শাসকটি তখন তার কাছে লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘হে ইবরাহিম, তোমার সঙ্গে এ নারীটি কে?’ তিনি বললেন, ‘আমার বোন।’ তারপর তিনি সারার কাছে ফিরে এসে বললেন, ‘তুমি আমার কথা মিথ্যা মনে কোরো না। আমি তাদের বলেছি যে তুমি আমার বোন। আল্লাহর শপথ! দুনিয়াতে (এখন) তুমি আর আমি ছাড়া আর কেউ মুমিন নেই। সুতরাং আমি আর তুমি দীনি ভাই-বোন।’
এরপর ইবরাহিম (আ.) (বাদশাহর নির্দেশে) সারাকে বাদশাহর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। বাদশাহ তার দিকে এগিয়ে এল। সারা ওজু করে নামাজ আদায়ে দাঁড়িয়ে দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ, আমিও তোমার আর তোমার রসুলের ওপর ইমান এনেছি। আমার স্বামী ছাড়া সবার থেকে আমার সতীত্ব রক্ষা করেছি। তুমি এই বিধর্মীকে দিয়ে আমার সতীত্ব হরণ করিও না।’
এরপর বাদশাহ অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পায়ের আঘাত করতে লাগল। সারা বললেন, ‘হে আল্লাহ, লোকটি মারা গেলে তো লোকে বলবে, মেয়ে মানুষটি ওকে হত্যা করেছে।’ তখন বাদশাহ সংজ্ঞা ফিরে পেল।
এভাবে আরও দুইবার একই ঘটনা ঘটলো। পরে বাদশাহ বলল, ‘আল্লাহর শপথ! তোমরা তো আমার কাছে এক শয়তানকে পাঠিয়েছ। একে ইবরাহিমের কাছে ফিরিয়ে দাও এবং তাকে উপহার হিসেবে হাজেরাকে দিয়ে দাও।’
সারা ইবরাহিম (আ.)-এর কাছে ফিরে এসে বললেন, ‘আপনি জানেন কি, আল্লাহ বিধর্মীকে লজ্জিত ও নিরাশ করে তিনি এক দাসীকে উপহার হিসেবে দিয়েছেন।’ (বুখারি ২২১৭)