রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ন

বিপদে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৫ জুলাই, ২০২৪
  • ৮০ Time View

ডেস্ক নিউজ : আল্লাহ সবকিছুর নিয়ন্তা। আল্লাহর হুকুম ছাড়া কিছুই ঘটে না। আল্লাহ মানুষকে যেমন সুদিন দেন তেমন দুর্দিনও আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে। সুদিনে যেমন ক্ষমতার অপব্যবহার না করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে, তেমন দুর্দিনে ধৈর্য ধরতে হবে। বিপদে পড়লে আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হবে। ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। 

আল কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে মোমিনরা! ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য কামনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ সুরা বাকারা, আয়াত ১৫৩। এ আয়াতে আল্লাহ সালাতের আগে ধৈর্যের কথা বলেছেন এবং আল্লাহর সাহায্যলাভের উপায় হিসেবে সালাতের পাশাপাশি ধৈর্যশীলতাকে গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোনো কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতেন, তখনই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন। বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়, এমন অনেক দোয়া পবিত্র কোরআন ও হাদিসে রয়েছে। মানুষের দেহ সজীব ও প্রাণবন্ত রাখার জন্য যেমন খাবার বা আহারের প্রয়োজন, তেমনি রুহকে সজীব রাখার জন্যও খাবারের প্রয়োজন হয়। আর রুহর সেই খাবার হলো আল্লাহর জিকির। 

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সুতরাং তোমরা আমাকেই স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হোয়ো না।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত : ১৫২)।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা তিন ভাগে বিভক্ত- ক. বিপদের সময় ধৈর্য খ. আল্লাহর নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে ধৈর্য গ. পাপ থেকে বিরত থাকার ক্ষেত্রে ধৈর্য।’ ইমান সম্পর্কে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করলে তিনি এক কথায় বলেছিলেন, ‘ইমান হচ্ছে ধৈর্যধারণ।’ তাই ধৈর্যশীলরা চরম সংকট ও বিপদের সময়ও ইমানের ওপর অটল থেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে।

সাহাবি হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো সম্প্রদায় দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করতেন তখন বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফি নুহুরিহিম, ওয়া নাউজুবিকা মিন শুরুরিহিম। অর্থ, ‘হে আল্লাহ! আমরা তোমাকেই তাদের মুখোমুখি করছি এবং তাদের অনিষ্টতা থেকে তোমারই কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।’ (আবু দাউদ ও নাসাই)।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মোমিনের ব্যাপারটাই আশ্চর্যজনক। তার প্রতিটি কাজই তার জন্য কল্যাণকর। এ সৌভাগ্য মোমিন ছাড়া আর কারও জীবনে হয় না। সে দুর্দশাগ্রস্ত হলে ধৈর্য ধারণ করে, তা তার জন্য কল্যাণকর। সুদিন দেখা দিলে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, তা-ও তার জন্য কল্যাণকর।’ মুসলিম।

উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘আমি রসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, মানুষের ওপর কোনো বিপদ এলে সে যেন ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আল্লাহুম্মা আজিরনি ফি মুসিবাতি ওয়া আখলিফ-লি খাইরাম মিনহা দোয়া পাঠ করে, তখন আল্লাহতায়ালা তাকে তার বিপদ দূর করে দেন এবং সে যা কিছু হারিয়েছে, তার বদলে তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করেন।’ 

বিপদের সময় রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতদেরও পাঠ করতে বলেছেন, ‘লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন।’ (দোয়া ইউনূস) অর্থ, ‘একমাত্র তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। নিশ্চয়ই আমি সীমা লঙ্ঘনকারী।’ (তিরমিজি : ৩৫০০)।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জায়ালতাহু সাহলান, ওয়াআনতা তাজআলুল হুযনা সাহলান ইযা শিইতা।’ অর্থ, ‘ইয়া আল্লাহ, কোনো বিষয় সহজ নয়। হ্যাঁ, যাকে তুমি সহজ করে দাও। যখন তুমি চাও তখন তুমি মুশকিলকে সহজ করে দাও।’ (ইবনে হিব্বান : ৯৭৪)

যারা বিপদাপদে ধৈর্য বজায় রাখে তারা আল্লাহর কাছে পুরস্কৃত হবে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মুসলিম ব্যক্তির যে কোনো রোগব্যাধি, দৈহিক শ্রান্তি, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও পেরেশানি আসে, এমনকি তার দেহে কাঁটা বিঁধলেও এসবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেন।’ বুখারি। 

আল্লাহ ধৈর্যশীলদের পছন্দ করেন তাই তিনি ধৈর্যশীলদের সঙ্গেই থাকেন। জীবনে সমস্যা-সংকট ও বাধা-বিপত্তি আসবেই। ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে এসব সমস্যা-সংকট থেকে মুক্তির পথ বের করে জীবনে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যেতে হবে। ধৈর্যশীলদের প্রতি কোরআনে উল্লিখিত প্রতিশ্রুতি হলো, ‘আল্লাহ কষ্টের পর স্বস্তি দেবেন।’ সুরা তালাক, আয়াত ৭। 

এ আয়াতের শিক্ষা হচ্ছে, কষ্ট ও বিপদের সময় অবশ্যই ধৈর্য ধরতে হবে; তাহলে জীবনের কাক্সিক্ষত সুখ-শান্তি আসবেই। তবে ধৈর্যধারণের কাজটি যে অত সহজ নয় তা-ও কোরআন উল্লেখ করেছে, ‘তোমার ওপর যে বিপদ আসে তাতে ধৈর্য ধারণ কর। নিশ্চয় এগুলো অন্যতম দৃঢ়সংকল্পের কাজ।’ সুরা লুকমান, আয়াত ১৭। 

ধৈর্যধারণের মতো কঠিন কাজের পুরস্কারও অপরিসীম। আল্লাহ বলছেন, ‘নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের অগণিত পুরস্কার দেওয়া হবে।’ সুরা জুমার, আয়াত ১০। সুতরাং জীবনের উন্নতি, সফলতা ও আল্লাহর নৈকট্যলাভের একটি বড় মাধ্যম হচ্ছে ধৈর্য। আল্লাহ আমাদের সব অবস্থায় ধৈর্যশীল হওয়ার তৌফিক দান করুন।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আমেনা খাতুন হাফেজিয়া কোরআন রিসার্চ অ্যান্ড ক্যাডেট ইনস্টিটিউট কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৫ জুলাই ২০২৪,/দুপুর ১:৫৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

January 2025
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit