রায়পুর পৌর শহরের ধানহাটা-সংলগ্ন এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে হত্যা করা হয় সিফাতের মা শাহিনুর বেগম (৪০) এবং তিন বোন সাইমা আক্তার (২১), ইকরা বেগম (১৭) ও সিপা আক্তারকে (১০)। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় অন্তর মজুমদার নামে এক যুবককে আটক করে পিটুনি দেন স্থানীয়রা। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, ২০১৯ সালে ১২ বছর বয়সে বাবা কামাল হোসেনকে হারিয়েছেন। বাবাকে হারানোর পর স্থানীয় লোকজন এবং আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগিতায় চলতো সংসার এবং ভাইবোনদের লেখাপড়া। লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনিও সংসারের হাল ধরেন। রায়পুর শহরের একটি রড-সিমেন্টের দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ নেন। কোনোভাবে চলতো তাদের সংসার। তবে সবাইকে হারিয়ে একা হয়ে গেলেন সিফাত। চার লাশের ভার এখন তার কাঁধে।
ঘটনাস্থলে থাকা সিফাতের নানা, তার দাদা দাদন মিয়া ও মামাসহ কয়েকজন স্বজনের সঙ্গে কথা হয়। তারা বলেন, নিহতদের মরদেহ কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। তারা আরও জানান, কারও সঙ্গে শত্রুতা ছিল এমনটি আমরা কখনো শুনিনি। ঘটনাটি ডাকাতির উদ্দেশ্যেই ঘটানো হয়েছে। পুরো বাড়ির ভাড়া বাসার মালিক শাহীনুরকে দিয়ে সংগ্রহ করতেন। ঘরে কিছু স্বর্ণালংকারও ছিল। এখন সন্দেহভাজনকে মেরে ফেলায় রহস্য তো বের হচ্ছে না।
স্থানীয়রা জানায়, সিফাত ও তার তিন বোন অত্যন্ত মেধাবী। তাই তার বাবার মৃত্যুর পরে অভাব অনটনের মাঝেও চার ভাই বোন লেখাপড়া অব্যাহত রেখেছিল।
সিফাতের বড় বোন সায়মা আক্তার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ২০২২-২০২৩ সেশনের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ছিল। জানা গেছে, ২০২৪ সালে ওই কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
নিহত সায়মার এক সময়ে ক্লাসমেট প্রমি আক্তার বলেন, সাইমা মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। সে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে বের হয়েছে। এর মধ্যে সে মেডিক্যাল ভর্তির জন্যও চেষ্টা করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে। তবে ভর্তি হয়েছে কি না জানি না।
সিফাতের মেজো বোন নাফিসা আক্তার ইকরা রায়পুর মার্চেন্ট একাডেমি থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। ফল প্রত্যাশী ছিল সে। ছোট বোন শিফা আক্তার রায়পুর মার্চেন্ট একাডেমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল।
সিফাত রায়পুর সরকারি কলেজে এইচএসসিতে অধ্যয়নরত। পাশাপাশি তিনি রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের রড-সিমেন্টের দোকানে চাকরি করেন।
এদিকে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. অরুপ পাল বলেন, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে, তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধর্ষণ হয়েছে কি না জানাতে চাইলে এ চিকিৎসক বলেন, প্রাথমিকভাবে বুঝা যাচ্ছে না। তবে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
এদিকে রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়া বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে, মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনাস্থলে আলামত দেখে এমন কিছু মনে হচ্ছে না যে, একজন ব্যক্তি ডাকাতি করতে গেছে।