বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন

ইসলামের জন্য শ্রেষ্ঠ উৎসর্গ

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৬৮ Time View

ডেস্ক নিউজ : আখিরাতের কঠিন সময়ে আল্লাহর কাছে প্রতিদান ও সওয়াব লাভের আশায় নিজের অর্থ-সম্পদ, সময় কিংবা জীবন বিসর্জন দিয়ে আল্লাহর দ্বিনকে বিজয়ী ও প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করা হয় আরবিতে একে ’তাজহিয়া’ বলে। তাজহিয়া তথা দ্বিনের জন্য ত্যাগ স্বীকার বা আত্মোৎসর্গ করার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হলেন হজরত বেলাল বিন রাবাহ, মুসআব বিন উমায়ের, খাববাব ইবনুল আরাতসহ সকল সাহাবায়ে কেরাম এবং তৎপরবর্তী মনীষীগণ। তাদের ত্যাগ স্বীকারের ইতিহাসে রয়েছে আমাদের জন্য শিক্ষা ও সফলতা। নিম্নে দ্বিনের পথে আত্মোৎসর্গে বা ত্যাগ স্বীকারের কয়েকটি মাধ্যম উল্লেখ করা হলো—

স্বার্থ ত্যাগ করা

দ্বিনের জন্য নিজের পছন্দনীয় বস্তুটিকে অপরের জন্য বিসর্জন দেওয়ার অর্থই হলো স্বার্থ বিসর্জন।

পূর্ণাঙ্গ ঈমানের দাবি হলো অপর মুসলিম ভাইয়ের জন্য নিজের স্বার্থ ত্যাগ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সেই সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৩)

স্বার্থ ত্যাগের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হলেন সাহাবায়ে কেরাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরত করার পর আনসারদের সঙ্গে মুহাজিরদের ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দেন।

তখন আনসার সাহাবি সাদ বিন রাবি (রা.) আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রা.)-কে বলেছিলেন, ‘আনসারদের মধ্যে আমি সর্বাধিক সম্পদের অধিকারী। আমি আমার সম্পদকে দুই ভাগে ভাগ করে দেব।

আমার দুজন স্ত্রী আছে, আপনার যাকে পছন্দ হয় বলুন, আমি তাকে তালাক দিয়ে দেব। ইদ্দত শেষে তাকে আপনি বিয়ে করবেন।

ইবনু আওফ (রা.) তার আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়ে তার জন্য বরকতের দোয়া করলেন এবং ব্যবসার পথ বেছে নিলেন। (বুখারি, হাদিস : ৩৭৮০)
জীবন উৎসর্গ করা

একজন মানুষের কাছে সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ হলো নিজের জীবন। স্বল্প সময়ের এই জীবনকে ঘিরেই মানুষের বুকে নানা স্বপ্ন-আশা লালিত হয়। তার এই প্রিয় জীবনকে যখন আল্লাহর পথে উৎসর্গ করে, তখন সেটা হয় সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসর্গ। আল্লাহ বলেন, ‘মুমিনদের মধ্যে অনেকে আল্লাহর সঙ্গে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে।

তাদের কেউ মৃত্যুবরণ করেছে এবং কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে। আর তারা তাদের অঙ্গীকার আদৌ পরিবর্তন করেনি। (সুরা : আহজাব, আয়াত : ২৩)
হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সর্বোত্তম জীবন হলো সেই ব্যক্তির জীবন, যে আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য ঘোড়ার লাগাম ধরে থাকে। শত্রুর উপস্থিতি ও শত্রুর দিকে ধাবমান হওয়ার শব্দ শোনামাত্র ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয়ে দ্রুত বেরিয়ে পড়ে। যথাস্থানে সে শত্রুকে হত্যা এবং নিজ শাহাদাতের সন্ধান করে। (মুসলিম, হাদিস : ১৮৮৯)

অর্থ-সম্পদ উৎসর্গ করা

নিজের জীবন উৎসর্গের পাশাপাশি আল্লাহর পথে সম্পদ উৎসর্গ করা দ্বিন প্রতিষ্ঠার অন্যতম একটি মাধ্যম। মহান আল্লাহ জীবন ও রক্তের আগে সম্পদ উৎসর্গ করতে বলেছেন। কেননা জীবন চলে গেলে আল্লাহর পথে সম্পদ ব্যয় করার আর সুযোগ থাকে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা বেরিয়ে পড়ো অল্প সংখ্যায় হও বা অধিক সংখ্যায় হও এবং জিহাদ করো আল্লাহর পথে তোমাদের মাল দ্বারা ও জান দ্বারা। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা জানো। (সুরা তাওবা, আয়াত : ৪১)

সময় উৎসর্গ করা

সময় মানুষের অমূল্য সম্পদ। সময়ের সমষ্টিই জীবন। সময়ের মাঝেই মানুষ বেঁচে থাকে। যারা জীবনের অমূল্য সময়ের সদ্ব্যবহার করতে পারে, সফলতা তাদের পদ চুম্বন করে। সময়ের উৎসর্গ করে যারা জীবনের মুহূর্তগুলোকে আল্লাহর পথে পরিচালিত করে, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে মুক্তিপ্রাপ্ত হিসেবে গণ্য হয়। আল্লাহর পথে সময় উৎসর্গ করার ফজিলত বর্ণনা করে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর পথে একটি সকাল বা একটি সন্ধ্যা ব্যয় করা দুনিয়া ও তার মধ্যবর্তী সকল কিছুর চেয়ে উত্তম। (বুখারি হাদিস : ২৭৯২)

তা ছাড়া আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন ইবাদতে বান্দা যে সময় ব্যয় করে, সেটাও সময়ের উৎসর্গ হিসেবে গণ্য হয়। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘আমি তাদের প্রত্যাদেশ করেছিলাম সৎকর্ম করতে, নামাজ আদায় করতে এবং জাকাত প্রদান করতে। আর তারা আমারই ইবাদত করত।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৭৩)

এই আয়াতে আল্লাহ বান্দাকে সময়ের কোরবানি করে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন এবং জাকাতের মাধ্যমে সম্পদের একটি অংশ উৎসর্গ করতে বলেছেন।

শ্রম বিসর্জন দেওয়া

দ্বিন প্রতিষ্ঠায় কখনো নিজের শারীরিক বা মানসিক পরিশ্রমের প্রয়োজন পড়ে। তখন আল্লাহর পথে শ্রম বিসর্জন দেওয়া মুমিন বান্দার কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। খন্দকের যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরাম যে মেহনত করেছিলেন, তা ইতিহাসের পাতায় অমলিন হয়ে আছে। এ সময় পরিখা খননের কাজে মাটি বহন করার কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শরীর ধূলি-ধূসরিত হয়েছিল। (বুখারি, হাদিস : ৪১০৪)

মসজিদে নববী নির্মাণের সময়ের ঘটনা। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, মসজিদে নববী নির্মাণের সময় আমরা মাথায় একটি করে ইট বহন করছিলাম। আর আম্মার বিন ইয়াসির (রা.) একটির বদলে দুটি করে ইট বহন করছিলেন। এ দৃশ্য দেখে রাসুলুল্লাহ (সা.) আম্মারের মাথার ধুলা ঝেড়ে দিয়ে বলেন, ‘হে আম্মার, তুমি কি তোমার বন্ধুদের মতো একটা করে ইট বহন করতে পার না? তখন আম্মার (রা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর নিকট থেকে অধিক নেকি কামনা করি।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১১৮৭৯)

কিউএনবি/অনিমা/০৯ জানুয়ারী ২০২৪/রাত ৯:৫১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit