শহিদ আহমেদ খান সাবের,সিলেট প্রতিনিধি : রমজান মাসে বে-আইনি ভাবে শ্রমিক ছাঁটাই নির্যাতন বন্ধ, সকল বকেয়া মজুরি পরিশোধ, মজুরি বোর্ড গঠন করে বাচাঁর মতো নিম্নতম মূল মজুরি নির্ধারণ, বেকার শ্রমিকদের বেকার ভাতা, সর্বাত্মক রেশনিং ব্যবস্থা চালু, সবেতনে ছুটিসহ উৎসব ভাতা প্রদান, নিয়োগপত্র,পরিচয়পত্র,সার্ভিসবুক প্রদানের দাবিতে গত ১৫ মার্চ বিকেল ৪ টায় সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কমিটির উদ্যোগে মিছিল সমাবেশ অনুষ্টিত হয়।
মিছিলটি নগরীর ক্বীন ব্রীজের দক্ষিণ পাড়ে জমায়েত হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কদমতলী পয়েন্টে এসে সমাবেশ আনুষ্ঠিত হয়। দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কমিটির সভাপতি মনির হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আনছার আলীর পরিচালনায় সমাবেশে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহীন আলম, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলার সভাপতি সুরুজ আলী, যুগ্ম সম্পাদক রমজান আলী পটু, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো.ছাদেক মিয়া, সিলেট জেলা প্রেস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এ.কে আজাদ সরকার, সিলেট জেলা স’মিল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, আরো উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন শাহপরান থানা কমিটির নেতৃবিন্দ, আম্বরখানা আঞ্চলিক কমিটি, বন্দরবাজার ,জিন্দাবাজার, তালতলা, কাজিরবাজার, মেডিকেল, সোবহানিঘাট মেন্দিবাগ, জালালাবাদ আঞ্চলিক কমিটির নেতৃবিন্দ প্রমূখ;
সমাবেশে বক্তারা বলেন: প্রতিবারের মতো এবারও আমাদের সামনে আসছে পবিত্র রমজান মাস। আসছে রমজান মাসে হোটেল শ্রমিকদের সামনে অশনি সংকেত । এমনিতেই সারা বছর হোটেল শ্রমিকদের চাকরির অনিশ্চয়তা, সময়মত বেতন না পাওয়া, অতিরিক্ত কর্ম ঘন্টা, আইন অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ না করে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া স্বাস্থ্য সম্মত কর্মপরিবেশ, থাকা খাওয়ার সু-ব্যবস্থা না থাকা, কথায় কথায় বিনা অপরাদে চাকরিচ্যত করা, নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র না দিয়ে শ্রম অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন ইত্যাদি সমস্যা-সংকট নিয়ে জীবন-জীবিকা চালাতে হয়। তদুপরি রমজান মাস আসলে আরেক দফা ছাঁটাই নির্যাতনের খরগ নেমে আসে শ্রমিকদের কর্মজীবনে।
দেশের প্রায় ৩৫ লক্ষ শ্রমিক ও তার পরিবার পরিজন নিয়ে এই বিশাল জনগোষ্টি অর্ধাহারে-অনাহারে, বিনা চিকিৎসায়,বাসস্থান,শিক্ষা ইত্যাদি সমস্যায় জর্জরিত হয়ে মৃত্যুও সাথে পাঞ্জা লড়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত রয়েছে। এই দূরাবস্থা থেকে শ্রমিকদের রক্ষা করার জন্য মালিক ও সরকারের নিকট কাজ, খাদ্য, চিকিৎসার নিশ্চয়তা, বেকার শ্রমিকদের বেকার ভাতা, সর্বাত্নক রেশনিং ব্যবস্থা ইত্যদির দাবিতে শ্রম সচিব, শ্রম প্রতিমন্ত্রী এমনকি প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হলেও উপেক্ষিত থেকেছে হোটেল শ্রমিকদের দাবি। এ খাতের মালিকদের শুধুমাত্র মুনাফা কেন্দ্রীক চিন্তা-ভাবনা এবং শ্রমিকদের দায়িত্ব গ্রহণ না করার মানসিকতার কারনে এ সেক্টরে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনযাপন আজ অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে।
বক্তার এর তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং রমজান মাসে বে-আইনি ভাবে শ্রমিক ছাঁটাই নির্যাতন বন্ধ, সকল বকেয়া মজুরি পরিশোধ, মজুরি বোর্ড গঠন করে বাচাঁর মতো নিম্নতম মূল মজুরি নির্ধারণ, বেকার শ্রমিকদের বেকার ভাতা, সর্বাত্মক রেশনিং ব্যবস্থা চালু, সবেতনে ছুটিসহ উৎসব ভাতা প্রদান, নিয়োগপত্র,পরিচয়পত্র,সার্ভিসবুক প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের প্রতি আহবান জানান এবং ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সকল শ্রমিকদেরকে ঐক্যবদ্ধ দুর্রবার আন্দোলন গড়ে তুলার আহবান জানান।
কিউএনবি/আয়শা/১৬ মার্চ ২০২৩,/রাত ১:০৫