মো. সাইদুল আনাম, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কাজী আরেফ আহমেদ ও শহীদ ইয়াকুব আলী সহ ৫ জাসদ নেতা হত্যার ২৭তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে সোমবার সকাল ১০টায় উপজেলার ফিলিপনগর পিএম কলেজ চত্বরে শহীদ ইয়াকুব আলীর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।
পিএম কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে স্মরন সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও কুষ্টিয়া-১ আসনের নবনির্বাচিত এমপি’র ছোটভাই মো. শামীম রেজা মোল্লা। শহীদ ইয়াকুব আলী ট্রাস্টের আয়োজনে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, বরেণ্য বাউল শিল্পী শফি মন্ডল, ফিলিপনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নুরুর রহমান, সিরাজুল ইসলাম এবং শহীদ ইয়াকুব আলীর বড় ছেলে ইউসুফ আলী রুশো। এরআগে শহীদ ইয়াকুব আলীর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এতে পিএম কলেজসহ বিভিন্ন সংগঠন অংশ নেয়।
পরে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। স্মরণ সভায় অতিথিবৃন্দ শহীদ ইয়াকুব আলীর কর্মময় জীবন, মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বীরত্বপূর্ণ অবদান এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে অসামান্য ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, শহীদ ইয়াকুব আলীর আদর্শ ও ত্যাগ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। শেষে শহীদ ইয়াকুব আলীসহ ৫জাসদ নেতার আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সুধীজন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী অংশ নেয় ।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের কালিদাসপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সন্ত্রাস বিরোধী এক জনসভায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জাসদ সভপাতি কাজী আরেফ আহমেদ, কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সভাপতি লোকমান হোসেন, সাধারন সম্পাদক এ্যাড. ইয়াকুব আলী, স্থানীয় জাসদ নেতা ইসরাইল হোসেন ও সমসের মন্ডল সন্ত্রাসীদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। হত্যাকান্ডের ঘটনায় সেসময় দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়। হত্যার ঘটনায় দেশের উচ্চ আদালত ১০ আসামীর মৃত্যুদন্ড ও ১২ আসামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। এরমধ্যে ৩ আসামির মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়েছে।
কিউএনবি/খোরশেদ/১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/রাত ১১:৪৩