শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০২:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
খালেদা জিয়া কখনো গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করেননি : মির্জা ফখরুল চৌগাছায় এক কৃষক ১০ দিন ধরে নিখোঁজ, সন্ধান পেতে থানায় জিডি “স্বামীর ন্যায্য অধিকার দাবিতে নেত্রকোনায় সংবাদ সম্মেলন” বাবরের না থাকা ভুগিয়েছে পাকিস্তানকে, মন্তব্য সাবেক তারকাদের ধানের শীষে ভোট দেয়ায় ‘মাশুল’ গুনছেন হতদরিদ্ররা! ফুলবাড়ীতে ভিজিএফ চাল বিতরণে বঞ্চনার শিকার বিএনপি সমর্থকরা॥ বীরমুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে উপজেলা প্রশাসনের শ্রদ্ধাঞ্জলী॥ চৌগাছায় মাদক সম্রাট ইসমাইলের ডেরাই সন্ধ্যা নামলেই বসে জুয়ার আসর, প্রতিকার চেয়ে এলাকাবাসীর থানায় অভিযোগ বাংলাদেশ, ভারতসহ ১৬ দেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্য তদন্ত শুরু যুক্তরাষ্ট্রের সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি গঠন, আছেন যারা সংসদে বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন, নেতৃত্বে যারা

পরিবারের কার ওপর কি দায়িত্ব রয়েছে?

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৬৩ Time View

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মানুষ, আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ এবং নারী থেকে। তারপর বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি এবং গোত্রে, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিত হতে পারো’ (সুরা আল হুজুরাত)। পৃথিবীর আদিম সেই পরিবার স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন স্বামী-স্ত্রী, মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি, এমনকি নিকটাত্মীয় পর্যন্ত পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের একে অপরের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য, স্নেহ-ভালোবাসা পারিবারিক সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা প্রত্যেকেই এক একজন দায়িত্বশীল এবং সবাই তার দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।’ প্রত্যেকে তার পরিবারে দায়িত্বশীল তাই সবাইকে শেষ বিচারের দিনে জবাবদিহি করতে হবে।

পরিবার ও স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব ও কর্তব্য: ইসলামি বিধি-বিধান অনুযায়ী স্ত্রীর ভরণ-পোষণ, পর্দার ব্যবস্থাসহ স্ত্রী এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের হালাল রিজিকের অন্বেষণ করা একজন পুরুষের দায়িত্ব। স্ত্রীকে নিজের আজ্ঞাবহ মনে না করে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে ভাবা এবং তার সঙ্গে উত্তম আচরণ করা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরাও তাদের পরিচ্ছদ’ (সুরা বাকারা)। এ ছাড়াও স্বামীর জন্য অবশ্য কর্তব্য হচ্ছে স্ত্রীর মোহরানা আদায় করা। সুরা নিসায় মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সন্তুষ্টচিত্তে স্ত্রীদের মোহরানা আদায় করো।’ সন্তানের হক আদায় করাও তার দায়িত্ব ও কর্তব্য। 

স্বামীর প্রতি স্ত্রীর দায়িত্ব ও কর্তব্য: পরিবারে স্বামী-স্ত্রী কারও অবদানই কম বা বেশি নয়। পারিবারিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে একজনের নেতৃত্ব প্রয়োজন। তাই স্ত্রী হিসেবে উচিত স্বামীর নেতৃত্ব মেনে চলা, তার সম্পদ সংরক্ষণ করা, নামাজ আদায় ও সতীত্বের হেফাজত করা এবং পরিবারের যাবতীয় বিষয় তত্ত্বাবধান করা। সর্বোপরি আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার করা।

পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য: পিতা-মাতা সন্তানের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ নেয়ামত। সন্তান লালন-পালনের কষ্টের কারণে ইসলামে পিতা-মাতাকে এত বেশি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহতায়ালা তাঁর ইবাদতের পরই পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য পালনকে আবশ্যক করে দিয়েছেন। পিতা-মাতার ভরণপোষণ এবং তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার জন্য স্বয়ং আল্লাহতায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি মানুষকে পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি’ (সুরা লোকমান)।

তারা বার্ধক্যে উপনীত হলে বিশেষভাবে সেবা-যত্ন করার ব্যাপারে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তাদের একজন অথবা উভয়ই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের উফ বলো না এবং তাদের ধমক দিও না’ (সুরা বনি ইসরাইল)। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, ‘তার নাক ধূলোয় ধূসরিত হোক যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা উভয়কে বা তাদের একজনকে পেল অথচ  তাদের সেবা-যত্ন করার বিনিময়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না।’ পিতা-মাতার জন্য সন্তান-সন্তানাদি কীভাবে দোয়া করবেন, তাও আল্লাহ শিক্ষা দিয়েছেন সুরা বনি ইসরাইলের এক আয়াতে। সন্তানরা বলবে, ‘হে আমার প্রতিপালক, তাদের ওপর রহম করো যেমন শিশুকালে তারা আমাকে লালন-পালন করেছিল।’

সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য: পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের যেমন কিছু দায়িত্ব, কর্তব্য রয়েছে- তেমনি সন্তানের প্রতিও পিতা-মাতার দায়িত্ব রয়েছে। সন্তানদের ভরণপোষণ ও দ্বীনি শিক্ষা দেওয়া এর মধ্যে অন্যতম। নবি (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের সন্তানদের বয়স যখন সাত বছর হয় তখন তাদের নামাজের আদেশ করো, আর দশ বছরে নামাজের তাগিদ দেবে এবং তাদের বিছানা আলাদা করে দেবে।’ পিতা হিসেবে সন্তানকে লোকমান (আ.) কি উপদেশ দিয়েছিলেন তা পবিত্র কোরআন এসেছে। তিনি বলেছিলেন, ‘হে বৎস, নামাজ কায়েম করো, সৎকাজের আদেশ দাও মন্দ কাজ নিষেধ করো এবং বিপদে সবর করো নিশ্চয়ই এটি দৃঢ়তার কাজ’ (সুরা লোকমান, আয়াত, ১৭) 

আত্মীয়স্বজনের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য: রক্ত সম্পর্কীয় সবচেয়ে কাছের মানুষ ভাই-বোন। পারিবারিক ও সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একে অপরকে সম্মান ও স্নেহ করা, অন্যায়, অবিচার না করে পারস্পরিক হক আদায় করা। আল্লাহতায়ালা সুরা বনি ইসরাইলে বলেন, ‘তুমি আত্মীয়স্বজনদের তাদের প্রাপ্য প্রদান কর।’ কোনো অবস্থাতেই কেউ কাউকে পরিত্যাগ করা উচিত নয়। অন্য সুরায় আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যে সম্পদ ব্যয় কর তা পিতা-মাতা ও আত্মীয়দের জন্য করো।’

আয়শা/৯ আগস্ট ২০২৫/রাত ১০:২২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit