জসীম উদ্দিন জয়নাল,পার্বত্যাঞ্চল প্রতিনিধি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি (২৯৮ নং আসন) থেকে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে প্রায় লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন পাহাড়ের গণমানুষের নেতা ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে পূর্নমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় খাগড়াছড়িবাসী। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত ফলাফলে বড় ব্যবধানে জয়ের পর থেকেই জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে এই জোরালো দাবি উঠেছে।
নির্বাচনী ফলাফলের তথ্য মতে,ওয়াদুদ ভূইয়া ধানের শীষ প্রতীকে প্রায় ১ লাখ ৫১ হাজার ৪০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ধর্মজ্যোতি চাকমা (ঘোড়া প্রতীক) পেয়েছেন প্রায় ৬৮ হাজার ৩১৫ ভোট। ব্যবধান ৮২ হাজার ৭২৫ ভোট। তিনি পাহাড়ি-বাঙালি কেন্দ্রগুলোতে বিপুল ভোট পেয়েছেন।
খাগড়াছড়িবাসী মনে করেন, আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া মন্ত্রী হলে পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া জনপদকে আধুনিক ও পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার যে স্বপ্ন তিনি দেখিয়েছেন, তা দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।পাহাড়ি ও বাঙালি—উভয় সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্য এই নেতাকে মন্ত্রিসভায় রাখলে পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তবে তাঁর নির্বাচিত হওয়ার পথটা সহজ ছিল না; ছিল পিচ্ছিল ও নানামুখী ষড়যন্ত্র। কিন্তু পাহাড়ি-বাঙালি ভোটাররা সে ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে ওয়াদুদ ভূইয়াকে নির্বাচিত করেছেন। সাধারণ নাগরিকদের প্রত্যাশা, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ওয়াদুদ ভূইয়াকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হোক।
ওয়াদুদ ভূইয়া পূর্বে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০১ সালে নির্বাচিত হলে তাঁকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড-এর চেয়ারম্যান করা হয়। তার দায়িত্বকালে পাহাড়ে পর্যটন শিল্প, শিক্ষা, অবকাঠামো, সড়ক, কৃষি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়ন হয়।
নাগরিক সমাজের দাবি, একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতৃত্ব হিসেবে ওয়াদুদ ভূইয়াকে পূর্ণ মন্ত্রিত্ব দেওয়া হলে পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বেগবান হবে।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য অনিমেষ চাকমা রিংকু বলেন, ওয়াদুদ ভূইয়া পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উন্নয়নের প্রতীক। বিগত ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকাকালে তিন পার্বত্য জেলায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তাঁকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হলে পাহাড়ে সুষম উন্নয়ন সম্ভব।
বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ম্রাচাথোয়াই মার্মা বলেন, অনেক প্রত্যাশা নিয়ে খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মানুষ ওয়াদুদ ভূইয়াকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত করেছেন। আশা করি, বিএনপির চেয়ারম্যান তাকে পূর্ণ মন্ত্রিত্বের আসনে বসিয়ে পাহাড়ি-বাঙালির প্রত্যাশা পূরণ করবেন।
সুজনের সহ-সভাপতি অরুণ কান্তি চাকমা বলেন, ওয়াদুদ ভূইয়াকে পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মানুষ বিপুল ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে হলে তাকে পূর্ণ মন্ত্রী করা প্রয়োজন; অন্যথায় তিনি জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন না।
বাংলাদেশ ত্রিপুরা সংসদের উপদেষ্টা ক্ষেত্র মোহন রোয়াজা বলেন, ওয়াদুদ ভূইয়া পাহাড়ে সম্প্রীতি ও উন্নয়নের প্রতীক। অতীতেও তিন পার্বত্য জেলায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তাকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হলে জনপ্রত্যাশা পূরণ হবে।
খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ ভট্টাচার্য বলেন, নানা ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে জনগণ ওয়াদুদ ভূইয়াকে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত করেছেন। ভোটারদের প্রত্যাশা ছিল একমাত্র ওয়াদুদ ভূইয়াই পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সুষম উন্নয়ন করতে পারবেন। তাই জনপ্রত্যাশা পূরণে তাকে পূর্ণ মন্ত্রী করা উচিত।
ওয়াদুদ ভূইয়া ১/১১ সরকারের আমল থেকে জেল-জুলুম, হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। কিন্তু তাকে দমাতে পারেনি। হাসিনামুক্ত পরিবেশে জনগণও তার দীর্ঘ ত্যাগের স্বীকৃতি দিয়েছে। আর ওয়াদুদ ভূইয়াও তার বিজয় জনগণকে উৎসর্গ করে বলেছেন, এ বিজয়ের সব কৃতিত্ব ও গৌরব পাহাড়ি-বাঙালি জনগণের ভালোবাসা ও পরিশ্রমের প্রতিফলন। পাহাড়বাসীর প্রত্যাশা, যোগ্য নেতৃত্বকে যোগ্য স্থানে দায়িত্ব দিলে পার্বত্য চট্টগ্রামের অবহেলিত অঞ্চলগুলোতে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
কিউএনবি/খোরশেদ/১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/রাত ৯:৩৩