মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
হাম ও উপসর্গে আরও ৩ প্রাণহানি, মোট মৃত্যু ১১শ ছুঁইছুঁই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত দুর্গাপুর গড়তে সহযোগিতা চাই : ডেপুটি স্পিকার মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে এগিয়ে আসুন : ডেপুটি স্পিকার নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১৭১ ঢাবির ৮০ শিক্ষার্থী কে গবেষণা অনুদান ও বৃত্তি প্রদান করেছে আইএফআইসি ব্যাংক সিলেটের পর্যটন কেন্দ্র গুলো হারাচ্ছে প্রকৃতির রূপ ও বৈচিত্র্য ‎লালমনিরহাটে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার চালকসহ নিহত ৪, আহত ৬ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস পালিত আটোয়ারীতে প্রান্তিক পেশাজীবিদের ১০ দিনব্যাপি সফটস্কিলস প্রশিক্ষণ শুরু কিশোর গ্যাং ও মাদক ঠেকাতে রাঙামাটি শহরে সাঁড়াশি অভিযানে আটক ৩৫

জাকাত ও সদকা কি একই? ফজিলত ও মাহাত্ম্য

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৪
  • ৬৫ Time View

ডেস্ক নিউজ : মুফতি আবদুল্লাহ তামিম

তবে জাকাত ও সদকা দুটিই দান হলেও এদের মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। জাকাত ফরজ ইবাদত হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ থেকে আদায় করতে হয়, যেখানে সদকা ঐচ্ছিক আর কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই দান করা হয়। এ আলোচনায় জাকাত ও সদকার ফজিলত, গুরুত্ব আর বাস্তব ক্ষেত্রে এদের পার্থক্য নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হলো।

সদকা

সদকা হলো এমন একটি দান, যা প্রয়োজন বা কষ্টে থাকা মানুষদের প্রতি উদারতার নিদর্শন হিসেবে প্রদান করা হয়। সদকার মাধ্যমে মানুষের বিভিন্ন রোগ-বালাই থেকে মুক্তি, সম্পদের বরকত, আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ সুদকে বিলুপ্ত করেন আর সদকাকে বৃদ্ধি করেন’ (সুরা বাকারা, আয়াত ২৭৬)।

এটি মুমিনদের জন্য এক উজ্জ্বল সুযোগ, যা তাদের জীবনে কল্যাণ বয়ে আনে এবং মানুষের হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি আরও ভালোবাসা তৈরি করে। সদকার অন্যতম ফজিলত হলো, এটি ব্যক্তিকে দুনিয়ার সমস্যাগুলো থেকে মুক্ত রাখে এবং আখিরাতেও পরকালীন ফল বয়ে আনে।

জাকাত

জাকাত ইসলামে বাধ্যতামূলক আর্থিক ইবাদত। এটি প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য ফরজ, যা বার্ষিকভাবে তার সম্পদের নির্দিষ্ট পরিমাণ থেকে দেয়া হয়। জাকাতের মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র, অসহায় মানুষদের মৌলিক চাহিদা মেটানো হয়, যা অর্থনৈতিক ভারসাম্য সৃষ্টি করে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করবে যাতে তা দিয়ে তাদের পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করতে পারে’ (সুরা তাওবা, আয়াত ১০৩)। জাকাত আদায় ব্যক্তি থেকে লোভ ও কৃপণতার স্বভাব দূর করে আর তাকে আল্লাহর প্রতি আরও বিনয়ী ও অনুগত করে তোলে।

জাকাত ও সদকার পার্থক্য

যেখানে জাকাত সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক, সদকা স্বেচ্ছাধীন। জাকাত কেবলমাত্র মুসলিমদের মধ্যে অসহায়দের দেয়া হয়, তবে সদকা মুসলিম ও অমুসলিম সকলকেই প্রদান করা যেতে পারে। জাকাতের নির্দিষ্ট হিসাব আছে, যেমন জাকাতুল ফিতর, যা রমজানে আদায় করা হয়, বা নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বর্ণ বা সম্পদের উপর নির্ধারিত অংশ হিসেবে বছরে একবার দেয়া হয়। অপরদিকে, সদকা কখনো কখনো তাৎক্ষণিক ইচ্ছানুযায়ী দান হিসেবে দেয়া হয়ে থাকে।


আর আল্লাহ যাদেরকে তার অনুগ্রহ থেকে দান করেছেন, তা নিয়ে যারা কৃপণতা করে তার যেন ধারণা না করে যে, তা তাদের জন্য কল্যাণকর। বরং তা তাদের জন্য অকল্যাণকর। কিয়ামতের দিন তা দিয়ে তাদের বেড়ী পরানো হবে।  (সুরা আলে ইমরান ১৮০)

সদকার ফজিলত

আল্লাহ সুদকে বিলুপ্ত করেন আর সদকাকে বৃদ্বি করেন। (সুরা বাকারা ২৭৬) রসুল (সা.) বলেছেন, সদকা রোগ ব্যাধি দূর করে। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু খরচ না করা পর্যন্ত কখনো পূর্ণ্যতা লাভ করতে পারবেনা।

 
আল্লাহ তাআলা বলেন, তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করবে যাতে তা দিয়ে তাদের পবিত্র ও পরিশুদ্ব করতে পারে।(সুরা তাওবা, আয়াত:- ১০৩) আদম সন্তানের মৃত্যুর পর তার সকল সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হলেও তিনটি আমল অব্যাহত থাকে ১. সদকায় জারিয়াহ ২. উপকারী ইলম ৩. সৎ সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে। (সহিহ মুসলিম)
জাকাতের ফজিলতজাকাত ব্যাক্তিকে দানশীল বদান্যতার কাতারে শামিল করে। জাকাত আদায়কারী আভাবীদের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহনশীল, ফলে আল্লাহ তাআলা তার প্রতি ও দয়া করেন। জাকাত ব্যাক্তিকে লোভ ও কৃপণতা থেকে মুক্তি দেয়। জাকাতের ফলে অভাবীদের অভাব দূর হয়। অর্থনৈতিক ভারসাম্য তৈরি হয়। জাকাতের ফলে সম্পদ বৃদ্বি পায় ও তাতে বরকত হয়।

জাকাত যিনি আদায় করেন না হাদিসে তার শাস্থির বর্ণনা দেয়া আছে। (সহিহ মুসলিম ৯৮৭) জাকাত ধনী ও শক্তিশালী উপার্জনকারীকে দেয়া নিষেধ (নাসাঈ শরিফ ২৫৯৮) কাফের মুশরিককে জাকাতের অর্থ দেয়া যায় না। (সুরা আবু দাউদ, আয়াত ১৬৩৩)  
 
জাকাত ও সদকা ইসলামের অন্যতম দানশীলতার দৃষ্টান্ত যা ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। জাকাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয় এবং সমাজে দারিদ্র বিমোচনে সহায়তা করা হয়। সদকা মানুষের হৃদয় থেকে আসা এমন দান যা আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে প্রদান করা হয়। উভয় দানের মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়, কিন্তু এদের বিশেষ গুরুত্ব ও পার্থক্য অনুধাবন করে সঠিক পথে চলার শিক্ষাটি মুসলিমদের জন্য অপরিহার্য।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১১ নভেম্বর ২০২৪,/বিকাল ৪:৩০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit