শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০৯:১৫ অপরাহ্ন

সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে অনুমতির বিধানে হাইকোর্টের বিস্ময়

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৪ আগস্ট, ২০২২
  • ১১৩ Time View

ডেস্ক নিউজ : ফৌজদারি মামলায় সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতির বিধান রেখে তিন বছর আগে কার্যাকর হওয়া সরকারি কর্মচারী আইন নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট! এমন বিধানের মানে হচ্ছে, বিশেষ একটি গোষ্ঠীকে দায়মুক্তি দেওয়া। শুধু তাই না, এমন বিধান দুর্নীতিতে আরো উৎসাহ যোগাবে বলেও মন্তব্য করেছেন আদলত।

ফৌজদারি মামলায় সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার বিধানের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল শুনানির সময় উচ্চ আদালত এ মন্তব্য আসে।  বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চে বুধবার এ শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য বৃহস্পতিবার দিন রাখেন।  

রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর সরকারি চাকরি আইনের গেজেট জারি হয়। এরপর ২০১৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর এক গেজেটে বলা হয় ১ অক্টোবর থেকে এ আইন কার্যকর হবে। আইনের ৪১ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সহিত সম্পর্কিত অভিযোগে দায়েরকৃত ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক অভিযোগপত্র গৃহীত হইবার পূর্বে, তাহাকে গ্রেপ্তার করিতে হইলে, সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ করিতে হইবে। ’

পরে আইনের এ ধরা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদনে করা হয়। পরিবেশবাদী ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)’র পক্ষে এ রিট আবেদনটি করা হয়। রিটের প্রাথমিক শুনানির পর ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর রুল জারি করেন হাইকোর্ট। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪১(১) ধারা কেন বেআইনি ও বাতিল করা হবে না এবং এ ধারা সংবিধানের ২৬(১) (২),২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে।

শুনানিতে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ২০১৩ সালে দুদক আইনের ৩২(ক) ধারায় এমন বিধান রাখা হয়েছি। পরে তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করলে আদালত ওই ধারাটি বাতিল করেছিলেন। যদিও সরকার এখনও তা আইন থেকে বাদ দেয়নি। তখন আদলত একে ‘দুঃখজনক’ বলেও মন্তব্য করেন। শুনানিতে দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খানও দুদক আইনের ৩২(ক) ধারা বাতিলের রায়টি আদালতের কাছে তুলে ধরেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায় আপিল বিভাগের একটি রায় তুলে ধরে বলেন, আইনটি সরকারি কর্মচারীদের সুরক্ষার জন্য করা হয়েছে। আইনটিতে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে কোনো বৈষম্য করেনি। সব সরকারি কর্মচারি বেলায় এ বিদান প্রযোজ্য।

তখন আদালত বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘আইন করার ক্ষেত্রে সরকার কিভাবে বিশেষ একটি গোষ্ঠীকে দায়মুক্তি দেয়! এতে তো দুর্নীতি আরো উৎসাহ যোগাবে। সরকারি কর্মচারী আইন-২০১৮ এর এ সংক্রান্ত ধারা ৪১(১) ও ৩ ধারা চ্যালেঞ্জ করা রিটে জারি করা আরেকটি রুল হাইকোর্টে বিচারাধীন। কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানের রিট আবেদনে গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বর এ রুল দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।  

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৪ অগাস্ট ২০২২, খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৭:১৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit