শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন

ইসলামের দৃষ্টিতে একাকী জীবনযাপন

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৪৪ Time View

ডেস্ক নিউজ : নিঃসঙ্গতা মানবজীবনের রহস্যাবৃত্ত অধ্যায়। কেউ পরিস্থিতির কারণে, কেউ আবার স্বেচ্ছায় নিঃসঙ্গ একাকী জীবন কাটান। একাকিত্বকে যারা উপভোগ্য করতে জানেন ও পারেন তারাই জীবন নামের মহাসমুদ্র একাই পাড়ি জমান।

২৬ বছরের বেশি সময় একাকী জীবন যাপন করে সম্প্রতি পৃথিবীর নিঃসঙ্গতম মানুষের মৃত্যু হয়েছে আমাজন জঙ্গলে (Brayil Amayon jungle)| তাকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে একাকী মানুষ’ (World Loneliest Man) আখ্যা দেওয়া হয়। মানুষটির নাম-পরিচয়, ভাষা কিছুই জানা যায়নি।

কেউ একা হয়ে যান না এক দিনে বা হঠাৎ, বরং নানা দূরত্ব ও দ্বন্দ্বের কারণে তৈরি হয় ফাঁক-ফাঁকি, ফাটল-ভাঙন। একাকিত্ব, নিঃসঙ্গতা আত্মোপলব্ধি ও ইবাদতের আগ্রহ বাড়িয়ে দিলেও হৃদয়ের গভীরতম উচ্চারণ :

‘কী ভয়ংকর এই একাকিত্ব!

কী নির্মম এই বন্ধনহীনতা!

কী বেদনাময় এই বিশ্বাসহীনতা!’

ইসলাম নিঃসঙ্গতা, একাকিত্ব পরিহারের শিক্ষা দেয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মানব মণ্ডলী! তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের একজন পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকেই তার জুটি সৃষ্টি করেছেন। আর তাদের উভয়ের থেকে অসংখ্য নর-নারীর বিস্তার ঘটিয়েছেন।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১)

প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘তুমি মুমিনদের পারস্পরিক করুণা প্রদর্শন এবং পারস্পরিক সহানুভূতি প্রদর্শনের দিক থেকে একই দেহের মতো দেখতে পাবে। যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ কষ্ট অনুভব করে তখন গোটা দেহই জর-নিদ্রাহীনতা দ্বারা এর প্রতি সাড়া দিয়ে থাকে।’ (বুখারি)

নিঃসঙ্গতা ও একাকিত্ব থেকে আত্মরক্ষায় ইসলামে বাস্তবসম্মত নির্দেশনা রয়েছে।

যেমন—

আল্লাহর স্মরণ ও দোয়া নামাজে একাগ্রতা কোরআন তিলাওয়াত ইতিকাফ মহান আল্লাহর প্রতি ভরসা।

সমাজ সংসারে কিছু মানুষ একা থাকলেও তারা একা নন। ধর্ম-কর্মের নানা অনুষঙ্গে একাকিত্ব ঘুচাবার যোগ্যতা রাখেন তারা। তবে একেবারে একাকী ও নিঃসঙ্গ জীবন কষ্টকর, অসহায় ও কিছুটা হলেও ভুল। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘আমি একা থাকার সম্পর্কে যা জানি তা যদি লোকেরা জানত, তাহলে কেউ কখনো রাতে একা ভ্রমণ করত না।’ (বুখারি)

যদিও কখনো কখনো কিছু সময় একা কাটানো উচিত। অথচ ইসলামের মধ্যপন্থার রীতি আমাদের সব কিছুতে ভারসাম্য রক্ষার শিক্ষা দেয়। ইবনু উমর (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) একা থাকতে নিষেধ করেছেন। আর একজন মানুষ একা ঘরে ঘুমাতে বা একা ভ্রমণের জন্য।’

(মুসনাদে আহমাদ)।

তবে একা ঘরে ঘুমানোর হাদিসের বিশুদ্ধতা নিয়ে বিতর্ক-বিশ্লেষণ রয়েছে।

নিঃসঙ্গতা এড়াতে বিয়ের পরামর্শ দিয়ে অনেকেই বলেন, অবসর, অসুস্থতায়ও তো সঙ্গী দরকার!  স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি ছাড়া নিদানকালে কী হবে ইত্যাদি? আশ্চর্য! স্বজন-পরিজন থাকলেও তো অনেকের ঠিকানা হয় বৃদ্ধাশ্রম!

অন্যদিকে জীবনোপলবদ্ধিতে সংসারজগৎ তৈরির অবসর উঁকিঝুঁকি দেয়নি—এমন ব্যক্তিত্বের তালিকা যেমন দীর্ঘ, তেমনই তাদের জীবনের গল্প বিস্ময়কর। ঈসা (আ.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘আপনি বিয়ে করেননি কেন?’ তিনি (আ.) বলেন, ‘মরণশীল স্ত্রী দিয়ে আমি কী করব?’

বউয়ের সঙ্গে নয়, বিধাতার নিবিড় সান্নিধ্য-সাধনা ও বইয়ের সঙ্গে সংসার পেতে অনেকে হয়েছেন ইতিহাসখ্যাত। বিশর হাফি, জারির আত-তাবারি, আবু বকর আল আম্বারি, আবু আলি ফারসি, ইবনুল আনবারি, আবুল কাসেম জামাখশারি, ইমাম নববী, ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ, আবুল ওয়াফা আফগানি প্রমুখের জীবনগল্পের শিক্ষা; জ্ঞানের পত্ররস তাদের কাছে প্রেয়সীর গোলাপি গালের চেয়েও সুধাময়।

শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমি, শাহজালাল, হাজি মোহাম্মদ মোহসিন, বায়তুল মোকাররমের প্রথম খতিব আল্লামা আবদুর রহমান কাশগরি (রহ.) প্রমুখ গড়েননি দাম্পত্য সম্পর্ক।

তবু নিঃসঙ্গতা এড়াতে প্রিয় নবী (সা.) সফরসঙ্গীর সংখ্যা সম্পর্কে বলেন ‘…তিনজনের ভ্রমণকে কাফেলা বলে। একজন কিংবা দুজনের ওপর শয়তান প্রভাব করতে পারে, কিন্তু তিনজনের ওপর সম্ভব হয় না।’ (তিরমিজি)

জীবন বাস্তবের অভিজ্ঞতায় প্রিয় নবী (সা.) আরো বলেন, ‘মুমিন এক গর্তে দুবার দংশিত হয় না।’ (বুখারি)

লেখক : সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান

ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ

কাপাসিয়া, গাজীপুর 

কিউএনবি/অনিমা/০৪ ডিসেম্বর ২০২৪,/দুপুর ২:১০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit