এখন তুমি নিজ গোত্রের নিকট এক বড় ধরনের ব্যাপার নিয়ে এসেছ, যার ফলে গোত্রভুক্ত বিভিন্ন লোকজনের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়ে গেছে। ওদের বিবেক-বুদ্ধিকে নির্বুদ্ধিতার সম্মুখীন করে ফেলেছ। তাদের উপাস্য প্রতিমাদের এবং তাদের ধর্মের দোষত্রুটি প্রকাশ করে পূর্বপুরুষদের ‘কাফের’ সাব্যস্ত করছ।
এসব নানা সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে আমি তোমার নিকট কয়েকটি কথা পেশ করছি। তার প্রতি মনোযোগী হও। এমনটি হয়তো-বা হতেও পারে যে, কোনো কথা তোমার ভালো লাগবে এবং তুমি তা গ্রহণ করবে।
রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আবুল ওয়ালিদ, বলো। আমি তোমার কথায় মনোযোগী হব।’ আবুল ওয়ালিদ বলল, ‘ভাতিজা! এ ব্যাপারে তুমি যা নিয়ে আগমন করেছ আর মানুষকে যে সব কথা বলে বেড়াচ্ছ তার উদ্দেশ্য যদি এটা হয় যে, এর মাধ্যমে তুমি কিছু ধন-সম্পদ অর্জন করতে চাও, তাহলে আমরা তোমাকে এত বেশি ধন-সম্পদ একত্রিত করে দেব, তুমি আমাদের সবচাইতে অধিক ধন-সম্পদের মালিক হয়ে যাবে।
কিংবা যদি তুমি এটা চাও যে, মান-মর্যাদা, প্রভাব-প্রতিপত্তি তোমার কাম্য, তাহলে আমাদের নেতৃত্ব তোমার হাতে সমর্পণ করে দেব এবং তোমাকে ছাড়া কোনো সমস্যার সমাধান কিংবা মীমাংসা আমরা করব না, কিংবা যদি এমনও হয় যে, তুমি রাজা-বাদশাহ হতে চাও, তাহলে আমরা তোমাকে আমাদের সম্রাটের পদে অধিষ্ঠিত করে দিচ্ছি।
তা ছাড়া তোমার নিকট যে আগমন করে সে যদি জিন কিংবা ভূত-প্রেত হয় যাকে তুমি দেখছ অথচ নিজে নিজে তার কুপ্রভাব প্রতিহত করতে পারছ না, তাহলে আমরা তোমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি এবং তোমার পূর্ণ সুস্থতা লাভ না হওয়া পর্যন্ত যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা প্রয়োজন আমরাই তা করতে প্রস্তুত আছি, কেননা কখনো কখনো এমনও হয় যে, জিন-ভূতেরা মানুষের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে ফেলে এবং এজন্য চিকিৎসার প্রয়োজনও হয়ে দাঁড়ায়।’
উতবা একনাগাড়ে এসব কথা বলতে থাকল এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গভীর মনোযোগের সঙ্গে তা শুনতে থাকলেন। যখন সে তার কথা বলা শেষ করল তখন নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আবুল ওয়ালিদ! তোমার বলা কি শেষ হয়েছে?’ সে বলল, ‘হ্যাঁ।’