আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মাদকবাহী সন্দেহে এক নৌকায় আবারও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে কমপক্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড। তবে ঠিক কোথায় এ হামলা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একইসঙ্গে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে ঘটনাস্থলে মার্কিন কোস্টগার্ডকে তৎপর হওয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘প্রথম অভিযানে একটি নৌকায় থাকা তিন ‘নার্কো–টেররিস্ট’ নিহত হয়’। পরে অন্য দুই নৌকার লোকজন পানিতে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়। এরপরের হামলায় সেসব নৌকাও ডুবিয়ে দেয়া হয়। পরে জানানো হয়, দ্বিতীয় দফা হামলায় আরও দুইজন নিহত হয়।
সামরিক বাহিনী বলেছে, কোস্টগার্ডকে জানানো হয়েছে যাতে তারা ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ সিস্টেম’ সক্রিয় করে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরের একটি হামলার পর উল্টে যাওয়া নৌকায় ফের হামলা চালিয়ে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছিল। কিছু ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা ও আইন বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ওই হামলায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ও কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা বলছেন, হামলাটি আইনসঙ্গতই ছিল।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের খবরে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আটজন নৌকা ছেড়ে সাগরে ঝাঁপ দিয়েছিল এবং প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের খোঁজ চলছে। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, একটি সি-১৩০ উড়োজাহাজ উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে এবং আশপাশের নৌযানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে এ ধরনের হামলায় এর আগেও বেঁচে যাওয়া লোক পাওয়া গেছে। অক্টোবরে এমনই দুইজনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। ওই মাসের শেষে আরেকটি হামলার পর মেক্সিকোর পক্ষ থেকেও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়, তবে সেই ব্যক্তিকে আর পাওয়া যায়নি
এদিকে বুধবারের হামলাসহ এ পর্যন্ত নৌকায় মোট ৩৩টি হামলার খবর প্রকাশ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে অন্তত ১১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাদকদ্রব্যের প্রবাহ ঠেকাতে এটি ‘কঠোর ব্যবস্থা’ হিসেবে তুলে ধরেছে ট্রাম্প। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এখন মাদক কার্টেলের সঙ্গে এক ধরনের ‘সশস্ত্র সংঘাতে’ রয়েছে।
এই অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতিও বাড়িয়েছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর চাপ বাড়াতে ১৫ হাজারের বেশি সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ— মাদুরো ‘নার্কো–টেররিজমে’ জড়িত। তবে কারাকাস এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের সরকারকে সরিয়ে দেশের বিশাল তেলসম্পদ দখল করাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য।
কিউএনবি/মহন/ ০১ জানুয়ারি ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬