মোঃ মনিরুল ইসলাম মনি,শার্শা সংবাদদাতা: যশোরের শার্শায় ফেনসিডিল ছিনতাইকারীদের হাতে এক মাদক ব্যবসায়ী খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩০ মার্চ রোববার শার্শার ইছাপুর ইটের ভাটা সংলগ্ন রাস্তার উপরে। খুনের শিকার মাদক ব্যবসায়ী জামাল হোসেন (২৫) কলারোয়া উপজেলার কাদপুর গ্রামের আইয়ুব হোসেনের ছেলে। এ ঘটনার ৬ দিন পর নিহত জামালের পিতা কলারোয়া থানার কাদপুর গ্রামের মোঃ সামছের মোড়লের ছেলে মোঃ আইয়ুব আলী বাদী হয়ে শার্শা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। যার মামলা নং ০৪, তাং ০৪/০৪/২০২৫। ক্লু-লেস এ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামী গ্রেফতার নিয়ে ৪ এপ্রিল শুক্রুবার সকালে শার্শা থানা পুলিশ এক সাংবাদিক কনফারেন্স করেন। কনফারেন্সে ক্লু-লেস এ হত্যা কান্ডের বিবরন ও আসামী গ্রেফতারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন নাভারন সার্কেল “ক” এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নিশাত আল নাহিয়ান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শার্শা থানা অফিসার ইনচার্জকে এম রবিউল ইসলাম।
কনফারেন্সে পুলিশ জানায় , গত ৩০ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটের সময় ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পান শার্শার গোগার ইছাপুর ইটের ভাটা সংলগ্ন রাস্তার উপরে এক যুবকের মৃত দেহ ও একটি এ্যপাচি ফোর ভি মোটরসাইকেল পড়ে আছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে এক যুবকের মৃতদেহ ও একটি কালো রংয়ের এ্যপাচি ফোর ভি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। এ সময় উদ্ধার করা মৃত যুবকের নাম ঠিকানা জেনে জানায়ায় সে কলারোয়া থানার কাদপুল গ্রামের মোঃ আইয়ুব হোসেনের ছেলে। সে পেশায় একজন মাদক ব্যবসায়ী। এ সময় পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য লাশ যশোর ২৫০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন বলে জানান। পুলিশ জানায় তাৎক্ষনিক ভাবে ঘটনাটি সড়ক দূর্ঘটনা নাকি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা সে বিষয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শার্শা থানা পুলিশ জানায়, যশোর জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গোপন ও প্রকাশ্যে তদন্তকালে শার্শার উত্তর বারোপোতা গ্রামের মৃত তবিবর রহমানের ছেলে মোঃ আমানউল্লাহ (২৫) ও কলারোয়া উপজেলার কাদপুর গ্রামের মোঃ জাহিদ (২৮) কে আটক করে।
পুলিশ জানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা জানান, পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ফেনসিডিল ছিনতাই ও মাদক ব্যবসায়ী জামাল হোসেন কে হত্যা করার জন্য বেনাপোল পোর্ট থানার শিবনাথপুর উত্তর বারোপোতা গ্রামের জাহিদুল (৩৫), মোঃ আলাউদ্দিন (২৫), মোঃ হাফিজুর (৪০), মোঃ আমানতউল্লাহ (২৫), মোঃ বিল্লাল হোসেন (৩৩) ও মোঃ জুম্মান হোসেন (২৪) ঐ দিন রাত ৯টা ৫০ মিনিটের সময় কাঠের চলা, রামদা ও চাকু নিয়ে রাস্তায় অবস্থান নেয়। এর কিছু সময় পরে আসামীরা জামাল এর মোটরসাইকেল গতিরোধ করে। এরপর জামাল হোসেন মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তায় পড়ে গেলে আসামীরা তাকে পিটিয়ে ও গলায় পা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে বলে জানান আটককৃত দুইজন আসামী আমানউল্লাহ ও জাহিদ। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জকে এম রবিউল ইসলাম জানান, ক্লু-লেস এ হত্যার ঘটনাটি উদঘাটনের জন্য তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গোপন ও প্রকাশ্যে তদন্তকালে শার্শার উত্তর বারোপোতা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোঃ আমান উল্লাহ ও কলারোয়া উপজেলার কাদপুর গ্রামের মোঃ জাহিদ কে আটক করে হত্যা ঘটনার মুল রহশ্য জানাযায়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাভারন সার্কেল “ক” এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নিশাত আল নাহিয়ান জানান ফেনসিডিল ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসায়ী জামাল হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান পলিশ ৬ জন আসামীকে সন্ধসঢ়;ক্ত করে মামলা দায়ের করেছে। এখন পর্যন্ত দুই জন আসামীকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামীদের আটকের জন্য অভিযান অব্য্ধসঢ়;হত রয়েছে।
কিউএনবি/অনিমা/০৪ এপ্রিল ২০২৫,/বিকাল ৫:৫৯