সুবীর ভৌমিক পূর্ব ভারতে বিবিসি ও রয়টার্সের সাবেক প্রতিনিধি। তিনি উত্তর-পূর্ব ভারত ও বাংলাদেশ নিয়ে লেখালেখি করেছেন। দীর্ঘকাল বিবিসিতে কাজ করার পর বাংলাদেশের বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সিনিয়র এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি কাজ করেছেন মিয়ানমারের মিজিমা মিডিয়াতে। কিন্তু তিনি সাংবাদিক হিসাবে বিতর্কিত একজন মানুষ।
সুবীর ভৌমিক সম্পর্কে লিখতে গেলে শের-ই -বাংলা এ,কে ফজলুল হকের একটি কথা মনে রাখতে হবে। তিনি ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বলেছিলেন দাদারা যদি আমার খুব প্রশংসা করে তাহলে বুঝতে হবে আমি সঠিক পথে নেই। আর দাদারা যদি আমাকে খুব গালিগালাজ করে তাহলে মনে করবেন আমি সঠিক পথেই কাজ করে যাচ্ছি। এই দাদা বলতে তিনি ভারতীয়দের বুঝিয়েছেন।
আজ সুবীর ভৌমিকের প্রলাপ মিশ্রিত একটি ভিডিও বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়াতে ছেড়েছেন। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্পর্কে আপত্তিকর, অর্বাচীন কিছু কথা বলেছেন। সুবীর ভৌমিকের কথা শুনে মনে হয়েছে প্রায় ৯০ বছর পূর্বে শের-ই -বাংলা এ,কে ফজলুল হকের কথার সূত্র ধরে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রাইট ট্রাকেই আছেন।
সুবীর ভৌমিক অর্বাচীন, অসত্য,উদ্ভট কথা শুধু এখুনি বলছে তা নয়। বরাবরই তিনি বাংলাদেশ বিরোধী ভূমিকা পালন করে গেছেন। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ভাঙতে সুবীর ভৌমিকের ভূমিকা সম্পর্কে ২০১৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম -মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্পষ্ট কিছু কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর এসএসএফের কয়েক সদস্যের ‘হামলার চক্রান্ত’ এবং আইএসআইয়ের সঙ্গে খালেদা জিয়ার ‘যোগাযোগ’ কল্পকথা বলে দাবি করেছিলেন তিনি । রিজভী বলেছিলেন, ‘সুবীর ভৌমিক গাঁজাখুরি গল্প সাজিয়ে তারপর সেটিকে বিভিন্ন মিডিয়ায় রিসাইকেল করে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে ফেলতে চাচ্ছে।”
০৪ অক্টোবর ২০১৭ সালে সাংবাদিক মাসুদ কামাল তার একটি প্রকাশিত নিবন্ধে সুবীর ভৌমিককে ঘাসকাটা সাংবাদিক হিসাবে উল্লেখ করেছিলেন।
‘দ্য ইস্টার্ন লিংক’ একটি ভুঁইফোড় নিউজ পোর্টাল, মাত্র ৫ বছর আগেও যার নাম কেউ শোনেনি বললেই চলে। কিন্তু এই নিউজ পোর্টালটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করার মরিয়া চেষ্টায় যেভাবে ইদানীং আদাজল খেয়ে নেমেছে, তাতে আচমকাই এটি বাংলাদেশ বা ভারতে এক ধরনের নেতিবাচক প্রচার পেয়ে গেছে বলা চলে। এই পোর্টালটির নেপথ্যে আছেন কলকাতাভিত্তিক সুবীর ভৌমিক, যাকে অনেকে ‘ভাড়াটে সাংবাদিক’ বলেও মনে করে থাকেন।
সুবীর ভৌমিককে প্রকৃত একজন সাংবাদিক হিসাবে কখনোই কেউ স্বীকৃতি দেয়নি। উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর মধ্যে তার ‘কনট্যাক্ট’ বলে দেয় সাংবাদিকতার খোলসে তিনি একজন গুপ্তচর মাত্র।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতীয় সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাউদ্দিন সম্পর্কে মন্তব্য করেছে, তিনি ভারতের মেঘালয়ের শিলং এ থাকা অবস্থায় বলেছেন, র্যাব আমাকে মেরে ফেলবে…. আমাকে দেশে ফেরত পাঠাবেন না, ইত্যাদি, ইত্যাদি !
কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা একটু হিসাব করলেই সব কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, সুবীর ভৌমিক কত বড় মিথ্যাচার করেছেন। ৬১ দিন আয়নাঘরে গুম করে রাখার পর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের গোয়েন্দা বাহিনী সালাহউদ্দিন আহমদকে শিলং এর গল্ফ ক্লাবের কাছে ফেলে রেখে আসেন। সালাহউদ্দিন আহমদ নিজেই পুলিশের কাছে উপস্থিত হয়ে সব ঘটনা খুলে বলেন। সব কিছু জানার পরেও মেঘালয় রাজ্য পুলিশ তার বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে মামলা করে কারারুদ্ধ করেন।
কারাগার থেকে আইনী প্রক্রিয়ায় তিনি জামিন লাভ অতঃপর আনীত মামলার বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন। কিন্তু মেঘালয় সরকার নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত প্রাপ্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে থাকেন। পর্যায়ক্রমে সকল আপিল মোকাবেলা করেও তিনি দেশে ফিরতে পারেন নি। ভারতের কেন্দ্রীয় হাইকোর্ট পর্যন্ত তাঁকে আইনী লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছিল।
সর্বোচ্চ আদালতেও নির্দোষ প্রমাণিত হলেও ভারত সরকার হাসিনার কথানুযায়ী দেশে ফিরতে দেয়নি। ট্রাভেল পাশ নিয়ে ভারত ও তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার যুগপৎ এক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ফলতঃ সালাহউদ্দিন আহমদ দেশে ফিরতে পারেননি।
সুবীর ভৌমিকের অসত্য, অর্বাচীন বক্তব্যের জবাব দেয়ার কোন আবশ্যকতা অনুভব করিনা। যা সত্য তাই উপস্থাপন করলাম। সালাহউদ্দিন আহমদ যদি দেশে ফিরতে নাই চাইতেন তাহলে তিনি এত আইনী লড়াই লড়লেন কেন ? কেন একটার পর একটা আপিল করে তার যাত্রা রোধ করা হলো পর্যায়ক্রমে ?
মুখে যা আসে তাই বলে সত্যকে কখনো আড়াল করার কোন উপায় নেই। এই বাস্তবতার স্বাক্ষী আমি নিজেই। দেশে ফেরার প্রচন্ড ব্যাকুলতা নিয়ে শিলং এর সানরাইজ গেস্ট হাউজে সালাহউদ্দিন আহমদ এর দেশে ফেরার অপেক্ষার প্রহর গোনা চাক্ষুষ করেছি আমি নিজেই।
কিছু মানুষ সব সময় আলোচনায় থাকতে বা এর দ্বারা লাভবান হতে খুব পছন্দ করে। সুবীর ভৌমিক হলেন সেই রকম এক সাংবাদিক যিনি ধুতি খুলে মাথায় পাগড়ি বেঁধে উলঙ্গ যাত্রায়ও আপত্তি করেনা। তার সকল উদ্যেশ্য, যেকোন মূল্যে বাংলাদেশের ক্ষতি সাধন করা।
লেখকঃ লুৎফর রহমান একজন রাজনীতিবিদ ও লেখক। তিনি নিয়মিত লেখালেখির পাশাপাশি ইলেক্ট্রনিক নিউজ মিডিয়ার সম্পাদক ও প্রকাশক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র লুৎফর রহমান ৮০ এর দশকের স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতে চারটি রাজনৈতিক উপন্যাস লিখেছেন, যা দেশ বিদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় জীবনের খন্ডচিত্র এঁকে তিনি এখন ব্যাপক পরিচিত পাঠক মহলে। গঠনমূলক ও ইতিবাচক লেখনীতে তিনি এক নতুন মাত্রা সংযোজন করতে সক্ষম হয়েছেন।
ছবিঃ ১.সুবীর ভৌমিক ২. ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং এর সানরাইজ গেস্ট হাউজে দেশে ফেরার আকুতি ভরা এক আলাপচারিতায় সালাউদ্দিন আহমদ ভাই এবং লেখক।
কিউএনবি/বিপুল/১২.০৮.২০২৬/রাত ১১.৫০