আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ পুরস্কার বা ‘মাথার দাম’ ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইরান।
এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে ধর্মীয় ফতোয়া বা প্রচারণার মাধ্যমে এমন হুমকি দেওয়া হলেও, এবারই প্রথম বিষয়টিকে আনুষ্ঠানিক সংসদীয় আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ইরান মনে করে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির যে বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন, তার পেছনে ট্রাম্প, নেতানিয়াহু এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সরাসরি দায়ী। জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের আরেক সদস্য মাহমুদ নাবাবিয়ানও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই এই বিলটির ওপর ভোট হবে।
এদিকে, এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি প্রস্তাবের খসড়া বিনিময় চলছে। তবে মার্কিন প্রশাসন এই প্রস্তাবকে যথেষ্ট ইতিবাচক মনে করছে না। একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনার টেবিলে খুব একটা অগ্রগতি হচ্ছে না এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি কার্যকর আলোচনা চাইছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও বোমাবর্ষণের মাধ্যমে জবাব দেওয়া হতে পারে।
ইরানি গণমাধ্যম জানায়, শান্তিচুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু কঠিন শর্ত দিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধক্ষতিপূরণ না দেওয়া, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করা এবং মাত্র একটি পারমাণবিক স্থাপনা সচল রাখা। এর বিপরীতে ইরান শর্ত দিয়েছে— লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করা। তবে আলোচনার এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে তেল নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্য দিকে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি এবং অর্থনৈতিক অবরোধ নিয়ে ইরানের ভেতরে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় ইরানের গ্যাসক্ষেত্র, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ইস্পাত কারখানাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, ইরান যদি দ্রুত শান্তি চুক্তিতে না আসে তবে তাদের আর অস্তিত্ব থাকবে না।
একই সময়ে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জরুরি নিরাপত্তা বৈঠকের অজুহাতে তার চলমান ফৌজদারি মামলার শুনানি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। ট্রাম্পের সাথে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ফোনালাপের পর নেতানিয়াহুর এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় যুদ্ধ শুরুর জল্পনাকে উস্কে দিয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ইরান যেকোনো মুহূর্তে আগাম হামলা চালাতে পারে— এমন আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ।
কিউএনবি/আয়শা/ ১৯ মে ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৪০