শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চাঁদ দেখা যায়নি, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ২৬ আগস্ট এম‌পির সুনাম নষ্টের পাঁয়তারা করছে আ.লীগ ও জামায়াতপন্থীরা: সম্রাট মোল্লা  মিয়ানমারে পাচার হচ্ছিল ১,৩৬০ বস্তা সিমেন্ট, গ্রেপ্তার ৩ নোয়াখালীতে অটোরিকশা চালককে ধরে নিয়ে গুলি সিলেটের রায়নগরে ট্রিপল খুনের রহস্য উদঘাটনে নতুন ইস্যু আলোচনায় নেত্রকোণার যুবলীগ নেতা বাপ্পার নেতৃত্বে ঝটিকা মিছিল ৭৬০ বস্তা সারসহ পাঁচ পাচারকারী আটক ঠিকানা বদলেও ৯ বছর পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার দেবীগঞ্জে শহীদ সাজু মিয়ার ২য় শাহাদাতবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত ও ন্যায়বিচারের দাবি ব্লাস্টের

ফেনীতে যুবদলে বিতর্কের ঝড়, অস্বস্তিতে বিএনপি

গিয়াস রনি নোয়াখালী প্রতিনিধি ।
  • Update Time : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬
  • ৬১ Time View

গিয়াস রনি নোয়াখালী প্রতিনিধি : ফেনীতে বিএনপির জন্য অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে উঠেছে যুবদলের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড। দলীয় কমিটিতে ছাত্রলীগ-যুবলীগ সংশ্লিষ্টদের স্থান দেওয়া, চাঁদাবাজি-দখলদারিত্বের অভিযোগ এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় কেন্দ্রীয় নেতারাও বিব্রত ও ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।

গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌরসভা যুবদলের সভাপতি একেএম জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী স্বাক্ষরিত বিভিন্ন ইউনিট কমিটি ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয় সমালোচনা। অভিযোগ ওঠে, এসব কমিটিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের পদ দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয় ২০১৭ সালের ৩ মে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা মামলার আসামি এনামুল হক সুজনকে ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করাকে কেন্দ্র করে। এর প্রতিবাদে ওই ওয়ার্ড কমিটির ৮ সদস্যের মধ্যে ৬ জনই পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পরে একের পর এক ইউনিটে পদত্যাগ শুরু হলে চাপের মুখে পৌর কমিটি বিলুপ্ত এবং আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবকে বহিষ্কার করা হয়। যদিও জেলা যুবদল সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করে, এনামুল হক সুজন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার সঙ্গে জড়িত নন।

পরবর্তীতে ৪ মে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে ফেনী জেলা যুবদলের কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্রীয় যুবদল। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। দলের অভ্যন্তরে অভিযোগ রয়েছে, যুবদলের বিভিন্ন ইউনিটে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সাবেক নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। যুবলীগের সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত রাকিবকে ১১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি, ছাত্র হত্যা মামলার আসামি নাদিমকে পদ দেওয়া এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির ঘটনায় ত্যাগী নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

এছাড়া জেলা যুবদলের সদস্য রিপুকে আহ্বায়কের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে কমিটিতে রাখা এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। একইভাবে বিভিন্ন ওয়ার্ডে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের পদ দেওয়ার অভিযোগে সংগঠনটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা।।

যুবলীগের সন্ত্রাসী মহিপালের ছাত্র-জনতা গণহত্যা মামলার আসামি নাহিয়ান চৌধুরীর ভাই শরীফ মাহমুদ চৌধুরী তাসরীপকে ১১নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়। নাহিয়ান ৮টি হত্যাসহ ১৬ মামলায় এক বছর কারাগারে আটক। ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান রুমন দায়িত্ব পান ওই ওয়ার্ডের যুবদলের সহ-সভাপতির। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে রাজনীতিতে এসে সরাসরি ১০নং ওয়ার্ডের যুবদলের সভাপতি হন জিসান।

এসব কারণে ত্যাগী নেতারা বলছেন ফেনী জেলা যুবদল হয়ে উঠেছে আওয়ামী পুনর্বাসন কেন্দ্র। অন্যদিকে, দাগনভূঞা, সোনাগাজী ও ছাগলনাইয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় যুবদলের নেতাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, চোরাচালান, ট্রাক চুরি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সদ্য স্থগিত হওয়া কমিটির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা আল ইমরান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেন, মিথ্যা মামলায় মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হয়ে ফেনী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত করা হয়েছে।

এছাড়া আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব মনছুর আহমদ ঢাকায় ব্যবসা করেন। সে সুবাদে তারা ঢাকাতেই বসবাস করেন। সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইমাম হোসেন পবির সম্প্রতি ট্রাক চুরির ঘটনায় বহিষ্কার হয়েছেন। আহ্বায়ক খুরশিদ আলম ভূঞার বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ। ২০১৭ সালে ছাগলনাইয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী জসিম উদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাহ উল হায়দার চৌধুরী ও তার ছোট ভাই পাঠান নগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জুয়েল চৌধুরীর স্ত্রীর সাথে শেয়ারে জমি ক্রয়ের রেজিস্টার্ড বায়না করার অভিযোগ রয়েছে।  

সম্প্রতি র‍্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্প ভারতীয় হোমিওপ্যাথি ওষুধসহ দুইজনকে আটক করে। আটক শাহ আলম সদ্য স্থগিত হওয়া জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ বেলাল হোসাইনের ভাই বলে জানা গেছে। এদিকে, স্থগিত কমিটির আহ্বায়ক নাছির খন্দকারের ছোট ভাই যুবলীগ নেতা এখলাছ উদ্দিন খন্দকারের বিরুদ্ধেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে, সদ্য স্থগিত হওয়া জেলা কমিটির আহ্বায়ক নাছির খন্দকারের ছোট ভাই যুবলীগ নেতা এখলাছ উদ্দিন খন্দকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারবিরোধী নানা প্রচারণা চালাচ্ছেন। এসব ঘটনায় ফেনীতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ফেনী জেলা যুবদল এখন আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, জেলা ও পৌর যুবদলের কমিটি গঠনের বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ করা হয়নি। এসব কমিটি কেন্দ্রীয় যুবদল অনুমোদন দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শেখ ফরিদ বাহার বলেন, আমরা কোনো কমিটি দিইনি, এমনকি এ বিষয়ে আগে থেকে অবগতও ছিলাম না। কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতিকে আমি  বলেছি, জেলা বিএনপির সঙ্গে পরামর্শ না করেই কমিটি দেওয়া হয়েছে। যেহেতু আপনারাই কমিটি দিয়েছেন। এখন আপানারা যা ভালো মনে করেন, তাই করেন। এ কমিটির দায়ভার আমরা নিতে পারব না।

কিউএনবি/আয়শা/ ১৬ মে ২০২৬,/রাত ১২:০৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit