বিনোদন ডেস্ক : বিনোদন জগতের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে নেটফ্লিক্সকে টেক্কা দিল প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স। দীর্ঘ টানাপোড়েন আর দর কষাকষির পর অবশেষে ১০০ বছরের পুরোনো ফিল্ম ও টেলিভিশন জায়ান্ট ‘ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি’ (ডব্লিউবিডি) ক্রয়ের দৌড়ে বিজয়ী হয়েছেন প্যারামাউন্ট প্রধান ডেভিড এলিসন।
গত বৃহস্পতিবার ওয়ার্নার ব্রাদার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, প্যারামাউন্টের দেওয়া প্রস্তাবটি নেটফ্লিক্সের চেয়ে অনেক বেশি ‘উন্নত এবং আকর্ষণীয়’। এর ফলে নেটফ্লিক্সের সিইও টেড সারানডোস এই বিশাল চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। নেটফ্লিক্স যেখানে কেবল স্টুডিও এবং স্ট্রিমিং ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ চেয়েছিল, সেখানে প্যারামাউন্ট পুরো কোম্পানিটিকেই কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বাজিমাত করেছে।
প্যারামাউন্টের কর্ণধার ডেভিড এলিসন ওয়ার্নার ব্রাদার্সের প্রতিটি শেয়ারের জন্য ৩১ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা নেটফ্লিক্সের প্রস্তাবিত ২৭.৭৫ ডলারের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
নেটফ্লিক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ব্যবসায়িক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চায় এবং অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে এই চুক্তি করতে আগ্রহী নয়। এই সিদ্ধান্তকে বিনিয়োগকারীরা ইতিবাচকভাবে দেখলেও, নেটফ্লিক্সের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই জয়ের ফলে প্যারামাউন্ট এখন হ্যারি পটার, ব্যাটম্যান এবং এইচবিও-র মতো বিশাল সব ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক হতে চলেছে। তবে এই জয়ের বিনিময়ে প্যারামাউন্টকে প্রায় ৭৮ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ঋণের বোঝা কাঁধে নিতে হবে, যা নিয়ে বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
প্যারামাউন্ট ও ওয়ার্নার ব্রাদার্সের এই একত্রীকরণ হলিউডের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের ওলটপালট ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সিএনএন, এইচবিও ম্যাক্স এবং প্যারামাউন্ট প্লাসের মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে চিন্তা শুরু হয়েছে।
তবে এই চুক্তির ফলে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হলিউডের সৃজনশীল কর্মীরা। ডেভিড এলিসনের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতা এবং তার রক্ষণশীল রাজনৈতিক ঝোঁক নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের একাংশ শঙ্কিত। সিবিএস নিউজে বারি ওয়েইসের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়ার পর অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে, ভবিষ্যতে সিএনএন বা বড় বাজেটের সিনেমাগুলোতে মতাদর্শগত সেন্সরশিপ নেমে আসতে পারে।
এই চুক্তির ফলে নেটফ্লিক্স সরাসরি মালিকানা না পেলেও লাভবান হয়েছে অন্য এক জায়গায়। চুক্তি ভঙ্গের মাশুল বা ‘ব্রেকআপ ফি’ হিসেবে প্যারামাউন্টকে ২.৮ বিলিয়ন ডলার দিতে হবে নেটফ্লিক্সকে।
বিশ্লেষকদের মতে, নেটফ্লিক্স হয়তো বড় একটি ঝুঁকি এড়িয়ে গেছে, কিন্তু ডেভিড এলিসন হলিউডের সিংহাসনে বসার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখিয়েছেন, তা আগামী দিনে বিনোদন জগতের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দেবে। এখন দেখার বিষয়, বিশাল ঋণের বোঝা সামলে এলিসন কীভাবে এই নতুন মিডিয়া সাম্রাজ্যকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যান।
সূত্র: ভ্যারাইটি
কিউএনবি/অনিমা/২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/রাত ১০:১৬