রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০৩:৪০ অপরাহ্ন

যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ খুলতে রাজি ইরান: নিউইয়র্ক টাইমস

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
  • ২৩ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  : ইরান যুদ্ধ বন্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী খুলতে রাজি হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছানোর ঘোষণার পর এবার তেহরানের পক্ষ থেকেও এই ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করতে এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়ার লক্ষ্যে ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছে।

স্পর্শকাতর এই কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউইয়র্ক টাইমসকে তারা এই তথ্য জানিয়েছেন।

যদিও ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের বক্তব্যের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দেওয়া হয়নি, তবে ২৪ মে ভোরে দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ইরান একটি মর্যাদাপূর্ণ কূটনীতির মাধ্যমে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও অধিকার অক্ষুণ্ণ রেখে একটি শক্ত অবস্থান থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত মাসের শুরুতে কার্যকর হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর ইরানের কর্মকর্তাদের এই মন্তব্যকে দুই দেশের মধ্যকার চলমান সংকট নিরসনে এবং একটি স্থায়ী চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম শক্তিশালী ও ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সমঝোতার খসড়া শর্ত অনুযায়ী, ইরান সরকার বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেকোনও বাণিজ্যিক জাহাজকে কোনও প্রকার শুল্ক বা ফি ছাড়াই চলাচলের অনুমতি দেবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর জারি করা তাদের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করে নেবে। চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করার শর্তও যুক্ত রয়েছে, যেখানে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সাথে ইসরায়েলের তুমুল সংঘাত চলছিল।

গত এক সপ্তাহ ধরে যেখানে মার্কিন প্রশাসন ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর হুমকি দিচ্ছিল, সেখানে তেহরান দ্বিমুখী কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছিল। একদিকে তারা পুরোদমে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিল। ২৩ মে’র পরিস্থিতির পর স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, যুদ্ধের চেয়ে কূটনৈতিক পথটিই শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে চলেছে। তবে এই সম্ভাব্য চুক্তিটি কেবল একটি যুদ্ধবিরতি ও জলপথ খুলে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে, নাকি এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনীতিতে কোনও স্থায়ী শান্তি আসবে, তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা চলছে। সূত্র: নিউইয়র্স টাইমস

কিউএনবি/অনিমা/২৪.০৫.২০২৬/দুপুর ২:৪৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit