বাদল আহাম্মদ খান ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : মানুষের পাশে থেকে, তাদের সাথে নিয়ে শতভাগ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে আমি মেয়র হয়েছি। পৌরবাসী আমাকে ভালোবাসে বলে মেয়র নির্বাচিত করেছে। আমার লক্ষ্যই হচ্ছে পৌরসভাকে একটি সুন্দর-পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তোলা। পৌরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য কাজ করে যেতে চাই। পৌরসভার নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করে একটি মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করতে চাই।
আখাউড়া পৌরসভাটিকে দেশের অন্যতম প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল পৌরসভায় রূপান্তরিত করার লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। যা জেলায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমি বিশ্বাস করি একজন মেয়র চাইলে একটি পৌরসভাকে বদলে দেয়া সম্ভব। বাংলাদেশ বুলেটিনের সাথে একান্ত স্বাক্ষাতকারে আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল এসব কথা বলেন। পরপর তিনবার বিপুল ভোটে আখাউড়া পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছে মোঃ তাকজিল খলিফা কাজল।১৯৯৯ সালের ১২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় ৮.৩৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভা ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এ পৌরসভার মোট জনসংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯১০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ হাজার ২৩১ জন ও নারী ভোটার ১৪ হাজার ৬৭৯ জন।
২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিজয়ী হন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. তাকজিল খলিফা কাজল। বিজয়ী হয়েই তিনি পৌরসভার ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪(কসবা আখাউড়া) সংসদ সদস্য আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক এমপির ঘনিষ্ঠভাজন হওয়ায় মেয়র মোঃ তাকজিল খলিফা কাজল। পৌরসভাটিকে তৃতীয় শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করেন। আইনমন্ত্রীর সহযোগিতায় আখাউড়া পৌরসভা বর্তমানে একটি মডেল পৌরসভায় পরিণত হয়েছে।
মেয়র মোঃ তাকজিল খলিফা কাজল বলেন, আমি পৌরসভায় দায়িত্ব নেওয়া পর থেকে বাংলাদেশ সরকারের আইন বিচার ও সংসদ বিষয় মন্ত্রী আনিসুল হকের দিকনির্দেশনায় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আখাউড়া পৌরসভাকে আধুনিক পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। ২১-২২-২৩ অর্থ বছরে পৌরসভার অভ্যন্তরে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতকরণে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫ কি: মি পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য ১ শ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি শোধনাগার নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে।
এ পৌরসভায় ১৪৭৩ জন বয়স্ক, ৩৪০ জন বিধবা ও ৭৫৩ জন প্রতিবন্ধীকে ভাতার কার্ড প্রদান করা হয়েছে। ঘরে বসে নাগরিক সুবিধা পেতে পৌরবাসীকে অনলাইন ভিত্তি তথ্য নিবন্ধন ও নাগরিকসেবা কার্ড প্রদান করা হবে। রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন খাতে নানা উন্নয়ন করা হচ্ছে। পৌরসভা বিভিন্ন সড়কে প্রায় ২ হাজার টি বাতি স্থাপন করে পৌর এলাকাকে আলোকিতকরণ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এ পৌরসভাকে আধুনিক ও ডিজিটাল হিসেবে গড়ে তুলতে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপদ জীবন যাত্রার নিশ্চিত করা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বাসযোগ্য মডেল পৌরসভা গড়াই আমার লক্ষ্য। আমি বাল্যবিবাহ, মাদক, জঙ্গি-সন্ত্রাস, দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে এ পৌরসভাকে ডিজিটাল পৌরসভা হিসেবে রূপান্তরে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়নে একজন কর্মী হিসেবে কাজ করছি। এজন্য পৌরসভার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।
কিউএনবি/অনিমা/১০.০৮.২০২২/সকাল ১০.৫৬