রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন

ফুটবল নয়, এ যেন রূপকথা

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
  • ২৫ Time View

ডেস্কনিউজঃ এক আত্মঘাতী গোলে মেসির ভাগ্য বদলে গেল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে যে ক’টি খেলা স্মরণীয় হয়ে থাকবে কেপ ভার্দে-আর্জেন্টিনা ম্যাচ তার একটি। অনেকেই ভেবেছিলেন, পুঁচকে কেপ ভার্দে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ই আসতে পারবে না। মাত্র পাঁচ লাখ ৩০ হাজার মানুষের এই দ্বীপরাষ্ট্রটি ফুটবলে যে এতোটা এগিয়েছে—তা কল্পনাতীত। আফ্রিকা কাপ অব ন্যাশনসে অনেকবারই এই ব্লু শার্করা ঝড় তুলেছে। আজকের খেলায় দু’বার পেছন থেকে তারা আর্জেন্টিনার সঙ্গে যেভাবে লড়াই করেছে—তা ছিল রোমাঞ্চকর, অবিশ্বাস্য। বিবিসির স্প্যানিশ ফুটবল রাইটার এলিজাবেথ কন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, কেপ ভার্দের লড়াই দেখে তিনি তাদের ফ্যান হয়ে গেছেন। ভাবা যায় এই নীল হাঙর ২৮ মিনিট পর্যন্ত মেসিদের গতিরোধ করেছিল! তবে ২৯ মিনিটের মাথায় মেসির গোলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায়।

খেলার ভাগ্যটা তখন অনেকেই মনে করেছিলেন এখানেই বুঝি শেষ। কিন্তু কেপ ভার্দে গোল পরিশোধ করে সব হিসাব পাল্টে দেয়। আর্জেন্টিনা চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। বিশেষ করে মেসি। গোলরক্ষক ভোজিনিয়া আসলেই এক অপ্রতিরোধ্য দেয়াল রচনা করেন। খেলা চলতে থাকে। বলের নিয়ন্ত্রণ অনেকটা আর্জেন্টিনার কাছে। এর মধ্যেই আবার ৯৩ মিনিটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ এক জটলা থেকে গোল করে বসেন। গোলটি ছিল অনেকটাই অপ্রত্যাশিত। তখন অনেকেই মনে করেছিলেন কেপ ভার্দে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। সে কি আর হয়! ঠিক কয়েক মিনিট বাদেই সিডনি লোপেস কাবরালের গোলে কেপ ভার্দে খেলায় ফিরে আসে। নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় । কাবরালের গোলটি ছিল অপূর্ব। যেভাবে তিনি গোলটি করলেন তা রীতিমতো বিস্ময়কর। এ যেন মেসিদের কাছে আকাশ ভেঙে মাথায় পড়ার মতো। কী যে গোল! চলুন আরেকবার দেখে আসি। এই গোলের পর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কপালে ভাজ। কোচ স্কালোনির মুখের দিকে তো তাকানোই যাচ্ছিল না। তখন মাঠের অবস্থা যা ছিল তাতে মনে হচ্ছিল— এটা শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি শুটআউটে যাবে। তখনই রোমেরোর হেড থেকে বল কেপ ভার্দের বোর্জেসের হাতে লেগে চলে যায় জালে ।

অসহায় ভোজিনিয়া শুধু তাকাচ্ছিলেন। আসলে এই লড়াইয়ের সমাপ্তি এভাবে হবে ভাবেননি কেউ। কিন্তু আর্জেন্টিনা সারাক্ষণই বুঝেছে— কত ধানে কত চাল। আজকের লড়াইয়ে ফুটবলের পরাশক্তি আর্জেন্টিনা জয় পেয়েছে বটে। কিন্তু আসল জয়ী কেপ ভার্দে। বিশেষ করে গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ফুটবল যেহেতু গোলের খেলা। গোল নেই, ইতিহাসে আপনার নামও নেই। তবে এই খেলাটিকে ঘিরে শুধু মায়ামি স্টেডিয়ামে নয়, ফুটবল বিশ্বে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। কেপ ভার্দে লড়াই করেছে। এই লড়াইয়ের কথা অনেকদিন মনে থাকবে। এরকম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা সমসাময়িককালে হয়েছে—রেকর্ড এমনটা বলে না। কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে আসলেই এক রূপকথা। ৭ই জুলাই আটলান্টায় আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে মিশর।

কিউএনবি/বিপুল/০৪.০৭.২০২৬/রাত ৯.০২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit