সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ন

ইসলাম ও ইংরেজি নববর্ষ

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ১৪৩ Time View

ডেস্ক নিউজ : মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সৃষ্টির সেরা মানবরূপে সৃষ্টি করার পর ইমানের বলে বলীয়ান করেছেন। তিনি আমাদের শ্রেষ্ঠ নবী সায়্যেদুল মুরসালিন খাতামুন্নাবিয়্যিন মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত হিসেবে নির্বাচন করেছেন। আমরা মুসলমান। আমাদের পরিচয় হলো, আমরা আমাদের নবী (সা.)-এর প্রকৃত অনুসারী। আমাদের ধর্ম ইসলাম। ইসলামের প্রতিটি শাখা-প্রশাখা জেনে আমলে রূপান্তরিত করাই ইসলামের দাবি। নবীজীর উম্মত হিসেবে তিনি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত বাতলিয়ে গেছেন। পবিত্র কোরআনে সূরা আলে-ইমরানের ১০২নং আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে, ‘হে মুসলমান! অন্তরে আল্লাহকে সেভাবে ভয় কর, যেভাবে তাকে ভয় করা উচিত। সাবধান অন্য কোনো অবস্থায় যেন তোমাদের মৃত্যু না আসে। বরং এই অবস্থায় যেন তোমাদের মৃত্যু আসে যে, তোমরা মুসলমান।’ আলোচ্য আয়াতে আল্লাহতায়ালা একটি মূল নীতির আলোকপাত করেছেন, তা হলো তাকওয়া বা আল্লাহর ভয় অর্থাৎ তাঁর অপছন্দনীয় কাজকর্ম থেকে সম্পূর্ণরূপে বেঁচে থাকা। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, তাকওয়ার অর্থ হলো, প্রত্যেক কাজকর্মে আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশ করা। জীবনের প্রতিটি স্তরে আল্লাহকে হাজের নাজের মনে করা। কখনো আল্লাহকে ভুলে না যাওয়া। (বাহরে মুহিত) বস্তুত আল্লাহর ভয় ওই ব্যক্তির ভিতরে থাকে, যার মধ্যে এত্তেবায়ে সুন্নত তথা সুন্নতের অনুসরণ আছে। আর সুন্নতের মহব্বত তখনই আসবে যখন মুসলমান জীবনের সর্বক্ষেত্রে অর্থাৎ পোশাকে-লেবাসে, চলনে-বলনে রসুল (সা.)-এর ভালোবাসা অন্তরে স্থান দেবে। আল্লাহর দেওয়া হায়াতকে তার মালিকানাধীন জমিনে তাঁর মর্জি মোতাবেক পরিচালনা করার নামই হলো আনুগত্য। এখন যদি মানবজাতি এ বিষয়টিকে বিবেক-বুদ্ধি, বিচার-বিশ্লেষণ করে অনুধাবন না করে, তাহলে একদিন আল্লাহর কাছেই মানব জাতির ফিরে যেতে হবে এবং তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব নেবেন। তখন তারা কি উত্তর দেবে? সময় থাকতে নিজের খালেককে চিনে তার মর্জি মোতাবেক জীবন পরিচালনা কর। সময় যখন চলে যাবে, শত আহাজারি ও কান্নাকাটি করার পরেও সে সময় আর ফিরে আসবে না। যায় দিন কখনো ফিরে আসে না। অন্য কবি কত সুন্দর বলেছেন— তুমি যেমন ইচ্ছা তেমন কর (মন চাহে জিন্দেগি চালাও)।

জান্নাতও আছে, দোজখও আছে, বিশ্বাস না হলে মরে দেখ। বিশ্ব শান্তি একমাত্র আল্লাহর একাত্ববাদের বিশ্বাস ও তদানুযায়ী জীবন পরিচালনা করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। পবিত্র কোরআনের অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা ইসলামে তথা শান্তির ধর্মে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ কর।’ (সূরা বাকারা : ২০৮) পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করা বলতে আমরা কি বুঝি? কোনো ব্যক্তি যদি আপন গৃহে প্রবেশ করে তখন সে পুরা দেহ নিয়েই প্রবেশ করে। যদি সে শুধু পদযুগল প্রবেশ করে বাকি দেহ প্রবেশ করালো না। তাহলে তাকে পূর্ণ প্রবেশকারী বলা হবে না। আলোচ্য আয়াতে আল্লাহতায়ালা মুমিন-মুসলমানদের উদ্দেশ করে বলছেন তোমরা যখন শান্তির ধর্ম ইসলামে প্রবেশ করেছ তখন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের বিধিবিধান মেনে চল। এমন যাতে না হয় নিজের সুবিধামতো ইসলামের বিধিবিধান মানলে, আর মন চায় না তো মানলে না। তা হবে না। ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করতে হলে, ইসলাম কি? ইসলাম কি শিক্ষা দেয়? কোরআন ও হাদিস চর্চা করে সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তখন দেখা যাবে ইসলাম সম্পর্কে যেসব ভ্রান্ত ধারণা সমাজে প্রচলিত আছে তা সমূলে দূর হয়ে যাবে। মুমিনরা এক আল্লাহর ওপর বিশ্বাস করে। তার রেজামন্দি হাসিলের জন্য দিনরাত ইবাদতে মগ্ন থাকে। পারস্পরিক লেনদেন, আচার-আচরণ এবং স্বভাব-চরিত্র প্রকাশ করার মাধ্যমেও আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে। হজরত রসুলে আরাবি (সা.) তাঁর প্রিয় সাহাবি হজরত আনাস বিন মালেক (রা.)কে বললেন, হে আনাস! তোমার পক্ষে যদি সম্ভব হয়, তুমি সকাল-সন্ধ্যা এমনভাবে অতিবাহিত করবে যে, তোমার অন্তরে কারও প্রতি কোনোরূপ বিদ্বেষ থাকবে না। তাহলে তুমি তাই কর। (এটাই তোমার জন্য কল্যাণকর)। কারণ এমন ধারণা পোষণ করা আমার সুন্নত। যে আমার সুন্নতকে জিন্দা করে সে যেন আমাকেই ভালোবাসে। আর যে আমাকে ভালোবাসে সে পরকালে আমার সঙ্গে জান্নাতে থাকবে। প্রকৃত মুসলমান তো সেই, যার ভিতরে ইমানি চেতনা আছে, সে কখনো নিজস্ব স্বকীয়তা বাদ দিয়ে অন্যের কৃষ্টি-কালচার, সভ্যতা-সংস্কৃতি ও রুসুম-রেওয়াজ গ্রহণ করতে পারে না। ইসলাম যেহেতু উগ্রতা, বেহায়া ও বেলাল্লাপনাকে সাপোর্ট করে না, তাই মুসলমানরা কখনো ইংরেজি নববর্ষ ও থার্টিফার্স্ট নাইটের মতো অনুষ্ঠানমালায় গা ভাসাতে পারে না। পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে জাঁকজমকের সঙ্গে এ ধরনের অনুষ্ঠান পালিত হয়। তা দেখাদেখি আমাদের দেশেও ইংরেজি নববর্ষ ও থার্টিফার্স্ট নাইট পালনের মচ্ছব শুরু হয়েছে। যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মুসলমান হিসেবে আমাদের আছে নিজস্ব মূল্যবোধ আমরা কেন অন্যের সভ্যতার দিকে নিজেদের ঠেলে দেব?  আমাদের কি আত্মমর্যাদাবোধ নেই?

এই বিষয়গুলো বিচার-বিশ্লেষণ করে আমাদের সামনে পথচলা উচিত। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সব ধরনের অন্যায়-অনাচার ও অমুসলিমদের সভ্যতা গ্রহণ করা থেকে মুক্ত রাখুন। আমিন।

কিউএনবি/অনিমা/০৫ জানুয়ারী ২০২৪,/রাত ৯:০০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit