শিমুল দেব, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) : ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় আগামী ২১ মে দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›িদ্ধতা করছেন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট পাঁচ প্রার্থী। এরই মধ্যে ভোটের মাঠে সক্রিয় সব প্রার্থী। তাদের মাঝে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। তবে একই দলের পদধারী একাধিক নেতা প্রার্থী হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে নানান বিভক্তি তৈরি হয়েছে। ফলে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের গলার কাঁটা এখন আওয়ামী লীগ। দলের তৃনমূল কর্মী-সমর্থকরা কাকে রেখে কাকে ভোট দেবেন সে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। আবার কেউ কেউ প্রকাশ করছেন ভিন্নমত। উলিপুর উপজেলা পরিষদ ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত।উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতারা জানান, এবার নির্বাচনের মাঠে কর্মীদের মূল্যায়ন হবে, নেতাদেরও হবে জনপ্রিয়তা যাচাই। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া আওয়ামী লীগ নেতারা হলেন-উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আহসান হাবীব রানা, সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন মন্টু (বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স.ম আল মামুন সবুজ, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য সাজাদুর রহমান তালুকদার সাজু, আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম কফিল উদ্দিন। এদের মধ্যে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন মন্টু দলের দায়িত্বে আছেন দীর্ঘদিন থেকে। এবারের নির্বাচনে তিনি ২য় বারের মত সক্রিয়ভাবে প্রার্থী হলেও দলের একটি অংশ সমর্থন দিচ্ছেন দলের সভাপতি আহসান হাবীব রানাকে। উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে অনেকটা ঢাকঢোল পিটিয়ে দলের একটি অংশকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি।সাধারণ জনগণের মতে, ভোটের মাঠে এগিয়ে আছেন জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও সাবেক এমপি পুত্র সাজাদুর রহমান তালুকদার সাজু এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স.ম আল মামুন সবুজ। এ দুই প্রার্থীর বিষয়ে সাধারণ ভোটারদের মতামত হচ্ছে-আ.লীগের হেভিওয়েট দুই প্রার্থীর কোন্দলের ফলে দলীয় সমর্থকদের ভোট দ্বিখন্ডিত হবে। এ সুযোগে সাধারণ মানুষের ভোটকে পুঁজি করে জয়ের দিকে এগিয়ে যেতে পারেন তরুন এই দুই প্রার্থী। এছাড়া উপজেলা জুড়ে তাদের ক্লিন ইমেজ রয়েছে। এছাড়া হুট করেই ভোটের মাঠে নেমে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম কফিল উদ্দিন। তারও নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে।আ.লীগের স্থানীয় নেতারা বলছেন, দলের নেতাদের মধ্যে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় তাদের অনেককে জটিল পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। এতে নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে বিভক্তি। দলীয় প্রার্থীরা যার যার কর্মী-সমর্থক নিয়ে আলাদা আলাদা প্রচারনা-গণসংযোগ করছেন। তবে সাধারণ নেতাকর্মীরা বলছেন, তারা সব প্রার্থীকে বিচার-বিশ্লেষন করে যাকে এলাকার উন্নয়নের জন্য যোগ্য মনে হবে তাকেই ভোট দিবেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, দলের সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন মন্টুকে ঠেকাতেই সভাপতি আহসান হাবীব রানাকে জাঁকজমকভাবে নির্বাচনের মাঠে নামিয়েছেন একটি অংশ। এছাড়া কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে গোলাম হোসেন মন্টুর মতবিরোধ রয়েছে। এসব কারণেই উপজেলা নির্বাচন ইস্যুতে আ.লীগের গলার কাঁটা আ.লীগ। এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আহসান হাবীব রানা জানান, নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে যাদের জনপ্রিয়তা রয়েছে তারাই প্রার্থী হয়েছেন। নেতা-কর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়লেও দলের বড় কোন ক্ষতি হবে না।
কিউএনবি/অনিমা /০১ মে ২০২৪,/বিকাল ৩:১০