বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ন

সীমান্তে কড়াকড়ি, হাটে নেই ভারতীয় গরু

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
  • ২৩ Time View

ডেস্কনিউজঃ তিন দিক ভারতীয় সীমান্তঘেরা পঞ্চগড়ে কোরবানির ঈদ এলেই ভারতীয় গরুর আধিপত্য দেখা যেত বিভিন্ন পশুর হাটে। ভারতীয় গরুর দখলেই থাকতো এসব হাট। তবে এবারের দৃশ্যপট ভিন্ন। সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর কারণে কোরবানির হাটে এবার ভারতীয় গরুর দেখা নেই বললেই চলে। এসব হাট এখন ছোট-বড় দেশীয় গরুর দখলে।

ভারতীয় গরু না আসায় গৃহস্থ ও খামারিদের মাঝে স্বস্তি দেখা গেছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলায় পালন করা গরু চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। ক্রেতারাও তুলনামূলক সহনীয় দামে কোরবানির পশু কিনতে পারায় বলছেন সন্তষ্টির কথা।

উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তিন দিকে ২৮৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে ভারতীয় সীমান্ত। প্রতিবছর কোরবানির ঈদের আগে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবাধে ভারতীয় গরু ঢুকে সয়লাব হয়ে যেত জেলার বিভিন্ন এলাকার কোরবানির পশুর হাট। কিন্তু এবার বদলে গেছে সেই চিত্র। সীমান্তে কড়া নজরদারি এবং অবৈধ পথে গরু আনার ঝুঁকি বাড়ায় ভারতীয় গরুর চোরাচালান প্রায় বন্ধ। এসব কোরবানির পশুর হাট ভরে গেছে দেশীয় গরুতে। পঞ্চগড় সদরের রাজনগর হাট, বোদার নগরকুমারি, দেবীগঞ্জের ভাউলাগঞ্জ, আটোয়ারীর ফকিরগঞ্জ এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান পশুর হাটে এখন শুধু দেশি গরুর বড় বড় সারি চোখে পড়ে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এবার জেলার বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় বেশি রয়েছে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে জেলায় এক হাজার ২৩৬টি খামারে এক লাখ ৩০ হাজার ৩৩০টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ২৬ হাজারের বেশি গরু জেলার বাইরে সরবরাহ করা হচ্ছে।

উপজেলা সদরের হাফিজাবাদ এলাকার একটি খামারের মালিক রইসুল ইসলাম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘কোরবানি ঈদের আশায় এক বছর ধরে কয়েকটি গরু প্রস্তুত করেছি। ভারতীয় গরু না থাকায় এবার ভালো দাম পাওয়ার আশা করছি। এরই মধ্যে চারটি গরু বিক্র করেছি। আরও তিনটি রয়েছে। এগুলোও বিক্রি হয়ে যাবে আশা করি।’

একই উপজেলার তালমা এলাকার গৃহস্থ আকিবুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘৬০ হাজার টাকায় দুটি ছোট আড়িয়া গরু কিনে প্রায় দেড় বছর ধরে লানল-পালন করেছি। গরু দুটি বেশ ভালো হয়েছে। বাড়িতেই গরুর পাইকার এক লাখ ৬০ হাজার বলেছেন। আজ হাটে নিয়ে এসেছি। আশা করছি টাকা বেশি পাবো। এক লাখ ৭০-৭৫ বললেই বিক্রি করবো।’

রাজনগর হাটে গরু কিনতে আসা জেলা শহরের মসজিদ পাড়া মহল্লার রবিউল ইসলাম বলেন, ‘এবার হাটে দেশি গরুর সংখ্যা বেশি। দামও হাতের লাগালেই আছে বলে মনে হচ্ছে। তবে এখনো গরু কেনা হয়নি। ছোট দেখে আড়িয়া গরু কেনার ইচ্ছা আছে। ৬৫-৭০ হাজারের মধ্যে একটা কিনতে পারবো বলে আশা করি।’

রাজনগর কোরবানির হাটে গরু বিক্রি করতে এসেছেন ব্যবসায়ী রহিমুল ইসলাম। এবার ঈদে বেচাকেনা কম বলে জানালেন। তিনি বলেন, ‘গত হাটে দুটি গরু কিনে এনে এখানে বিক্রি করেছি। সাত হাজারের মতো লাভ হয়েছে। আজ ৮৫ হাজার টাকার একটি গরু এনেছি। এখনো বিক্রি করতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘ঈদের আরও কয়েকদিন বাকি থাকায় ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম মনে হচ্ছে। অনেকেই শেষ সময়ে পশু কিনতে হাটে আসেন। ফলে এখানে বড় বেচাকেনা এখনো শুরু হয়নি। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে কোরবানির পশুর হাট আরও জমে উঠবে বলে আশা করি।’

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নূরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের তিন পাশেই ভারতীয় সীমান্ত আছে। এসব সীমান্ত দিয়ে অসাধু ব্যক্তিরা যাতে কোনোভাবেই ভারতীয় গরু নিয়ে আসতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। স্থানীয় খামারিরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, লাভবান হন; আমরা সেই চেষ্টা করছি।’

কথা হয় পঞ্চগড় রাজনগর গরুর হাটের ইজারাদার আব্দুস সামাদ পুলকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পঞ্চগড় রাজনগর গরুর হাটে আজ গরু প্রচুর আমদানি হয়েছে। সাড়ে তিন থেকে চার হাজারের মতো গরু বাজারে উঠেছে। সব দেশি গরু। হাটে ইন্ডিয়ান কোনো গরু নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাটের নিরাপত্তা স্বার্থে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা প্রহরীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। মলম পার্টির হাত থেকে সাবধান থাকতে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাটে বেচাকেনা ভালোই হচ্ছে। আশা করি আগামী কয়েকদিন বেচাকেনা আরও বাড়বে।’

কিউএনবি/বিপুল/২১.০৫.২০২৬/রাত ১০.২৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit