রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন

বিশ্ব ইজতেমা : দাওয়াতি কার্যক্রমের মিলনমেলা

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ১১৪ Time View

ডেস্ক নিউজ : প্রতি বছরের মতো এ বছরেও শুরু হচ্ছে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা। তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে আয়োজিত এ ইজতেমা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম সম্মেলন। তুরাগ তীরের ইজতেমা মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যের ডাক দেয়। ভ্রাতৃত্ব, একতা, সাম্য ও শান্তির বার্তা উপহার দেয়। প্রতি বছরের মতো এবারও অনেক দেশের মুসলমান ইজতেমায় অংশগ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশে এসেছেন। অংশ নিচ্ছেন তাবলিগ জামাতের দাওয়াতি কার্যক্রমে।

দাওয়াত শব্দটি আরবি, এর আভিধানিক অর্থ আহ্বান করা। ইসলামে দীনহারা মানুষকে দীনের দিকে বা ইসলামের দিকে আসার আহ্বান জানানকে দাওয়াত বলা হয়। বস্তুত, আত্মবিস্তৃত মানব জাতিকে এক আল্লাহর পথে আহ্বান করাই ছিল নবী-রসুলগণের প্রধানতম দায়িত্ব। শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পবিত্র কোরআন মাজিদে দাঈ হিসেবে উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে : ‘আল্লাহর অনুমতিক্রমে তার দিকে আহ্বানকারীরূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি’ (সূরা আহযাব-৩৩:৪৬)। বিশ্ব ইজতেমা দাওয়াতি কার্যক্রমের মহামিলন মাহফিল। আল্লাহর মনোনীত পথে মানবজাতিকে পরিচালিত করার জন্য দুনিয়ার প্রথম মানব ও নবী হজরত আদম (আ.) থেকে সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত ১ বা ২ লাখ ২৪ হাজার নবীর আগমন ঘটেছে পৃথিবীতে। তারা আল্লাহ নির্দেশিত সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের কাফেলায় মানুষকে সঙ্গী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নবুয়তের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এ দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারীদের ওপর। মহানবীর বিদায়ের পর থেকে পর্যায়ক্রমে এ দায়িত্ব খোলাফায়ে রাশেদিন, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেইন, তাবেতাবেইন, সলফে সালেহিন, আলেম-ওলামা ও পীর মাশায়েখগণ পালন করে আসছেন। দিল্লির মেওয়াতে দারুল উলুম দেওবন্দের মুরব্বি মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) ১৯২৬ সালে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ শুরু করেন, যার সম্প্রসারিত রূপ আজকের টঙ্গীর তুরাগ তীরের বিশ্ব ইজতেমা। এক আল্লাহর প্রতি ইমান আনা এবং ঐক্যবদ্ধভাবে সৎ কাজ করা ও অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখাই এ দাওয়াতের মুখ্য উদ্দেশ্য। দাওয়াতি কাজের এ দায়িত্বটি তাবলিগ জামাতের মুরব্বিরা বেছে নিয়েছিলেন পবিত্র কোরআন এবং হাদিসের আলোকে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘আমি চাই তোমাদের মধ্যে এমন একদল লোক, যারা মানুষকে সত্যের পথে আহ্বান করবে, ভালো কাজের আহ্বান করবে, আর মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে। ওই দলটাই হলো সফলকাম।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১০৪)। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও দাওয়াতি কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়েছেন। বিদায় হজের ভাষণে তিনি বলেছেন, ‘আমার পর আর কোনো নবী আসবে না। অতএব, আমার একটি বাণী হলেও অন্যের কাছে পৌঁছে দাও। আল্লাহ এবং রসুলের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, বিপথগামী মানুষকে সঠিক পথে আনা, মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনের কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে তাবলিগ মিশন। জাগতিক লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে যথার্থ মানবকল্যাণের মিশনকে এগিয়ে নিতে চান এই কাফেলার সদস্যরা। এক মুসলমান আরেক মুসলমানের ভাই এই বোধকে উজ্জ্বল করেছে আল্লাহ প্রেমিকদের এ দলটি। অভাবগ্রস্ত বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশেও তারা অবস্থান নিয়েছে আল্লাহ ও তার রসুলের হুকুম অনুযায়ী। সোজা কথায় ইহকাল ও পরকালের শান্তির জন্য মানুষকে সত্য ও সরল পথে আহ্বান জানানোর দায়িত্ব পালন করছে তাবলিগ জামাত। 

বিশ্বের যে কোনো দেশের যে কোনো মত ও পথের মুসলমান যোগ দিতে পারেন। সব মাজহাবের অনুসারী অংশগ্রহণ করতে পারে। ইজতেমায় যারা আসে তার মধ্যে কেউ হানাফি মাজহাবের অনুসারী, কেউ শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারী। আবার কেউ হামবলি মাজহাবের অনুসারী। কেউ আবার মালিকি মাজহাবের অনুসারী। এমন মুসলমানও ইজতেমায় আসে যারা কোনো মাজহাবেরই অনুসারী নয়। প্রতিটি বয়ানে মুসলমানদের মধ্যে আবার ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়। সাহাবিদের সোনালি যুগের আলোচনা হয়। সবার মধ্যে কীভাবে মহব্বত সৃষ্টি করা যায় সে চেষ্টা করা হয়। সবার উদ্দেশ্য থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আল্লাহর রসুলের সুন্নতের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য। প্রিয় নবী ও তাঁর সাহাবিরা যেভাবে ইসলাম প্রচারের জন্য মক্কা-মদিনার বাইরে গেছেন, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছেন, এখানেও সেই শিক্ষা দেওয়া হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের যেভাবে ইসলাম প্রচারের কাজে উদ্বুদ্ধ করতেন, এখানেও তাই করা হয়। মানুষকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসার শিক্ষা দেওয়া হয়। আল্লাহর রাস্তায় জানমাল ব্যয় করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সবাইকে ইসলাম প্রচারে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হয়। বিশ্ব ইজতেমায় আগত মেহমান সবাই আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকে। রাতের বেলায় তাহাজ্জুদ নামাজে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে। শুক্রবার শুরু হয়ে রবিবার আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমা। মহান আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে বিশ্ব ইজতেমায় হাজির হওয়ার তৌফিক দান করেন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক

কিউএনবি/অনিমা/২৫ জানুয়ারী ২০২৪,/দুপুর ১২:২০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit