ডেস্কনিউজঃ অনবরত বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে দ্রুত বাড়ছে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি। নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় অসময়ে নদীপাড়ে বন্যার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও নদীপাড়ের মানুষজন। অসময়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে চরম দুর্ভোগ ও সমস্যায় পড়তে হবে নদী তীরবর্তী ও চর এলাকার লোকজন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গেল ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি ৪ সেন্টিমিটার বেড়ে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে ২৮.৩১ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছিল ২৮.২৭ মিটার। কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির বিপৎসীমা ২৯.৩১ মিটার।
তবে গেল ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার কমে কুড়িগ্রামের ব্রীজ পয়েন্টে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে ২২.৭৫ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছিল ২২.৮৫ মিটার। ব্রীজ পয়েন্টে ধরলা নদীর পানির বিপৎসীমা ২৬.০৫ মিটার। শুক্রবার সকাল ৯টায় তিস্তাপাড়ে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৩২ মিলি মিটার।
তিস্তা পাড়ের কৃষকরা জানায়, নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। ঈদের আগে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। চর এলাকা থেকে এখনো সবগুলো ফসল ঘরে তুলতে পারেননি। যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে আর উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসছে তাতে ঈদের আগে বন্যা হতে পারে। অসময়ে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিলে চরের কৃষকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তাপাড়ের গড্ডিমারী এলাকার কৃষক সিরাজ উদ্দিন বলেন, তিস্তা নদীর পানি হুহু করে বাড়ছে। শুক্রবার সকালে নদীর পানিতে নদীপাড়ের অনেক আবাদি জমি ডুবে গেছে। এখানো ঘরের ভেতর পানি প্রবশে করেনি। তবে ২-৩ দিনের মধ্যে তিস্তাপাড়ে বন্যা হওয়ার আশংকা রয়েছে। ‘মরা এখনো ধান, ভুট্টা রোদে শুকাতে পারিনি। খেত থেকে ফসল এনে পুঞ্জি করে রেখেছি। এখনই বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হবো।’
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, তিস্তা নদীর পানি দ্রুতই বাড়ছে। অনবরত বৃষ্টি আর উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসা অব্যাহত থাকলে আগামি ২-৩ দিনের মধ্যে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। আর এতে তিস্তাপাড়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
কিউএনবি/বিপুল/২২.০৫.২০২৬/সন্ধ্যা ৮.১০