বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৩ অপরাহ্ন

ঋণের শর্ত পর্যালোচনায় ঢাকায় আসছে আইএমএফ প্রতিনিধি দল

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫
  • ২৩৫ Time View

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশ ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ২৩৯ কোটি ডলার কিস্তির অর্থ পাবে। তবে, অর্থছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু করার আগে আইএমএফ একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে চলতি এপ্রিল মাসে। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হবে, ঋণ কার্যক্রমের আওতায় নির্ধারিত শর্তগুলো পর্যালোচনা করা। এই তহবিলের সাহায্যে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর আইএমএফের বড় কোনো দলের ঢাকায় এটি দ্বিতীয় সফর হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জানা গেছে, ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ ছাড়ের আগে বিভিন্ন শর্ত পালনের অগ্রগতি পর্যালোচনায় আইএমএফের একটি দল আগামী ৫ এপ্রিল ঢাকায় আসছে। দলটি ৬ এপ্রিল থেকে টানা দুই সপ্তাহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে। এ সফরে আইএমএফের দলটির সঙ্গে অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে ১৭ এপ্রিল প্রেস ব্রিফিং করবে সফররত আইএমএফের দল। দলটি প্রথম দিন ৬ এপ্রিল এবং শেষ দিন ১৭ এপ্রিল বৈঠক করবে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে।

২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফের সঙ্গে ঋণ কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর তিনটি কিস্তির অর্থ পেয়েছে বাংলাদেশ। আইএমএফের কাছ থেকে প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পায়। একই বছরের ডিসেম্বরে পেয়েছে দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। আর ২০২৪ সালের জুনে তৃতীয় কিস্তির ১১৫ কোটি ডলার পেয়েছে। তিন কিস্তিতে বাংলাদেশ প্রায় ২৩১ কোটি ডলার পেয়েছে। ঋণের অর্থছাড় বাকি আছে ২৩৯ কোটি ডলার। বিপত্তি দেখা দেয় চতুর্থ কিস্তির অর্থ ছাড়ের আগে। যদিও সরকার আশা করছে আগামী জুনে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ একসঙ্গে পাওয়া যাবে।

এদিকে সম্প্রতি অর্থনীতিবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইআরএফের সঙ্গে এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাজেট সহায়তার জন্যই আইএমএফ ঋণ লাগবে। এ কারণেই বাংলাদেশ সরকার ও আইএমএফ যৌথভাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত দুটি কিস্তি একসঙ্গে ছাড়ের বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইএমএফের ঋণের দুই কিস্তির অর্থ একসঙ্গে পেতে বাংলাদেশের সামনে মোটাদাগে তিনটি বাধা রয়েছে। এগুলো হলো মুদ্রা বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়তি রাজস্ব আদায় ও এনবিআরের রাজস্ব নীতি থেকে রাজস্ব প্রশাসনকে আলাদা করা।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইএমএফকে জানানো হয়েছে, এসব শর্ত বাস্তবায়ন করা হবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব নীতি থেকে রাজস্ব প্রশাসনকে আলাদা করার পদক্ষেপ ছাড়া বাকি দুটির বিষয়ে তেমন অগ্রগতি নেই।

তবে ক্রলিং পেগ পদ্ধতিতে বিনিময় হার নির্ধারণ করা হচ্ছে। যার কারণে হঠাৎ ডলারের দাম খুব বেশি বেড়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ পদ্ধতিতে ডলারের দাম ১২২ টাকায় স্থিতিশীল আছে।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মনে করেন, শর্তগুলো না পূরণ হলে আইএমএফের ঋণের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হতে পারে। তার মতে, যদিও বাংলাদেশ এখনও সঠিকভাবে রাজস্ব আদায় বাড়াতে পারেনি, তবে এই পরিস্থিতিতে বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দিলে পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে বিশেষভাবে, কারণ এর ফলে মূল্যস্ফীতি পুনরায় বৃদ্ধি পেতে পারে। এই বিষয়ে সরকার এবং আইএমএফ উভয়েরই বাস্তবতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

বাংলাদেশের জন্য এই ঋণ কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে আইএমএফের শর্ত পূরণের জন্য সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একদিকে, বৈদেশিক মুদ্রার ভারসাম্য রক্ষা এবং অন্যদিকে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয় সাধন করা সরকারের জন্য একটি কঠিন কাজ হতে পারে। তবুও, বাংলাদেশ সরকার আশা করছে যে, উভয় পক্ষের সহযোগিতায় এই ঋণ কর্মসূচি সফলভাবে চলতে থাকবে।

কিউএনবি/অনিমা/০১ এপ্রিল ২০২৫,/দুপুর ২:২৬

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit