মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন

চোখের পানি মুমিনের পাথেয়

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৯৫ Time View

ডেস্ক নিউজ : মানুষের অন্তরের অবস্থা প্রকাশ করার একটি মাধ্যম চোখের পানি। এটি শুধু আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং আল্লাহভীতি, অনুশোচনা, ভালোবাসা ও বিনয় প্রকাশেরও মাধ্যম। মুমিনের জীবনে চোখের পানি এক অমূল্য পাথেয়, যা তাকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়, গুনাহ মাফের কারণ হয় এবং আখিরাতের মুক্তির পথ প্রশস্ত করে।

চোখের পানি মুমিনের পাথেয়
কোরআন ও হাদিসের আলোকে মুমিনের চোখের পানি তার পরকালীন জীবনের অন্যতম পাথেয়। কোরআন ও হাদিসের আলোকে চোখের পানির গুরুত্ব তুলে ধরা হলো:
১. মুমিনের বৈশিষ্ট্য : মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তারা কাঁদতে কাঁদতে মুখের ওপর লুটিয়ে পড়ে এবং এতে তাদের বিনয় বৃদ্ধি পায়।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১০৯)। এই আয়াতে বোঝা যায়, প্রকৃত মুমিনের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়। এই কান্না কোনো লোক-দেখানো কান্না নয়; বরং এটি অন্তরের গভীর অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ।

২. ঈমানের বহিঃপ্রকাশ : মুমিনের চোখের পানি তার ঈমানেরই বহিঃপ্রকাশ। আল্লাহ বলেন, ‘রাসুলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা যখন তারা শ্রবণ করে, তখন তারা যে সত্য উপলব্ধি করে, তার জন্য তুমি তাদের চোখ অশ্রু বিগলিত দেখবে। তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি; সুতরাং তুমি আমাদেরকে সাক্ষ্যবাহকদের তালিকাভুক্ত করো।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৮৩) আয়াতে চোখের পানিকে ঈমানের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চোখের পানি মুমিনের ঈমানের জীবন্ত সাক্ষ্য।

৩. জাহান্নাম থেকে প্রতিবন্ধক : চোখের পানি বান্দাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘দুই চোখকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। একটি চোখ, যা আল্লাহর ভয়ে কাঁদে; আরেকটি চোখ, যা আল্লাহর পথে পাহারা দিতে গিয়ে রাত জাগে।’ (সুনানে তিরমিজি) জাহান্নাম থেকে মুক্তির এমন সুসংবাদ খুব কম আমলের ক্ষেত্রেই এসেছে।

৪. আরশের ছায়ালাভ : অন্য হাদিসে আল্লাহর ভয়ে কান্নাকারী ব্যক্তিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) কিয়ামতের দিন আরশের ছায়ালাভের সুসংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যেদিন আল্লাহর (আরশের) ছায়া ব্যতীত কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন আল্লাহ তাআলা সাত প্রকার মানুষকে সেই ছায়ায় আশ্রয় দেবেন।…যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাতে আল্লাহর ভয়ে তার চোখ থেকে অশ্রু বের হয়ে পড়ে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৪২৩)

কিয়ামতের ভয়াবহ দিনে আল্লাহর আরশের ছায়া লাভ করা যে কত বড় নিয়ামত, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ জন্য সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর জীবন ছিল চোখের পানিতে ভেজা। আবু বকর (রা.) কোরআন তিলাওয়াত করতে গিয়ে এত বেশি কাঁদতেন যে তার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে যেত। ওমর (রা.)-এর গালে কান্নার দাগ স্পষ্ট ছিল। আলী (রা.) রাতে নামাজে দাঁড়িয়ে এত কাঁদতেন যে দাড়ি ভিজে যেত। (হুলয়াতুল আউলিয়া)
 
হৃদয়ের কঠোরতা নিন্দনীয়
বিপরীতে হৃদয়ের কঠোরতা একটি ব্যাধি, যার আরোগ্য প্রয়োজন। পবিত্র কোরআনে এর নিন্দা করা হয়েছে। যেমন—আল্লাহ বলেন, ‘তারপর তোমাদের হৃদয় কঠিন হয়ে গেল, পাথরের মতো বা তার চেয়েও কঠিন। কেননা পাথরের মধ্যেও এমন কিছু আছে, যেখান থেকে নদী প্রবাহিত হয়।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ৭৪)

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষের কঠোর হৃদয়কে পাথরের চেয়েও নিকৃষ্ট বলে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ পাথর থেকেও পানি নির্গত হয়, কিন্তু কঠোর হৃদয় থেকে অনুশোচনা বা আল্লাহভীতি বের হয় না। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তাদের জন্য ধ্বংস, যাদের হৃদয় আল্লাহর স্মরণে কঠোর হয়ে গেছে।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ২২) রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্তরের কঠোরতাকে দুর্ভাগ্যের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘চারটি জিনিস মানুষকে দুর্ভাগা করে তোলে : কঠোর হৃদয়, চোখে অশ্রু না আসা, দীর্ঘ আশা এবং দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসা।’ (সুনানে তিরমিজি)
হাদিসে কঠোর হৃদয়কে সরাসরি দুর্ভাগ্যের কারণ বলা হয়েছে। যে হৃদয় কাঁদে না, সে হৃদয় আল্লাহর ভয় থেকেও বঞ্চিত।

জেনে রাখতে হবে, চোখের পানি কোনো দুর্বলতার পরিচয় নয়; বরং এটি মুমিনের শক্তি, পাথেয় ও অলংকার। যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কাঁদে, সে চোখ কিয়ামতের ভয়াবহতা থেকে নিরাপদ থাকে। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের অন্তর নরম করেন, চোখে অশ্রু দান করেন এবং সেই চোখের পানিকে আমাদের নাজাতের উসিলা বানান। আমিন।

কিউএনবি/অনিমা/১৪ জানুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৩:৪৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit