ডেস্ক নিউজ : মুফতি আবদুল্লাহ তামিম
তবে জাকাত ও সদকা দুটিই দান হলেও এদের মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। জাকাত ফরজ ইবাদত হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ থেকে আদায় করতে হয়, যেখানে সদকা ঐচ্ছিক আর কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই দান করা হয়। এ আলোচনায় জাকাত ও সদকার ফজিলত, গুরুত্ব আর বাস্তব ক্ষেত্রে এদের পার্থক্য নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হলো।
সদকা হলো এমন একটি দান, যা প্রয়োজন বা কষ্টে থাকা মানুষদের প্রতি উদারতার নিদর্শন হিসেবে প্রদান করা হয়। সদকার মাধ্যমে মানুষের বিভিন্ন রোগ-বালাই থেকে মুক্তি, সম্পদের বরকত, আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ সুদকে বিলুপ্ত করেন আর সদকাকে বৃদ্ধি করেন’ (সুরা বাকারা, আয়াত ২৭৬)।
জাকাত ইসলামে বাধ্যতামূলক আর্থিক ইবাদত। এটি প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য ফরজ, যা বার্ষিকভাবে তার সম্পদের নির্দিষ্ট পরিমাণ থেকে দেয়া হয়। জাকাতের মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র, অসহায় মানুষদের মৌলিক চাহিদা মেটানো হয়, যা অর্থনৈতিক ভারসাম্য সৃষ্টি করে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করবে যাতে তা দিয়ে তাদের পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করতে পারে’ (সুরা তাওবা, আয়াত ১০৩)। জাকাত আদায় ব্যক্তি থেকে লোভ ও কৃপণতার স্বভাব দূর করে আর তাকে আল্লাহর প্রতি আরও বিনয়ী ও অনুগত করে তোলে।
যেখানে জাকাত সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক, সদকা স্বেচ্ছাধীন। জাকাত কেবলমাত্র মুসলিমদের মধ্যে অসহায়দের দেয়া হয়, তবে সদকা মুসলিম ও অমুসলিম সকলকেই প্রদান করা যেতে পারে। জাকাতের নির্দিষ্ট হিসাব আছে, যেমন জাকাতুল ফিতর, যা রমজানে আদায় করা হয়, বা নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বর্ণ বা সম্পদের উপর নির্ধারিত অংশ হিসেবে বছরে একবার দেয়া হয়। অপরদিকে, সদকা কখনো কখনো তাৎক্ষণিক ইচ্ছানুযায়ী দান হিসেবে দেয়া হয়ে থাকে।
আল্লাহ সুদকে বিলুপ্ত করেন আর সদকাকে বৃদ্বি করেন। (সুরা বাকারা ২৭৬) রসুল (সা.) বলেছেন, সদকা রোগ ব্যাধি দূর করে। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু খরচ না করা পর্যন্ত কখনো পূর্ণ্যতা লাভ করতে পারবেনা।
কিউএনবি/আয়শা/১১ নভেম্বর ২০২৪,/বিকাল ৪:৩০