বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন

চৌগাছায় পরীক্ষা ছাড়াই যত্রতত্র পশু জবাই, হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ।
  • Update Time : শুক্রবার, ৪ আগস্ট, ২০২৩
  • ২৫০ Time View

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় উপজেলা ও পৌর এলাকার হাট-বাজারগুলোতে গবাদি পশু জবাই এবং মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধ মানা হচ্ছে না। কসাইখানা থাকার পরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই যত্রতত্র নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগাক্রান্ত গরু, মহিষ, ছাগল জবাই করা হচ্ছে। কোনো কোনো সময় সড়কের উপর জবাই করা হচ্ছে গবাদিপশু। পরীক্ষা- নিরীক্ষা ছাড়াই গবাদিপশু জবাইয়ের ফলে নোংরা পরিবেশের কারণে জনস্বাস্থ্যর উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

অভিযোগ উঠেছে, সরকারি বিধিবিধানের তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মচারীকে হাত করে কসাই ও মাংস বিক্রেতারা প্রতিদিন এ অনিয়ম করে যাচ্ছেন। অথচ সরকারি বিধান আছে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে কোনো পশু জবাই করতে হলে সেটি জবাই করার আগে স¤পূর্ণ রোগমুক্ত কিনা এবং মাংস স্বাস্থ্যসম্মত কিনা তা একজন সরকারি পশু ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। পরীক্ষা করা পশু জবাই ও খাওয়ার উপযোগী বিবেচিত হলে তবেই সেটি আনুমোদিত কোনো কসাইখানায় নিয়ে জবাই করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়ম মোতাবেক মাংসের উপর সিল মেরে তা বাজারে বিক্রির অনুমতি প্রদান করবেন। কিন্তু চৌগাছা পৌরসভাসহ উপজেলার কোথাও এর কোনোটিই মানা হচ্ছে না। এছাড়া বাচ্চা, চাষাবাদযোগ্য বলদ ও দুধের গাভী জবাই না করার নির্দেশও মানা হচ্ছে না প্রতিনিয়ত। তবে অভিযোগ উঠেছে, এসব দেখার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা নিয়মিত মাংস বিক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন।

আর তাই এরা গবাদিপশু জবাই আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স¤পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করে থাকেন। সরকারি বিধি মোতাবেক যারা মাংস বিক্রি করবেন তাদেরও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জন থেকে স্বাস্থ্য স¤পর্কিত সনদপত্র গ্রহণ করতে হবে। ৪ আগষ্ট সরেজমিনে শুক্রবার ছিলো চৌগাছার সাপ্তাহিত হাটবার। এদিন পৌর শহরের মাছবাজার, চৌগাছা কালিতলা, মাছবাজার মোড়, চৌগাছা-কোটচাদপুর সড়কের কাঁচাবাজার মোড়, ব্রীজ ঘাট এলাকা, মাইক্রো স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন মাংসের দোকানে গিয়ে বিক্রেতাদের সঙ্গে স্বাস্থ্য সনদ স¤পর্কে কথা বলে জানা যায়, স্বাস্থ্য সনদ নেয়ার বিষয়টিও অনেকেরই অজানা।

কোনো মাংস বিক্রেতার এ সনদ নেই। গবাদিপশু জবাই এবং মাংস কাটার যাবতীয় সরঞ্জাম ব্যবহারের আগে জীবাণুমুক্ত করা, খোলা মাংস বিক্রি না করা এবং মাংসের দোকানে স্যানিটেশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা থাকলেও তা চোখে পড়েনি। চৌগাছা বাজারে গরুর মাংস কিনতে আসা কৃষক ইসদ্রিস আলী বলেন, গরু কখন জবাই করা হয়েছে তা আমার জানা নেই। এ গরুর কোন রোগ আছেকিনা তাও জানি না। বাড়ীতে মেহমান এসেছে তাই কিনতেই হবে। তিনি বলেন, উপজেলার বাজারগুলোতে গবাদি পশু জবাই এবং মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধ মানা হচ্ছে না।

কসাইখানা থাকার পরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই যত্রতত্র নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগাক্রান্ত গরু, মহিষ, ছাগল জবাই করা হচ্ছে। এছাড়া উপজেলার সলুয়া, আমজামতলা, হাকিমপুর, মশিউরনগর ও পুড়াপাড়াসহ হাটবাজারগুলোর কোনো মাংস দোকানে মানা হচ্ছে না এসব বিধি। বরং সকালে জবাই করা পশুর মাংস সারা দিন উমুক্ত স্থানে নোংরা পরিবেশে ঝুলিয়ে রেখে বিক্রি করা হয় রাত পর্যন্ত।

এ ব্যাপারে চৌগাছা উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আল-ইমরান বলেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া জবাই করা কোন অসুস্থ্য প্রাণীর মাংস খাওয়া মাবন দেহের জন্য মারাত্ম ঝুঁকি। এ মাংস খেলে মানুষের শরীর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এ ব্যাপারে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা বলেন, বিষয়টি আমি জানার পরে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে রং মেশানো গরুর মাংস জব্দ ও জরিমানাও করেছি। এ অভিযান পরিচালনা অব্যহত থাকবে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৪ অগাস্ট ২০২৩,/সন্ধ্যা ৬:৪৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

January 2025
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit