রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন

স্বপ্নে নামাজ পড়তে দেখলে কী হয়

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৩
  • ৭২২৮ Time View

ডেস্ক নিউজ : প্রত্যেক ব্যক্তির নামাজ পড়া একান্ত প্রয়োজন। নামাজ না পড়লে আখিরাতে ও দুনিয়ায় প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। নামাজ কারো জন্য মাফ নেই। কোনো অবস্থায়ই নামাজ বাদ দেয়া জায়েজ নেই। রুগ্ন, খোঁড়া, বধির, অন্ধ, আতুর, বোবা যে যে অবস্থায় আছে সেই অবস্থায়ই নামাজ আদায় করতে হবে। এ জন্য অনেক সময় মুমিন নামাজ স্বপ্ন দেখেন। 

মুমিন ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা অনেক সময় স্বপ্নের মাধ্যমে সতর্ক করেন। আবার স্বপ্ন কখনও শয়তানের পক্ষ থেকেও হতে পারে। স্বপ্নের মাধ্যমে আল্লাহ বান্দাকে অনেক ধরনের বার্তা দিয়ে থাকেন। স্বপ্নে নামাজ পড়তে দেখলে আপনি এ বিষয়ে মনোযোগী হওয়া দরকার। আপনার যদি নামাজ কাজা থাকে আদায় করে নিন। আর যদি নামাজ নিয়মিত না পড়ে থাকেন, নিয়মিত আদায় করুন।
 
যদি কেউ দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে দেখে তাহলে তার জীবনে রহমত ও সুখ নেমে আসেব। শুয়ে নামাজ পড়তে দেখলে তার মৃত্যু খুব শিগগিরই এসে গেছে। যদিও এ ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। যদি কেউ নামাজ বসে পড়তে দেখে তাহলে সে দ্রুতই রোগাক্রান্ত হতে পারে। যদি কেউ পূর্ব দিকে ফিরে নামাজ আদায় করতে দেখে তাহলে তার ওপর যদি হজ ফরজ হয়ে থাকে তাহলে হজ করে নেয়া উত্তম। 
 
যদি পশ্চিম দিকে কেউ নামাজ পড়তে দেখে তাহলে ধর্মের দিক দিয়ে সে উদাসীন হয়ে আছে তাকে সতর্ক করা হচ্ছে। যদি নামাজ কোনো বড় জামাতের সঙ্গে পড়তে দেখে তাহলে তার নিকট আল্লাহর রহমত অবিরত পড়তে থাকবে। আর যদি নিজেই ইমামতি করতে দেখে তাহলে জাতীয় নেতৃত্ব লাভ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব ব্যাখ্যাই হলো সম্ভাবনাময় ব্যাখ্যা। এসব বিষয়ে সুনিশ্চিতভাবে একমাত্রই আল্লাহই বলতে পারেন।

স্বপ্ন দুই ধরনের

বিখ্যাত হাদিস বিশারদ ইবনে হাজার আসকালানি রহ. বলেন, ‘মানুষ যত স্বপ্ন দেখে তা মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে। সত্য স্বপ্ন। অসত্য স্বপ্ন। সত্য স্বপ্ন নবীদের ও তাদের অনুসারী নেককার লোকদের স্বপ্ন। দ্বিতীয় প্রকার হলো মিশ্র ধরনের মিথ্যা স্বপ্ন, যা কোনো ব্যাপারে সতর্ক করে। যেমন, শয়তানের খেলা যা দিয়ে কাউকে ভারাক্রান্ত করে তোলে। ফলে সে দেখে যে তার মাথা কেটে ফেলা হয়েছে। সে সেই কাটা মাথার অনুসরণ করছে; অথবা সে এমন কোনো সংকটে পড়েছে যা থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য কোনো সাহায্যকারী পাচ্ছে না। কিংবা সে দেখল যে, ফেরেশতারা তাকে কোনো হারাম কাজ করতে বলছে; অথবা এসব বিষয় যা সাধারণত অর্থহীন। এসব অর্থহীন স্বপ্ন। (ফাতহুল বারি ১২/৩৫২)

আল্লাহ ভালো স্বপ্ন দেখান

সত্য ও ভালো স্বপ্ন দেখলে আল্লাহর পক্ষ থেকে মনে করা ও আল্লাহর শুকরিয়া করা। আর মন্দ স্বপ্ন দেখলে শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা। হজরত আবু সাঈদ খুদরি রা. বলেন, নবী করিম সা. বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যদি এমন কোনো স্বপ্ন দেখে, যা সে পছন্দ করে, তাহলে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। 

সুতরাং তার উচিত আল্লাহর প্রশংসা আদায় করা ও অন্যদের স্বপ্ন সম্পর্কে বলা। কিন্তু সে যদি এমন স্বপ্ন দেখে যা সে অপছন্দ করে তাহলে তা শয়তানের পক্ষ থেকে। সুতরাং তার উচিত এর ক্ষতি থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া। কাউকে এ স্বপ্ন সম্পর্কে না বলা। এমন করলে তার কোনো ক্ষতি হবে না।’ (বুখারি ৬৫৮৪; মুসলিম ৫৮৬২)

নবীজি যেভাবে স্বপ্নের কথা বলতেন

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের পরপর সাহাবায়ে কেরাম থেকে স্বপ্ন শুনতেন। তার তাবির বা ব্যাখ্যা বর্ণনা করতেন। কেউ স্বপ্নের ব্যাখ্যা বা তাবির জানতে চাইলে তার জন্য স্বপ্ন বলার উত্তম সময় এটিই। কেননা, এতে স্বপ্ন দেখা ও বলার মাঝে সময়ের ব্যবধান কম থাকে। ফলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। (উমদাতুল কারি ২৪/১৭১; ইরশাদুস সারি ১৪/৪৯০; ফাতহুল বারি ১২/৪৫৮)

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৪ নভেম্বর ২০২৩,/বিকাল ৪:০৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit