মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জয়পুরহাটে আখক্ষেত থেকে মানুষের কঙ্কাল উদ্ধার, নিখোঁজ অটোভ্যান চালকের বলে দাবি পরিবারের জিএস আম্মারের দাপ্তরিক ব্যয়ের হিসাবে অসঙ্গতির অভিযোগ শিবির সভাপতির সীমানা প্রাচীর নির্মাণে অনুমোদন না নিয়ে গাছ কাটার অভিযোগ মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ম্যানসিটি তারকার নতুন প্রেমের গুঞ্জন সবার মানবাধিকার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আমার ছেলেকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল ইরান: নেতানিয়াহু যুদ্ধের অবসানে ইরানকে আলোচনায় ফেরানোর চেষ্টায় আসিম মুনির আইআরজিসি কমান্ডারদের খোঁজ পেতে ১ কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করল যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আগেই ট্রাম্পকে যেসব ইঙ্গিত দিয়েছিল মার্কিন গোয়েন্দারা

জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে বাঁচার সাত আমল

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ১২৬ Time View

ডেস্ক নিউজ : জাহান্নাম হলো পরলোকের এমন একটি বিশাল জায়গায়, যেখানে বিভিন্ন শাস্তির জন্য ভিন্ন ভিন্ন এলাকা নির্ধারিত আছে। সেগুলোকে প্রধানত সাত ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

জাহান্নামের সাতটি অংশ : জাহান্নামের প্রধানত সাত ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা— ১. নার তথা আগুন, ২. জাহান্নাম তথা আগুনের গর্ত, ৩. জাহিম তথা প্রচণ্ড উত্তপ্ত আগুন, ৪. সায়ির তথা প্রজ্বলিত শিখা, ৫. সাকার তথা ঝলসানো আগুন, ৬. হুতামাহ তথা পিষ্টকারী এবং ৭. হাবিয়া তথা অতল গহ্বর।

পবিত্র কোরআনে জাহান্নামের আগুনের উত্তাপের কিছু বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এক আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘এটা তো লেলিহান অগ্নি, যা গায়ের চামড়া খসিয়ে দেবে।’ (সুরা : মাআরিজ, আয়াত : ১৫-১৬)

জাহান্নামের ছায়ার বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা যাকে অস্বীকার করতে, চলো তারই দিকে। চলো তিন শাখাবিশিষ্ট ছায়ার দিকে, যে ছায়া শীতল নয় এবং যে ছায়া অগ্নিশিখা থেকে রক্ষা করতে পারে না।

তা উৎক্ষপণ করবে অট্টালিকাতুল্য বৃহৎ স্ফুলিঙ্গ, তা পীতবর্ণ উষ্ট্রশ্রেণিসদৃশ। সেই দিন দুর্ভোগ মিথ্যারোপকারীদের জন্য।’ (সুরা : মুরসালাত, আয়াত : ২৯-৩৪)
জাহান্নামের আগুনের জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতএব, ওই আগুন ভয় করো, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর…।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৪)

জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণের উপায়

১. আল্লাহ ও রাসুলের ওপর বিশ্বাস : জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার প্রধান উপায় হলো, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর যথাযথ ঈমান আনা এবং জীবন ও সম্পদ আল্লাহর পথে বেশি ব্যয় করা। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনরা, আমি কি তোমাদের এমন বাণিজ্যের সন্ধান দেব, যা তোমাদের রক্ষা করবে বেদনাদায়ক শাস্তি থেকে? তা এই যে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর ঈমান আনবে এবং তোমাদের জীবন ও সম্পদ দিয়ে আল্লাহর পথে লড়াই করবে। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে!’ (সুরা : সাফফ, আয়াত : ১০-১১)

২. আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য : আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকা জাহান্নাম থেকে মুক্তির অন্যতম উপায়। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আর কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্য হলে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে তিনি তাকে (জাহান্নামের) আগুনে নিক্ষেপ করবেন; সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর তার জন্য আছে অপমানজনক শাস্তি।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৪)

৩. যাবতীয় পাপ মুক্ত হওয়া : ইসলামের দৃষ্টিতে জাহান্নামে যাওয়ার মতো পাপ আছে, সেসব পাপ থেকে বেঁচে থাকলে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। ওই পাপগুলো হলো—শিরক করা, নবী-রাসুলদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করা, কুফরি করা, হিংসা করা, জুলুম করা, খিয়ানত করা, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা, কৃপণতা করা, লোক-দেখানো কিংবা জাগতিক ফায়দা হাসিল করার জন্য ভালো কাজ করা, মুনাফেকি করা, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে যাওয়া এবং কোরআন-হাদিসে বর্ণিত কবিরা গুনাহ করা। এসব পাপ থেকে বেঁচে থাকলে জাহান্নাম থেকে মুক্তি মিলবে। (আল-জান্নাতু ওয়ান্নারু মিনাল কিতাবি ওয়াস-সুন্নাতিল মুতাহহারাহ—আবদুর রহমান বিন ওহাফ আল-কাহতানি, পৃষ্ঠা : ১২৩-১২৪)

৪. শিরক থেকে বেঁচে থাকা : শিরক একটি জঘন্য অপরাধ, যা বিশুদ্ধ তাওবা ছাড়া ক্ষমা হয় না। এর মাধ্যমে জান্নাত হারাম হয়ে যায় এবং চিরস্থায়ী জাহান্নামের আগুনে দগ্ধীভূত হতে হয়। সুতরাং শিরক থেকে বেঁচে থাকতে হবে। এ মর্মে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর শরিক স্থাপন করবে, তার ওপর জান্নাত হারাম এবং জাহান্নাম হবে তার চূড়ান্ত ঠিকানা। আর সেদিন জালিমদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৭২)

৫. বেশি পরিমাণ দান করা : দান-সদকার মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা সুদৃঢ় হয় এবং জান্নাতের পথ সুগম হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান করো তবে তা উত্কৃষ্ট এবং যদি গোপনে দান করো এবং দরিদ্রদের প্রদান করো, তাহলে তোমাদের জন্য তা কল্যাণকর। আর এর দ্বারা তিনি তোমাদের পাপ মোচন করে দেন। বস্তুত তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে আল্লাহ যথাযথভাবে খবর রাখেন।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৭১)

৬. ফরজ ইবাদত আদায় করা : মহান আল্লাহ কর্তৃক বান্দার ওপর যেসব ইবাদত ফরজ করা হয়েছে সেগুলো যথাযথভাবে আদায় করা জাহান্নাম থেকে মুক্তির অন্যতম উপায়। সালাত, সিয়াম, জাকাত, হজ প্রভৃতি। সালাদ আদায় করা সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই মুমিনরা সফলকাম হয়েছে। যারা তাদের সালাত বিনয় ও নম্রতা সহকারে আদায় করে।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ১-২)

৭. দোয়া করা : পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ জাহান্নাম থেকে বাঁচার দোয়া শিখিয়েছেন। ওই দোয়াগুলো নিয়মিত পাঠ করলে জাহান্নাম থেকে মুক্তি মিলবে। পবিত্র কোরআনের ভাষায়—‘হে আমাদের রব! আমাদের ইহকালে কল্যাণ দান করো এবং পরকালেও কল্যাণ দান করো। আর আমাদের দোজখ-যন্ত্রণা থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২০১)

অন্য আয়াতে এসেছে, ‘হে আমাদের রব! আমাদের থেকে জাহান্নামের শাস্তি নিবৃত্ত করো; জাহান্নামের শাস্তি তো নিশ্চিতভাবে ধ্বংসাত্মক; নিশ্চয়ই তা আশ্রয়স্থল ও বসতি হিসাবে অতীব নিকৃষ্ট!’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৬৫-৬৬)

মহান আল্লাহ আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে হেফাজত করুন।

কিউএনবি/অনিমা/২০ জানুয়ারী ২০২৪,/রাত ১০:৫৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit