বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ন

মদিনার দর্শনীয় স্থানসমূহ

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ১৩৯ Time View

ডেস্ক নিউজ : আয়তনে বিশ্বের তৃতীয় বৃহওম মুসলিম দেশও এটি। পশ্চিম সৌদি আরবের প্রসিদ্ধ শহর মদিনা। মদিনা প্রদেশের রাজধানী মদিনা শহর। মুসলমানদের কাছে এটি দ্বিতীয় পবিত্রতম শহর। মক্কার পরেই পৃথিবীর সবথেকে পবিত্র জায়গা হিসেবে মদিনা শহরকে সম্মানিত করা হয়েছে। সংক্ষেপে মদিনা বলা হলেও মদিনা শহরের প্রাতিষ্ঠানিক নাম ‘আল মদিনা আল মুনাওয়ারাহ’ যার বাংলা অর্থ আলোর শহর। নবীর নামেও চিনে মানুষ। ইসলামের প্রথম রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু হয় এ শহর থেকেই। নবী কারিম সা. এ শহর থেকেই বিশ্ব পরিচালনা করেছিলেন।

মদিনা শহরের মোট আয়তন ৪৪৫.৫ কিলোমিটার বা ২২৭ বর্গমাইল। প্রাণের নবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর রওজা মোবারক মদিনা শহরে অবস্থিত। প্রতিদিন হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলিম মদিনা শহরে আসে নবীজির রওজা মোবারক পরিদর্শন করতে। এই শহরের বেশিরভাগ জায়গাতেই আমাদের নবীর স্মৃতিচিহ্ন পড়ে আছে।
 
৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা. মক্কা ছেড়ে পবিত্র মদিনা শহরে হিজরত করেছিলেন। ইসলামের বেশ প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী তিনটি মসজিদ, মসজিদে নববী, কুবা মসজিদ ও মসজিদ আল কিবলাতাইন মদিনা শহরে অবস্থিত। রসুল সা. এর হিজরত থেকেই শুরু হয় হিজরি বর্ষ গণনা। মক্কায় হজ্জ করতে যাওয়া হাজিগণ মদিনায় আসেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ভ্রমণ করতে। প্রতিবছর হজে যাওয়া লক্ষ লক্ষ মানুষও রসুলের রওজা জিয়ারত করতে মদিনায় গমন করেন।  

মসজিদে নববি

পৃথিবীতে মসজিদুল হারাম এর পরেই মসজিদে নববীর স্থান। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা. এই মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। নিজেও এর নির্মাণ কাজে অংশগ্রহণ করেছেন। নবীজির মদিনায় হিজরতের পর এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

 
রসুল সা. এর কবর জিয়ারত করার উদ্দেশ্যেই সকল হাজিরা মসজিদে নববিতে এসে উপস্থিত হোন। মসজিদের সবুজ গম্বুজ বিশিষ্ট কক্ষে মহানবি হযরত মুহাম্মদ সা. হযরত উমর রা. ও হযরত আবু বকর রা. এর রওজা মোবারক অবস্থিত। সবুজ গম্বুজ বিশিষ্ট এই কক্ষটি হযরত আয়িশা রা. এর ঘর ছিল। মুসল্লিরা সাধারনত হজ্জের শুরুতে বা শেষে মসজিদে নববী-তে এসে অবস্থান করেন।
মসজিদ দুই স্তর বিশিষ্ট আয়তাকার। উসমানিয় নামাজের স্থানটি দক্ষিণমুখী। এতে সমতল ছাদ। বর্গাকার ভিত্তির উপর ২৭টি চলাচলসক্ষম গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজের নিচের খোলা স্থানে ভেতরের স্থান আলোকিত করে। গম্বুজ সরিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া প্রাঙ্গণে থাকা স্তম্ভের সাথে যুক্ত ছাতাগুলো খুলে দিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়। মসজিদের চারপাশের বাধানো স্থানেও নামাজ পড়া হয় যাতে ছাতাসদৃশ তাবু রয়েছে। জার্মান স্থপতি মাহমুদ বোদো রাশ্চ ও তার প্রতিষ্ঠান এই গম্বুজ ও ছাতাগুলো নির্মাণ করে।
জান্নাতুল বাকিমদিনা শহরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক কবর স্থান জান্নাতুল বাকি। এই কবরস্থান এর আরবি নাম মাকবারাতুল বাকি বা বাকিউল গারকাদ। এখানে মহানবি হযরত মুহাম্মদ সা. এর স্ত্রী, কন্যা আত্মীয় স্বজনসহ অনেক সাহাবির কবর রয়েছে। হাজিগণ মসজিদে নববি অবস্থানকালে জান্নাতুল বাকি তে গিয়ে ইসলামের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কবর জিয়ারত করে আসেন। আগে জান্নাতুল বাকির প্রতিটি কবরের ওপর বিশেষ স্থাপনা ছিল। কিন্তু সৌদ বংশ ক্ষমতাতে আসার পরে এই স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা হয়।

এজন্যই কবরস্থানটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মুহাম্মদ সা. এই কবরস্থানে বেশ কয়েকবার এসেছেন। জান্নাতুল বাকির পেছনে একসময় একটি ইহুদি কবরস্থান ছিল। পরবর্তীতে উমাইয়া আমলে তা জান্নাতুল বাকির অংশে পরিণত করা হয়।

আল গামামাহ মসজিদআল গামামাহ মসজিদ মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা. এর স্মৃতি বিজড়িত মদিনার প্রাচীন ঐতিহ্য সম্বলিত মসজিদ। খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজের রাজত্বকালে ৮৬ থেকে ৯৩ হিজরি মধ্যে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। মুহাম্মদ সা. ৬৩১ সালে এই মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছিলেন৷ পূর্বে এই মসজিদে নামাজ আদায় বন্ধ ছিল, তবে এখন মসজিদটিকে পুনরায় সকল মুসুল্লিদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। মদিনার প্রাচীন নিদর্শনসমূহের মধ্যে আল গামামাহ মসজিদ বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

১৬২২ সালে শরিফ সাইফুদ্দিন ইনাল আল-আলাই পুনরায় সংস্কার করেছিলেন। সুলতান আবদ-উল-মজিদের সময় ১৮৯৯ সালে অটোম্যান যুগের সময়, নতুন সরঞ্জাম ব্যবহার করে চেহারাটি আজকের আকারে কম-বেশি মিলত। এরপরে দ্বিতীয় সুলতান সুলতান আবদুল হামিদের সময়ে ও সৌদি সরকার পুনরায় এটি সংস্কার করে।
 

মসজিদে কুবা

মাসজিদে কুবা ইসলামের সর্বপ্রথম মসজিদ। মদিনার কুবা নামক গ্রামে এই মসজিদটি অবস্থিত। সম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে মসজিদে কুবার অবস্থান চতুর্থ। মক্কার মসজিদুল হারাম, মদিনার মসজিদে নববী এবং জেরুজালেমের মসজিদে আকসার পরেই মসজিদে কুবার অবস্থান। 

 
মহানবি হযরত মুহাম্মদ সা. এর মদিনা হিজরতের পর এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। মসজিদটির ভীত প্রস্তুত হয়েছিল মহানবি সা. এর হাত ধরেই। মহানবি হযরত মুহাম্মদ সা. বেশ কিছুদিন এখানে অবস্থান করেছিলেন। মহানবি হযরত মুহাম্মদ সা. এর স্মৃতি বিজড়িত এই মসজিদ দেখতে অনেক মুসুল্লি কুবা গ্রামে চলে যান।

মসজিদ আল কিবলাতাইন

ইসলামের ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য পূর্ণ মসজিদ হলো মসজিদ আল কিবলাতাইন৷ মদিনায় অবস্থিত এই মসজিদটির সাথে জড়িয়ে আছে কুরআনের বিশেষ কিছু আয়াত নাজিলের ইতিহাস। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা. এই মসজিদে যখন জামাআতের সাথে নামাজ আদায় করতে থাকেন তখন কিবলা পরিবর্তন করার জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আয়াত নাজিল হয়।

আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী তখনই জেরুজালেম এর দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে মক্কার দিকে কিবলা করা হয়। এজন্যই মসজিদটির নামকরণ হয়েছে মসজিদ আল কিবলাতাইন। মসজিদটির ১ টি গম্বুজ ও ১ টি মিনার আছে। এই মসজিদে একসাথে দুই হাজার মুসুল্লি জামাআতে সালাত আদায় করতে পারবে। মক্কায় হজ্জ করতে আসা হাজিগণ মসজিদে নববী পরিদর্শনের সময় মসজিদ আল কিবলাতাইন পরিদর্শন করতে ভুল করেন না।

উহুদ পাহাড়

ইসলামের ইতিহাসের তাৎপর্যময় উহুদের যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল যে পাহাড়ের ওপর সেই পাহাড়ই মূলত উহুদ পাহাড় নামে পরিচিত। মক্কার কুরাইশ বংশের এবং মদিনাবাসীর মধ্যে এই যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল।

 
এই যুদ্ধে প্রায় ৭০ জন সাহাবায়ে কেরাম শহিদ হয়েছিলেন। তাদের সকলের কবর এই উহুদের ময়দানেই অবস্থিত। হাজিগণ উহুদের যুদ্ধে শহিদ হওয়া সাহাবায়ে কেরামদের কবর জিয়ারত করতে উহুদ পাহাড়ে আসেন। 
উহুদ পাহাড়ের উচ্চতা উচ্চতা ১,০৭৭ মিটার বা ৩,৫৩৩ ফুট। উহুদ পাহাড়ের পেছনের দিকে আরেকটি ছোট পাহাড় আছে যার নাম লোকমুখে রুমার পাহাড় বলেই পরিচিত এর আসল নাম জাবালে রুমাত। উহুদ পাহাড় পরিদর্শন করতে আসলে রুমার পাহাড়ে ঘুরে আসতেও কেউ ভোলে না।
বাদশা ফাহাদ কোরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্সপৃথিবীর সবথেকে জনপ্রিয় কোনআন প্রিন্টিং প্রতিষ্ঠান বাদশা ফাহাদ কোরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স যা সৌদি আরবের মদিনা শহরে অবস্থিত। এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর কমপক্ষে প্রায় ১ মিলিয়ন কপি কুরআন প্রিন্ট করে। আরবি ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় কুরআন মুদ্রণ করা হয় এই প্রিন্টিং কমপ্লেক্সে।

 
তাছাড়াও মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা. এর জীবনী, বিভিন্ন তাফসির, হাদিস ও ইসলামিক বই মুদ্রন করা হয় এখানে। কখনও মদিনা শহরে যাওয়ার সৌভাগ্য হলে অবশ্যই এই প্রিন্টিং কমপ্লেক্স থেকে ঘুরে আসা উচিত। একসাথে হাজার হাজার কুরআন ছাপা হওয়ার দৃশ্য নিজ চোখে দেখা- এই সৌভাগ্য কজনের আছে।
কাহফে খুজায়াকাহফে খুজায়া একটি বিশেষ গুহা, যা প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর একটি দুঃখময় ঘটনার সাক্ষী। কাহফে খুজায়া গুহাটি মদিনা শহরে অবস্থিত। খন্দকের যুদ্ধের সময় মহানবী সা. এই গুহার ভেতরে আহত অবস্থায় এসে বিশ্রাম করেছিলেন। নবী প্রেমী মুসল্লিগন মদিনায় আসলে কাহফে খুজায়া গুহাটি নিজ চোখে দেখতে যান।

 মসজিদে জুমামদিনা শহরের মসজিদে কুবা থেকে ৯০০ মিটার উত্তরে এবং মসজিদে নববীর ৬ কিলোমিটার দক্ষিণে মসজিদে জুমা অবস্থিত। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা. মদিনা শহরে এসে প্রথম এখানে জুমুআার সালাত আদায় করেছিলেন পরবর্তীতে এখানে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। হাজিদের মূল আকর্ষণের একটি বিশেষ মসজিদ হলো মসজিদে জুমা। মদিনার মুনাফিকরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এই মসজিদটার পাশে আরেকটি মসজিদ স্থাপন করেছিল যা ‘মসজিদে জিরার’ নামে পরিচিত। পরবর্তীতে আল্লাহর নির্দেশে এই মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয় যার ধ্বংসস্তূপ এখনও সেখানেই রয়েছে।

ওয়াদিয়ে জ্বিন

ওয়াদি জ্বিন বিশেষ এক অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন উপত্যকা। মদিনা শহর থেকে ৩০/৪০ কিলোমিটার উত্তরে এই উপত্যকাটি অবস্থিত। এই উপত্যকার এক বিশেষ অলৌকিক ক্ষমতা রয়েছে। সাধারণত কোনো ঢালু জায়গায় পানি ঢাললে তা স্বভাবতই ঢালের দিকেই নামবে। কিন্তু ওয়াদি জ্বিন উপত্যকায় পানি ঢেলে দিলে তা ঢালের দিকে না গড়িয়ে উঁচু দিকে গড়িয়ে পড়ে। এই অসম্ভব বিষয়টিকে নিজ চোখে দেখার জন্য অসংখ্য দর্শনার্থী ওয়াদি জ্বিন উপত্যকায় ভীড় জমায়।

আল শাজারাহ মসজিদমদীনা থেকে মক্কা যাওয়ার পথে, ১২ কি.মি. দূরত্বে। যুল হুলাইফাতে অবস্থিত মীকাত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা যাওয়ার পথে এ মসজিদে সালাত আদায় করতেন। এখানেই মাদীনাবাসীদের ইহরাম বাধতে হয়

 খন্দক৫ হিজরি মুতাবেক ৬২৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয় খন্দক যুদ্ধ। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। জোট বাহিনীর সেনাসংখ্যা ছিল প্রায় ১০,০০০। সেসাথে তাদের ৬০০ ঘোড়া ও কিছু উট ছিল। অন্যদিকে মদিনার বাহিনীতে সেনাসংখ্যা ছিল ৩,০০০।

 
পারস্য থেকে আগত সাহাবি হযরত সালমান ফারসির পরামর্শে হযরত মুহাম্মদ সা. মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিকভাবে মদিনায় যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণকারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে।
জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কুরাইজা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের সুসংগঠিত অবস্থা, জোটবাহিনীর আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ব্যর্থ হয়। এ খন্দক খনন করা হয় মদিনার সীমানায়।  
মসজিদে বিলালমুসলিম উম্মাহর মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ সা. এর প্রিয় সাহাবি হযরত বেলাল-রা. এর নামে পবিত্র ভূমি মদিনা মুনওয়ারায় একটি মসজিদ রয়েছে। যা মসজিদে বেলাল রা. বা বেলাল মসজিদ নামে পরিচিত।

বেলাল মসজিদ সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি মসজিদ। রসুলের হাতে গড়া মসজিদে নববীর দক্ষিণ পাশেই এর অবস্থান। মসজিদে নববী থেকে মাত্র ৫ মিনিটেই ’জান্নাতুল বাকি’র সীমানা দিয়ে পায়ে হেঁটে ’বেলাল মসজিদে’ সহজেই যাওয়া যায়।

 সালমান ফারসি রা.-এর বাগানসালমান ফারসি রা. বলেন, রসুলুল্লাহ সা. আমাকে বললেন, ‘হে সালমান, তুমি (তোমার মালিকের সঙ্গে দাসত্ব মুক্তির ব্যাপারে) চুক্তি করো।’ আমি তার সঙ্গে ৩০০ খেজুরগাছের চারা ফলদায়ক হওয়া পর্যন্ত গর্তে পানি দেওয়া এবং চল্লিশ উকিয়া আদায় করার বিনিময়ে চুক্তি করলাম। এরপর রসুলুল্লাহ সা. সাহাবিদের বললেন, ‘তোমরা তোমাদের ভাইকে সাহায্য করো।’

সাহাবিরা আমাকে খেজুরগাছ (চারা) দিয়ে সাহায্য করলেন। এক ব্যক্তি ৩০টি চারা দিলেন, আরেকজন ২০টি। অন্যজন ১৫টি, আরেকজন ১০টি চারা দিলেন। অর্থাৎ, প্রত্যেকেই সামর্থ্য অনুযায়ী আমাকে সাহায্য করলেন। একপর্যায়ে আমার ৩০০ চারা হয়ে গেল। এরপর রসুলুল্লাহ সা. আমাকে বললেন, ‘হে সালমান, তুমি যাও এবং এগুলো রোপণ করার জন্য গর্ত খনন করো। যখন শেষ করবে, তখন আমার কাছে আসবে। আমি নিজ হাতে তা রোপণ করব।’ যে বাগানের কথা হাদিসে এসেছে, সে খেজুর বাগানটি এখনো রয়েছে। সে বাগানটিই দেখতে যান হাজিরা।

এছাড়াও আরো অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে মদিনায়। মদিনার কেন্দ্রীয় খেজুর মার্কেট, ইজাবা মসজিদ আবু বকর মসজিদ সাত মসজিদ নিয়ে গঠিত কমপ্লেক্স ইত্যাদি।

 

কিউএনবি/আয়শা/১১ জানুয়ারী ২০২৪,/সন্ধ্যা ৬:৪০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit