আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলোর একটি মাউন্ট মেরাপিতে। অগ্ন্যুৎপাতের ফলে বুধবার ভোরে আগ্নেয় ছাই পাহাড়ের চূড়া থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিটার (৫ হাজার ২৪৯ ফুট) উঁচুতে উঠে যায়।
মাউন্ট মারাপি ভলকানো পোস্ট (পিজিএ) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পশ্চিম সুমাত্রা প্রদেশে অবস্থিত মেরাপির এই অগ্ন্যুৎপাতটি ভোরের দিকে সংঘটিত হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আন্তারা নিউজ জানিয়েছে, পাদাংয়ে অবস্থিত পিজিএ কর্মকর্তার আহমাদ রিফান্দির বরাতে জানা গেছে, অগ্ন্যুৎপাতটি সিসমোগ্রামে সর্বোচ্চ ২৮ দশমিক ৬ মিলিমিটার অ্যামপ্লিটিউডে রেকর্ড করা হয় এবং এর স্থায়িত্ব ছিল প্রায় ৩১ সেকেন্ড। রিফান্দি জানান, প্রতিবেদন তৈরির সময়ও চলমান ছিল অগ্ন্যুৎপাত। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে মাউন্ট মারাপিকে সতর্কতা স্তর বা লেভেল–২ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগ্নেয়গিরির কেন্দ্রস্থল থেকে তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে জনসাধারণ, পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া ঠান্ডা লাভা প্রবাহের সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়েও সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে যেসব নদীর উৎস মেরাপির চূড়া থেকে উৎপন্ন হয়েছে, সেসব নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের জন্য এই ঝুঁকি বেশি বলে জানানো হয়েছে। প্রায় ২ হাজার ৮৯১ মিটার (প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফুট) উচ্চতার মাউন্ট মেরাপি সুমাত্রা দ্বীপে অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরেই আগ্নেয়গিরির ক্রেটার থেকে তিন কিলোমিটার এলাকায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে পাহাড়ে আরোহণে। ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। আর তাই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ তুলনামূলকভাবে বেশি দেশটিতে। বর্তমানে প্রায় ১৩০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে দেশটিতে, যার মধ্যে অন্যতম হলো মেরাপি। সূত্র: আনাদোলু, আন্তারা
কিউএনবি/অনিমা/১৪ জানুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৪:০২