সজিব হোসেন ,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি : ভালবাসা আর ইচ্ছে যেখানে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। তখন সেখানে থাকেনা কোন ব্যবধান। আর এমনই একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগে প্রশংসায় ভাসছে নওগাঁ ভ’পেন্দ্র নাথ শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা। কিন্ডাগার্টেনের বিলাশ বহুল সুবিধার হাতছানিতে শহরের প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোয় ছাত্র-ছাত্রীরা ভর্তি হতে চায় না। যাঁদের একটু আর্থিক সুবিধা আছে তারা তাঁদের সন্তানদের কিন্ডাগার্টেনে ভর্তি করিয়ে দেন। নেহায়েত স্বল্প আয়ের মানুষের সন্তানরাই শহরের প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষা নিতে আসেন। কিন্তু একই এলাকায় বসবাস করে সেই শিশুরা যখন দেখে তাঁদের সমবয়সীরা স্কুল ড্রেস পড়ে পিঠে দামী ব্যাগ ঝুলিয়ে, পানির বোতল, আর টিফিন বক্্র নিয়ে কিন্ডাগার্টেনের ভ্যানে চরে অথবা বাবা-মা’র সাথে তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে তখন স্বাভাবিক ভাবেই দরীদ্র পরিবারের সন্তানদের মনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
নওগাঁ এসি ল্যান্ড অফিসের দেয়াল লাগোয়া ছোট্ট পরিসরে নওগাঁ ভুপেন্দ্রনাথ শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির অবস্থান। এই স্কুলটিতে দরিদ্র পরিবারের সন্তানরাই মূলত পড়তে আসে। কিন্তু তাদের ছিলনা কোন স্কুল ড্রেস। অনেকটা মলীন কাপড় পড়ে শিক্ষার্থিরা স্কুল আসছিল। এতে শিক্ষার্থিরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছিলনা। কেউ কেউ ক্লাশেই আসছিলনা। বিষয়টি অনুধাবন করেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিন্ধান্ত নেন তাঁরা ব্যক্তিগত ভাবে টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থিদের স্কুল ড্রেস গড়িয়ে দিবেন। অবশেষে টাকা জমা হলেও সংকুলান হচ্ছিলনা। এ অবস্থায় অপেক্ষাকৃত আর্থিক সংগতি আছে এমন এক অবিভাবক এগিয়ে এলেন। প্রায় একশত শিক্ষার্থিকে গড়িয়ে দেয়া হলো স্কুল ড্রেস। ড্রেসে দেয়া হলো লোগো। তবে শিক্ষার্থিরা বা তাদের অবিভাক যেনো মনে না করেন তাঁদের স্কুল ড্রেস দান করেছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। সেই কথা ভেবে ড্রেস প্রতি মাত্র একশত টাকা নেয়া হলো। ওই টাকাও পরবর্তিতে স্কুল ড্রেস তৈরীতে ব্যবহার কারা হবে।
শিক্ষার্থি সুদিপ্ত, সুদিপ্তা, রাখি, রুফাইদা, লাম ইয়া, রোহান, হিয়া, অনন্যা, প্রদীপ জানায় তাঁদের স্কুলের ম্যামরা অনেক ভাল। স্কুল ড্রেস কিনে দিয়েছেন। এখন এই ড্রেসে স্কুলে আসতে খুব ভাল লাগে।ভুপেন্দ্রনাথ শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপ্না রানী সাহা বলেন, আমাদের এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা শিপ্রা রানী, রত্না রানী, সঞ্জন কুমার, মুহতারিমা, সুমী রানী ও একজন অবিভাবক আর্থিক সহযোগিতা করায় শিক্ষার্থিদের স্কুল ড্রেস দেয়া সম্ভব হয়েছে। এখন শিক্ষাথিদের্র বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ বেড়ে গেছে।