আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানে আগ্রাসন বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ১৫ দফা আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নতুন দাবি জানিয়েছে তেহরান। আজ বুধবার (২৫ মার্চ) তারা বলেছে, বিশ্ব জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আগ্রাসনের ক্ষতিপূরণ, লেবাননে হামলা বন্ধসহ বেশ কয়েকটি দাবি মেনে নিতে হবে কোনো শর্ত ছাড়াই।
ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), যারা বর্তমানে তেহরানের শাসনব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার করছে, ঘোষণা করেছে যে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সব মার্কিন ঘাঁটি প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর হামলার ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত তারা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করবে না। মার্কিন বাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচল পথ—হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। এই পরিবর্তনের ফলে মিশর যেভাবে সুয়েজ খাল থেকে শুল্ক আদায় করে, ইরানও সেভাবে এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলো থেকে ফি সংগ্রহ করতে পারবে।
তেহরানের এই দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে ইরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং একটি নতুন আয়ের উৎস নিশ্চিত করা। এছাড়া ইরান এই যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তির পাশাপাশি লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছে। এই দাবিতে পরমাণু কর্মসূচির কথা উল্লেখ না করা হলেও বলা হয়েছে যে, ইরানকে তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বজায় রাখার অনুমতি দিতে হবে এবং এটি সীমিত করার বিষয়ে কোনো আলোচনা করা হবে না।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন মার্কিন কর্মকর্তা ইরানের এই দাবিগুলোকে ‘অবাস্তব’ বলে অভিহিত করেছেন। ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এ প্রকাশিত ট্রাম্পের প্রস্তাবগুলোর সঙ্গে ইরানের এই দাবিগুলোর সরাসরি সংঘাত রয়েছে। প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন ইরানি কর্মকর্তা ট্রাম্পের দাবিগুলোকে বাস্তববিবর্জিত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ইরান নিজস্ব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যুদ্ধ সমাপ্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আলোচনা না করায়, একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থতাকারীদের ওপর নির্ভর করছে।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট।
কিউএনবি/আয়শা/২৫ মার্চ ২০২৬,/রাত ১১:২০