নরসিংদী প্রতিনিধি : ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্যস্ততম সংযোগস্থল পাঁচদোনা মোড় এখন আর কেবল বাণিজ্যের কেন্দ্র নয়, বরং কোটি টাকার লেনদেন, রাজনৈতিক আধিপত্য আর অপরাধী সিন্ডিকেটের দখলযুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু। সাধারণ মানুষের আতঙ্ক ও দুর্ভোগের আড়ালে লুকিয়ে আছে অদৃশ্য ক্ষমতার লড়াই।একসময় যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের প্রাণকেন্দ্র ছিল নরসিংদীর সদর উপজেলার পাঁচদোনা মোড়। কিন্তু এখন এই মোড় পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক দখলদারিত্ব, অপরাধী সিন্ডিকেট ও প্রভাব বিস্তারের সংঘাতের অঙ্গনে। প্রতিদিন কোটি টাকার লেনদেন আর রাজনৈতিক স্বার্থের প্রতিযোগিতা এটিকে করেছে দখলযুদ্ধের গরম মঞ্চে।ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্যস্ততম এই সংযোগস্থলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একাধিক সিএনজি স্টেশন, বাস কাউন্টার ও ভ্রাম্যমাণ দোকান। প্রতিদিন এখানে কোটি টাকার লেনদেন হয়। অর্থাৎ এই মোড় নিয়ন্ত্রণ মানেই বিশাল অর্থনৈতিক সুবিধা ও রাজনৈতিক আধিপত্য। তাই দখল নেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে প্রভাবশালীরা।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও পাঁচদোনা মোড়কে ঘিরে সক্রিয় ছিল দলীয় প্রভাবশালী গ্রুপ। তাদের দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা হয়ে পড়েছিলেন জিম্মি। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পরও থেমে থাকেনি দখলের এই প্রতিযোগিতা। বরং নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লড়াই চলছে আগের মতোই।রাজনৈতিক দখলদারিত্বের পাশাপাশি এখানে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী অপরাধী সিন্ডিকেট। ফুটপাতে দোকান বসানো থেকে শুরু করে প্রতিটি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় হয়। রাজনৈতিক সমর্থন থাকলে ব্যবসা চালু থাকে, না থাকলে তাদের দোকান ভাঙচুর বা উচ্ছেদ করা হয়।এর পাশাপাশি পাঁচদোনা টু ডাঙ্গা চারলেন সড়কের একটি লেন পুরোপুরি দখল করেছে সিন্ডিকেটরা। সেখানে ভ্যানগাড়িতে বসানো হয়েছে সবজি ও ফলমূলের দোকান। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন সিন্ডিকেটের হাতে ওঠে মোটা অংকের চাঁদা। ফলে সড়কের একাংশ অবরুদ্ধ থাকায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, আর চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা।
এছাড়া চুরি, ছিনতাই ও ভিক্ষুক সিন্ডিকেটের সক্রিয়তা পাঁচদোনা মোড়কে আরও অনিরাপদ করে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অপরাধ রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণেই টিকে আছে।এই দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির কারণে প্রতিদিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সংঘর্ষের সময় দোকানপাট ভাঙচুর হয়, আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন তারা। ভ্রাম্যমাণ দোকানিরা প্রতিদিনই থাকেন নিরাপত্তাহীনতায়। সংঘর্ষ বা অবরোধে মহাসড়ক বন্ধ হয়ে গেলে যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তি সহ্য করেন। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ ভেঙে পড়েছে, আর সাধারণ মানুষের কাছে পাঁচদোনা মোড় হয়ে উঠেছে আতঙ্কের আরেক নাম।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া এই দখলযুদ্ধ ও অপরাধী কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে না। রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং অপরাধী সিন্ডিকেটের আধিপত্য দমন না করা গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।পাঁচদোনা মোড়ের নিয়ন্ত্রণ দখলের লড়াই কেবল অর্থের কারণে নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজনৈতিক প্রভাব, অপরাধী সিন্ডিকেট এবং সাধারণ মানুষের জীবনে এক অদৃশ্য আতঙ্ক। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এই মোড় পরিণত হতে পারে আরও বড় সংঘর্ষের মঞ্চে।
কিউএনবি/অনিমা/১৯ আগস্ট ২০২৫/রাত ৯:৩৬