রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ন

রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল পুলিশ

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
  • ৪৯ Time View

ডেস্কনিউজঃ রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, মূল ঘাতক স্বামীকে পালিয়ে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় দিতেই ভেতর থেকে ফ্ল্যাটের দরজা খোলেননি স্ত্রী স্বপ্না। স্বামী জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল তিনি দরজা খোলেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, রামিসার মা যখন দরজায় নক করছিলেন, তখন ভেতর থেকেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হচ্ছিল। মূল আসামি জাকির যেন পালাতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতেই স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ রাখেন। জাকির জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার পর স্বপ্না দরজা খোলেন। সে নিজে এই হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ধারণা, প্রতিবেশীর বিকৃত যৌনলালসার শিকার হয়েছিল শিশুটি। নির্যাতন বা রক্তক্ষরণের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়েই তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা ও হাত কেটে ফেলা হয়েছিল। তবে ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল রিপোর্টের পর পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার নাটোরের সিংড়া থানার নিমাকদমা চৌদ্দগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। নিহতের পরিবার মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থেকে এসে একই ভবনে বসবাস করছিল। ঘটনার পরপরই তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা প্রথমে মূল আসামির স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করে। পরে স্বপ্নার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছোরা এবং শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির যুগান্তরকে বলেন, পাশের ফ্ল্যাটেই থাকত ঘাতক মাদকাসক্ত সোহেল। দুই ফ্ল্যাটের মাঝখানে ফাঁকা জায়গা থেকে সোহেল শিশুটিকে টেনে রুমের মধ্যে নিয়ে যায়। পরে বাথরুমে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। আমাদের ধারণা ধর্ষণ করে শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে বুধবার আদালতে আসামিদের হাজির করে সোহেল রানার জবানবন্দি রেকর্ড এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ।

পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামি সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বুধবার (২০ মে) আসামিদের আদালতে হাজির করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক দুটি আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান।

আবেদনে বলা হয়, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যান। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান স্বজনেরা। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথাটি রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান তারা।

আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী মো. সোহেল রানা (৩০) রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এবং গলা কেটে হত্যা করেন। এছাড়া শিশুটির দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে মাথা বালতির মধ্যে রাখা হয়।

এরপর রুমের জানালার গ্রিল কেটে আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যান। পরে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে থানায় এনে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার কথা স্বীকার করেন।

কিউএনবি/বিপুল/২০.০৫.২০২৬/রাত ৮.০৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit