আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে থাকা কিউবা। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাপক হারে মানুষ দেশ ছাড়ার কারণে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে। ৬৭ বছরের কমিউনিস্ট সরকার এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
যুক্তরাষ্ট্র কিউবাকে তেল সরবরাহ বন্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার পর সংকট তীব্র হয়ে ওঠে। কিউবায় তেল পাঠালে সেসব দেশের ওপর ওয়াশিংটন শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়ার পর থেকেই হাভানায় তেলের সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। জ্বালানি না থাকায় দেশটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পানি সরবরাহ এবং খাদ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি।
জ্বালানি ঘাটতির প্রভাব পড়েছে পর্যটন এবং পরিবহনেও। জেট ফুয়েলের অভাবে কানাডা ও রাশিয়ার কয়েকটি এয়ারলাইন কিউবায় ফ্লাইট বন্ধ করেছে। এমনকি শুধু জরুরি ভ্রমণের পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্য। বন্ধ রাখা হয়েছে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয় ও অপ্রয়োজনীয় সরকারি দফতর। জনপরিবহন কমানো হয়েছে।
এদিকে, মাদুরোকে উৎখাতের পর ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন জানিয়েছে, পানামা-নিবন্ধিত ভেরোনিকা থ্রি নামের একটি ট্যাংকারকে ভারত মহাসাগরে জব্দ করা হয়েছে। জাহাজটি ট্রাম্পের অবরোধ অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল।
এর আগে আকুইলা টু নামের আরেকটি জাহাজসহ এখন পর্যন্ত অন্তত ৯টি জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি থেকে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় হয়েছে। আগামী মাসগুলোতে আরও পাঁচ বিলিয়ন ডলার আসতে পারে।
কিউএনবি/খোরশেদ/১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/রাত ১০:৪৪