ডেস্ক নিউজ :কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আত্মত্যাগের এক অনন্য উপমা। কোরবানির দিনসমূহে প্রত্যেক সাহেবে নেসাবের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। কোরবানির মাধ্যমে পার্থিব ও পরকালীন প্রভূত কল্যাণ অর্জিত হয়। সেই সঙ্গে আল্লাহভীতি অর্জন, অসহায়-দরিদ্রদের সহায়তা ও আত্মত্যাগ প্রকাশের সুযোগ আসে কোরবানির মৌসুমে।
ইসলামের অন্য ইবাদতগুলোর মতো কোরবানি সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও মাসয়ালা জেনে নেওয়া কোরবানিদাতার একান্ত কর্তব্য। অন্যথা কোরবানির প্রকৃত পুরস্কার-প্রাপ্তি ও কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হতে হবে।
কোরবানির পশু জবাই প্রসঙ্গে
কোরবানির পশু নিজে জবাই করা উত্তম। তবে অন্যকে দিয়েও জবাই করাতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কোরবানি দাতা পুরুষ হলে জবাইস্থলে তার উপস্থিত থাকা ভালো। ফাতোয়ায়ে শামি : ৫/২৭২
জবাইয়ের সময় কোরবানির পশুর কণ্ঠনালি, খাদ্যনালি এবং দুই পাশের মোটা দুটি রগের মধ্যে যেকোনো একটিসহ মোট তিনটি কাটতে হবে। যদি দুটি কাটা হয় তাহলে কোরবানি ও জবাই শুদ্ধ হবে না। হেদায়া : ৪/৪৩৭
দক্ষ ও পারদর্শী লোকের মাধ্যমে দ্রুত জবাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা। জবাই করার আগে ছুরি ভালোভাবে ধার দেওয়া। জবাই করার সময় ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলা। কোরবানির পশুকে এমনভাবে জবাই করবে, যাতে পশুর কোনো প্রকার অপ্রয়োজনীয় কষ্ট না হয়। জবাইকারীর সঙ্গে যদি অন্য কেউ ছুটি চালানোর কাজে সাহায্য করে, তাহলে তার জন্যও ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলা ওয়াজিব। অন্যথায় কোরবানি সহিহ হবে না এবং জবাইকৃত পশুও হালাল হবে না। ইমদাদুল ফাতোয়া : ৩/৫৪৭
জবাইয়ের পর পশু পুরোপুরি নিস্তেজ হওয়ার পূর্বপর্যন্ত তার চামড়া খসানো বা অন্য কোনো অঙ্গ কাটা উচিত নয়। আদ দুুররুল মুহতার : ৬/২৯৬
অনেক সময় দেখা যায়, জবাইয়ের পর পশুকে দ্রুত নিস্তেজ করতে ছুরি বা চাকুর ধারালো আগা দিয়ে জবাইয়ের স্থানে আঘাত করা হচ্ছে। এটা পশুর প্রতি অমানবিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ। তাছাড়া এর মাধ্যমে পশুর স্বাভাবিক মৃত্যু ব্যাহত হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এটাকে একরকম ‘হত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তারা বলেন, পশু জবাইয়ের পর যে স্থানে তীক্ষ্ণ ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়, সেটি মূলত ‘মেরুরজ্জু বা স্পাইনাল কর্ড’-এর অংশ। ছুরির আঘাতে পশুর স্পাইনাল কর্ড বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেই পশুর দেহ থেকে মস্তিষ্কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে পশুটি হার্ট অ্যাটাক করে এবং মারা যায়। অথচ পশু জবাইয়ে ইসলামের নির্দেশনা হলো উত্তম পন্থা অবলম্বন করা।
হজরত শাদ্দাদ ইবনে আউস (রা.) বর্ণিত এক হাদিসের হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা সবকিছুর ওপর অনুগ্রহকে অপরিহার্য করেছেন। অতএব, তোমরা কাউকে (শরিয়ত মোতাবেক হদ বা কিসাস হিসেবে) হত্যা করবে, উত্তম পদ্ধতিতে করবে। যখন (পশু) জবাই করবে, উত্তম পদ্ধতিতে করবে এবং প্রত্যেকে তার ছুরিতে শান দিয়ে নেবে, যাতে জবাইকৃত পশুকে কষ্টে না ফেলে। সহিহ মুসলিম : ১৯৫৫
-কোরবানির পশু জবাই করে পারিশ্রমিক দেওয়া-নেওয়া জায়েজ। তবে কোরবানির পশুর কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া যাবে না। কিফায়াতুল মুফতি : ৮/২৬৫
কিউএনবি/অনিমা/২৮ জুন ২০২৩,/দুপুর ২:২১