কার্যক্রমে নতুন গতি আসার জোরালো প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ‎​উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি ও জনজীবনের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প পরিদর্শনকালে মন্ত্রীরা প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা, সেচ কার্যক্রম, পানি ব্যবস্থাপনা এবং চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ঘুরে দেখেন।

‎​পরবর্তীতে ব্যারাজের অবসর হলরুমে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তারা। সভায় তিস্তা অববাহিকার নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীশাসন, সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় তিস্তা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, সেচ ব্যবস্থাপনা, পরিচালন কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন বা বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
‎​
‎তিস্তা ব্যারাজ শুধু একটি সাধারণ পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নয়, এটি সমগ্র উত্তরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে এক অভূতপূর্ব চালিকাশক্তি। একসময় খরা ও পানির সংকটে বিপর্যস্ত এই অঞ্চলে আজ তিস্তার সেচের পানি লক্ষাধিক হেক্টর জমিতে সবুজের সমারোহ সৃষ্টি করেছে। এক ফসলি জমি বহু ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে এবং কৃষকদের জীবনমানেও এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
‎​
‎​সফরের অংশ হিসেবে মন্ত্রীরা তিস্তা নদীর তীরবর্তী ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ও নদীপাড়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের নদীভাঙন সমস্যা, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারানোর দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে স্থায়ী নদীশাসনের জোর দাবি জানান। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই সফরের মাধ্যমে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত হবে এবং নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
‎​
‎​পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় মন্ত্রীবর্গের সাথে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান এবং লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য ‎ রোকন উদ্দিন বাবুল। ​প্রশাসনিক ও কারিগরি কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ​পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. একেএম. শাহাবুদ্দিন,‎​বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. এনায়েত উল্লাহ, ​অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা, নকশা ও গবেষণা) প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, ​রংপুর জোনের প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. সরফরাজ বান্দা, ‎​তিস্তা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান সহ ​লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

‎​মন্ত্রীদের এই গুরুত্বপূর্ণ সফর উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। মন্ত্রীদের সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল বলে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র নিশ্চিত করেছেন।
‎​
‎তিস্তা ব্যারাজ দেশের অন্যতম বৃহৎ ও সফল সেচ প্রকল্প। উত্তরাঞ্চলের কৃষি বিপ্লব, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর অবদান অপরিসীম। ফলে তিস্তা ব্যারাজ ও এর চারপাশের অববাহিকাকে শুধু একটি প্রকল্প নয়, বরং উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবন-জীবিকা ও ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ‎পরে সেখান থেকে তিস্তা সড়ক ও রেল পরিদর্শন শেষে সেতুর নিচে এক সমাবেশে যোগদেন তিন মন্ত্রী।

 

কিউএনবি/আয়শা/১৯ জুন ২০২৬,/রাত ১০:৫৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit