মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন

বাড়ি ফেরার পথে অপহরণ, ৩ দিন পর মুক্তিপণে ফেরত

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬
  • ৭৫ Time View

তোবারক হোসেন খোকন দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : ছেলে আরিফ বাড়ি ফিরে না আসায়, চিন্তার শেষ নাই বাবা মার। হঠাৎ মুঠোফোনে অপরিচিত নাম্বার থেকে বলে, যদি আমাদের চাওয়া টাকা না দেন, যদি বলেন পারবেন না, তাহলে আপনাদের সাথে আর যোগাযোগ করবনা। আপনার ছেলেকে অন্য জায়গায় বেশি টাকায় বিক্রি করে দেব। আমাদের এই কাজে কোন দয়া-মায়া বলে কিছু নেই। মোবাইল ফোনে এভাবেই মুক্তিপণ দাবি করছিল অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা।

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের সিংহা-চারিগাঁওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হেলিমের ছোট ছেলে আরিফ মিয়া (১০)। গত শুক্রবার নিজবাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামের রাউজান এলাকার বাইতুননূর দারুসুন্নাহ মাদ্রাসা থেকে বের হয়। কিন্তু সেদিন থেকেই সে নিখোঁজ হয়ে যায় আরিফ। তার সঙ্গে থাকা অন্য সঙ্গীরা বাড়ি ফিরলেও আরিফ বাড়ি ফেরেনি। সন্তানকে না পেয়ে হতাশায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। অবশেষে এ ঘটনায় রাউজান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

অপহরণের তিনদিন পর গতকাল সোমবার (২৩ জুন) রাতে অবশেষে নিজ পরিবারে ফিরে আসে কিশোর আরিফ। সে জানায়, মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর দুই ব্যক্তি তাকে একটি সিএনজিতে করে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে একটি বাড়িতে রাখা হয় সেখানেই তাকে খাওয়া দাওয়া সহ সব দেয়। পরে মুক্তিপনের জন্য পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলিয়েও দেয়। সব কথা তাদের শেখানো। পরে টাকা পাঠানোর পর বাড়ি আসতে তাকে রফরফ বাসে উঠিয়ে দেয় ওই চক্রের সদস্যরা।

আরিফের বাবা আব্দুল হেলিম মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে সাংবাদিকদের জানান, গত শুক্রবার নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের অপর একজন ব্যাক্তি জানায় ছেলে তাদের কাছে আছে। ছেলেকে ফিরে পেতে প্রথমে ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দরিদ্র বাবার শূন্যে পকেটেও দরকষাকষির এক পর্যায়ে ৩০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। পরে ঋণ করে ২৫ হাজার টাকা অপহরণকারীদের দেওয়া একটি বিকাশ নম্বরে পাঠান তিনি। ৫ হাজার টাকা কম কেন এ নিয়েও আপত্তি করে।

আব্দুল হেলিম আরও বলেন, আমি গরিব মানুষ বলছি তাও টাকা ছাড়া আমার ছেলেকে ছাড়লোনা। ছেলেকে বাসে তুলে দিছিলো বলছে কিন্তু বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুরো গ্রামে থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মানিক মিয়া নামের একজন বলেন, বড় ছেলে অটোরিকশা চালিয়ে যা ইনকাম করেন তা দিয়ে কোনো রকমে চলত পরিবারটির সংসার। দরিদ্র এই পরিবারের কাছে ২৫ হাজার টাকা মানে যেন ২৫ লাখ টাকার সমান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, চট্টগ্রামের থানায় জিডি করা হয়েছিল কিন্তু যে সময় হাতেছিল তারা গুরুত্ব দিলে অপহরণকারী চক্রকে ধরা সম্ভব ছিল। তবে এখন অপহরণে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এই চক্রকে দ্রুত গ্রেপ্তারকরা না হলে ভবিষ্যতে আরও অসহায় পরিবার এমন ঘটনার শিকার হতে পারে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৪ জুন ২০২৬,/রাত ১১:৩০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit