এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের তদন্ত সংস্থার একটি প্রতিনিধিদল যশোরের চৌগাছায় দুই শিবির নেতার ক্রসফায়ারের রোমহর্ষক সেই ঘটনার তদন্ত করলেন। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দিনব্যাপী এ প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল, থানা, হাসপাতাল ও সাধারণ মানুষের নিকট গিয়ে তদন্ত করলেন রোমহর্ষক সেই ঘটনার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের উপ-পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে এ তদন্তে আসেন। তদন্ত কমিটির নিকট শিবির নেতা ইসরাফিল হোসেন ও রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে (বুন্দলীতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে) দাড়িয়ে বলেন, পতিত সরকারের শাসন আমলে ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট তৎকালিন চৌগাছা থানার ওসি মশিউর রহমান, সেকেন্ড অফিসার এস আই আকিক, এস আই মখলেস, এস আই আহসান, এএস আই মাজেদ হোসেন ও তাদের সঙ্গীরা আমাদেরকে মহেশপুর-চৌগাছা সড়কের টেঙ্গুরপুর মোড় থেকে কোন কারণ ছাড়াই আটক করেন।
পরে রাতে আমাদেরকে উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের বুন্দলীতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে নিয়ে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে আমাদের দুইজনের পায়ে গুলি করেন। সেখান থেকে আমাদেরকে চৌগাছা সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরী বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক আমাদের যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখান থেকে ঢাকা পঙ্গুতে। সেখানে ইসরাফিল হোসেনের ১টি ও রুহুল আমিনের ১টি পা কেটে বাদ দেওয়া হয়। সেখান থেকে আমাদেরকে জেলে পাঠানো হয়। পরে এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের তদন্ত করতেই বৃহস্পতিবার দিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রতিনিধিদল তদন্তে আসেন।
দিনব্যাপী এ প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল, থানা হাসপাতাল ও সাধারণ মানুষের নিকট গিয়ে তদন্ত করেন। সরেজমিনে ঘটনাস্থল বুন্দলীতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় পৌঁছিয়ে রোমহর্ষক সেই ঘটনার বর্ণনা শোনের প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকার মানুষের মুখ থেকে। এ সময় এ প্রতিনিধি দল ৩৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের উপ-পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমরা দিনব্যাপী ঘটনাস্থল, হাসপাতাল, থানা ও সাধারণ মানুষের নিকট থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ করেছি। এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের রির্পোট সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছিয়ে দেওয়া হবে।
কিউএনবি/অনিমা/২৮ আগস্ট ২০২৫/রাত ৮:৩৪