বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ন

পাহাড়ি অঞ্চলে পান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন খাসিয়া জনগোষ্ঠী

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৩ মার্চ, ২০২২
  • ৮৮ Time View

 

আমিনুর রশীদ চৌধুরী রুমন, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোণ ইউনিয়নে ৬ নং, ১১ নং ও ১২ নং খাসিয়া পুঞ্জিতে পরিদর্শন করে দেখাগেছে খাসিয়া জনগোষ্ঠী’র অবস্থান। ১২ নং পুঞ্জিতে ৩০ পরিবার আছে, ৬ নং পুঞ্জিেত ১৮ পরিবার, প্রতি পরিবারে প্রায় ৫ জন করে সদস্য আছে। ঋতুরাজ বসন্তের রঙিন আমেজ যেন সহস্র মনের কোণে খাসিয়া পুঞ্জিতে দেখা গেছে পান সংগ্রহ করে জীবিকা চালাচ্ছেন । এ আদিবাসী গুলোর মধ্যে একজন করে মন্ত্রী প্রদান করা হয়। এবং তার সিদ্ধান্তে পুঞ্জি পরিচালনা করা হয়, সবুজ শ্যামল এই দৃশ্যপটে পাহাড়ি অঞ্চলে পান সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

প্রতিটি পুঞ্জিতে আদিবাসীরা ১০ তেকে ২০ বছর যাবত বসবাস করে আসছেন। প্রত্যেকটি ঘরবাড়ি পাহাড়ের টিলার ওপর মাটি ও টিন দিয়ে তৈরি করা তবে এখন দেখাগেছে নতুন আঙ্গিনায় সেজে উঠেছে কিছু পাকা দালান। এখানে পান সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করছেন। খাসিয়া পুরুষ জনগোষ্ঠীর দিনে সকাল ৭ টা থেকে বিকেল ৩ ঘটিকা পর্যন্ত পান সংগ্রহ করেন এবং প্রত্যেক ঘরে মহিলারা এ পান ভালোভাবে পরিস্কার করে তা বাজারজাতের জন্য সরবরাহ করেন । খাসিয়া জনগোষ্ঠী প্রচলিত একটা দ্বারাছিলো যা পরিবারের মেয়েকে বিয়ে দিলে, ছেলের বাড়িতে না গিয়ে মেয়ের বাড়িতে থাকতে হয় । এটা খাশিয়া সম্প্রদায় প্রচলিত। তবে এখন কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে বলে জানান স্থানীয় মন্ত্রী ক্রৃন প্রতাব, তিনি জানিয়েছেন যদি ছেলের পারিবারিক অবস্থা ভালো থাকে তাহলে মেয়েকে ছেলের বাড়িতে রাখা যায়। তবে এ বিষয় তাদের পরিবারের সিদ্ধান্ত এবং সবার সম্মতি ক্রমে তা পালিত হয়।

এখানে প্রার্থনা করার জন্য দেখাগেছে গির্জাঘর, সেই গির্জায় প্রার্থনা করেন খাসিয়া জনগোষ্ঠী, সপ্তাহে দুইবার শনিবার ও রবিবার। সকাল ১০ টা থেকে শুরু করে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত প্রার্থনা করা হয়। এছাড়াও দেখাগেছে ছোট শিশুরা বিদ্যালয় পড়াশোনা করছেন। পুঞ্জির পাশ দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত । শ্রীমঙ্গলের হোসনাবাদ খাসিয়া পুঞ্জির সিঁড়ি বানানোর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র কার্যালয়ে অর্থ বছরের ২০১৯-২০২০ বাস্তবায়ন করা হয়। এতে বাস্তবায়নে ছিলেন, উপজেলা প্রশাসন শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার। জানাগেছে ৭ টি পুঞ্জিতে পাহাড়ের ওপর দিয়ে যাতায়াত করার জন্য সিঁড়ি বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদিবাসীদের মহিলারা যে কাপড় পরেন তার নাম ডেকিয়ান এবং পুরুষরা ফতুয়া পরে থাকেন ।

এখানে জীবিকা নির্বাহের জন্য যে পান বিক্রি করেন। ১৪৪ টা পান থাকে এক কান্তায়, ১২ ছলিতে ১ একান্তা থাকে এবং ২০ কান্তায় ১ বি, ১ বি বর্তমান বাজার ধর প্রায় ৭৫০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়। এ পানের কোয়ালিটি হিসেবে দাম নির্ণয় করা। প্রতিদিন এক এক পরিবার ১ বি পান সরবরাহ করে বিক্রি করেন, জানাগেছে পান তাদের কে শরহরে নিয়ে যেতে হয় না, বাজারের পানের আরতদার মালিক পক্ষ এখানে এসে পাইকার ধরে কিনে নিয়ে যান। এছাড়াও এরা পানের পাশাপাশি সুপারি, লেবু,কলা,কাঠাল, আনারস, এই সকল ফলমূল সিজন্যাল সময়ে উৎপাদন করা বিক্রি করেন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৩শে মার্চ, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/রাত ৮:৫০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit