মোঃ খোরশেদ আলম বাবুল শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি : শরীয়তপুরে সরকারি দপ্তরের কাজে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ি এখন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারি দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে এসব গাড়ি দিয়ে পরিবারের সদস্যদের আনা-নেওয়া, বাজার করা, ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানসহ নানা কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।
বুধবার দুপুরে পালং তুলাসার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাদিয়া জেরিন, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (রেকর্ডরুম শাখা ও লাইব্রেরী শাখা) মেহেরা আফরোজ সুবর্ণা এবং সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইলোরা ইয়াসমিন তাদের সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে বাচ্চাদের স্কুলে আনা নেওয়া এবং ব্যাক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহার করছে। এতে একদিকে যেমন সরকারের জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রতিনিয়ত তাদের গাড়ি দুই বেলা স্কুলে তাদের বাচ্চা দিয়ে এবং নিয়ে যায়। তারা গাড়ির ইঞ্জিন চালু রেখে এসি ছেড়ে বসে থাকে এবং স্কুল ছুটি হলে বাচ্চা নিয়ে চলে যায়। এ ব্যাপারে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে যারা তারাই তাহার অপব্যবহার করছেন। তাই এসব গাড়ির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। তারা সরকারি গাড়ির অপব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারি ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানায়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কিছু অসাধু কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি গাড়িকে ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করছেন। তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মত দেন তারা। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের গাড়ির চালক মাসুদ বলেন, ইউএনও স্যারের মেয়ে স্কুলে পড়ে তাকে নিতে আসছি। মাঋে মাঋে তাকে নিতে আসি। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয় না।
কিউএনবি/আয়শা/ ১৬ মে ২০২৬,/রাত ১২:২৮